পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কি শুনলাম একশো টাকা ? তুমি যে বলেছিলে, পঞ্চাশ টাকা ” “বাড়ীওয়ালাবাবর মেয়ে সহাসের সঙ্গে আমার ভাব হয়েছে কিনা। তুমি যখন দপারবেলা কাজে বেরিয়ে যাও, তখন আসে। আমায় লড়ো খেলতে শিখিয়েছে, আমরা লডো খেলি। আজ আমাকে সহাস জিজ্ঞেস করলে, তোমার স্বামীর মাইনে কত, ভাই ? আমি বললাম, দেড়শো টাকা। সে বললে, “কক্ষণো নয়। তোমার স্বামীর মাইনে নিশ্চয়ই বেশী। যার দেড়শো টাকা মাইনে, সে কি কখনও মাসে একশো টাকা দিয়ে বাড়ী ভাড়া নিতে পারে?” বসন্ত হাসিয়া হাসিয়া বলিল, “ওঃ-হ্যাঁ হ্যাঁ, বুঝেছি। আমি এই বাড়ী যখন ' ভাড়া নিই, তখন বাড়ীওয়ালা আমায় বলেছিল, ‘অনেক খরচপত্র করে বাড়ী তৈরি করেছি, এ বাড়ীর একশো টাকা ভাড়াই আমি ধাৰ্য্য করে রেখেছিলাম, কিন্তু একশো টাকা কেউ দিতে চায় না। খালি পড়ে থাকে, তার চেয়ে আপনাকে পঞ্চাশ টাকায় দিচ্ছি—কিন্তু কাউকে বলবেন না, কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে ত বলবেন, একশো টাকা ভাড়া, কেননা আপনি যদি অন্য বাড়ীতে উঠে যান, তা হলে কেউ আর তখন ৫o, টাকার বেশী দিতে চাইবে না—মেয়েদের পেটে ত কথা থাকে না, তাই বোধ হয়, বাড়ীতে বলেছেন, একশো টাকা ভাড়া পান।” নিশমলা বলিল, “ওঃ—এতক্ষণে বুঝতে পারলাম।” বসন্ত বলিল, “ফের যদি এ কথা ওঠে ত তুমি বোলো যে হ্যাঁ, একশো টাকাই ভাড়া ঠিক হয়েছে বটে, তবে ঔকে ত সব টাকা পকেট থেকে দিতে হয় না, অদ্ধেক বাড়ীভাড়া আপিস থেকে পান।” “আচ্ছা, তাই বলবো।” প্রাতে বসন্ত যখন আসে, তখন বেলা প্রায় ৯টা। আসিয়া সনানাহার করে, তার পর একট বিশ্রাম করিয়া আবার বাহির হইয়া যায়। কোনও দিন বৈকালে ৫টায়, কোনও দিন ৬টায় ফিরিয়া আসে, আবার রাত্রি ৯টা কিবা ১০টার সময় বাহির হইয়া যায়। প্রথম দিনই সে নিৰ্ম্মমলাকে বলিয়াছিল, “রাত্রির জন্যে আমার খাবার কোরো না—আপিসে গিয়ে খাই কিনা। রাত্রিতে যারা কাজ করে, আপিসেই রোজ তাদের জন্যে খানা তৈরী হয়—আপিসেরই খরচে।” সতরাং নিমালা একবেলা রাঁধিয়া দইবেলা খায়। দগণ ঝি রামার সবজাতীয়, সে নিজের জন্য ও রামার জন্য রন্ধন করে, সে-ও এক বেলা রাঁধে । সুতরাং সন্ধ্যাবেলা বাড়ীতে উনান জলে না। বসন্ত রামকে বাজার চিনাইয়া দিয়াছে, বাজার হাট সেই করে। দগর্ণ ঝি গোয়ালাবাড়ীতে গিয়া, দাঁড়াইয়া থাকিয়া খাঁটি দুধ দোহাইয়া আনে। একদিন রামা বলিল, “জামাইবাবা আপনার আপিসটি ত আমায় চিনিয়ে দিলেন না। যদি হঠাৎ কোনও দরকারই হয় ।” বসন্ত বলিল, “আরও দিনকতক যাক, নিয়ে যাব একদিন তোকে সঙ্গে করে। কলকাতার পথঘাট আগে তোর অভ্যাস হোক। নইলে শেষে কি মোটর চাপা পড়ে বড়ো বয়সে প্রাণটা খোয়াবি ?” একদিন সন্ধ্যার সময় বসন্ত বাড়ী আসিলে নিশমালা হাসিতে হাসিতে বলিল, “ওগো, আজ সহাস আমায় একটা ভারি মজার কথা বলেছে।” "ও বললে কি জান ? বললে, “তোমার স্বামী রোজ রাত্রে বাড়ীতে থাকেন না, ড্রীতে খানও না, রাত ৯টা ১০টার সময় চলে যান, আবার পরদিন সেই বেলা ৯টায়। আসেন, কেন বল দেখি ? আমি বললাম, কি করবেন ভাই, ছাপাখানার চাকরি, সারারাত । খবরের কাগজ ছাপেন, সকালবেলা কাগজ বেরোয়, কাজেই রাতে বাডী থাকতে পারেন - brፃ