পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কোম অভিজ্ঞতা ছিল না। সতরাং সরোজবাসিনী রন্ধনশালায় অসাবধান, একথা তাহার পক্ষে কোন দোষেরই নয়; তথাপি তাহার সহ্য হইল না যে, সবামী তাহাকে অসাবধান বলিয়া তিরস্কার করিবেন। সে ক্ৰোধ ও ক্লদনের মিশ্রিত স্বরে শ্রীবিলাসকে কতকগুলি চোখা চোখা বাক্যবাণ হানিয়া দিল। স্বামী মহাশয়ও নিতান্ত নীরব রহিলেন না। ফলকথা সে রাত্রে শ্রীবিলাস বৈঠকখানা গহে শয়ন করিলেন। সেই বালক সতীশ অনেক জিদ করিয়া দুইজনকে কিছু খাওয়াইল, নুহিলে অভুক্ত অবস্থাতেই উভয়ের রাত্রি কটিত। তৃতীয় পরিচ্ছেদ রাত্রি কাটিল। প্রভাতে শ্রীবিলাস শাশড়ীঠাকুরাণীর নিকট হইতে এক পত্র পাইলেন, তাহাতে লেখা ছিল—“এক নিকট আত্মীয়ের বাটীতে বিবাহের নিমন্ত্রণ হইয়াছে, অতএব সরোজবাসিনীকে পাঠাইয়া দিলে ভাল হয়।” শ্ৰীবিলাসের আর্থিক অবস্থার উল্লেখ করিয়া ইহাও লেখা ছিল যে, “যতদিন ভালরাপ পসার না হয় ততদিন সপরিবারে কম - স্থানে থাকিয়া অনথাক খরচ বাড়াইবার প্রয়োজন কি ?”—শ্ৰীবিলাস নিশ্চয়ই সত্রীকে পিত্রালয়ে পাঠাইতেন, যদি এ আর্থিক অসচ্ছলতার কথাটার উল্লেখ না থাকিত। ইহা তীরের মত আসিয়া তাঁহার সম্প্রতি ক্ষতবিক্ষত আত্মাভিমানকে বিদ্ধ করিল। তিনি যথাসময়ে বালক সতীশের হাতে এই পত্ৰখানি স্ত্রীকে পাঠাইয়া দিলেন। সরোজবাসিনী বলিয়। পাঠাইলেন—“আমি যাইব সকল বন্দোবস্ত করিয়া দিতে বল।” খ্ৰীবিলাস কুদ্ধ হইয়া উত্তর পাঠাইলেন—“এখন কোন মতেই যাওয়া হইতে, পারে না।” তাহার প্রত্যুত্তরে আর সরোজবাসিনী কোনও কথা বলিয়া পাঠাইলেন না; পরন্তু জননীর সেই পত্ৰখানি লইয়া যে অংশে শ্রীবিলাসের অর্থকষ্টেটর উল্লেখ ছিল, সেই অংশটি মোটা পেন কলম দিয়া লাল কালীর দাগ করিয়া ফিরিয়া পাঠাইলেন। শ্ৰীবিলাস অন্যমনকভাবে সে পত্র লইয়া পকেটে ফেলিয়া য়াখিলেন—তখন আর খুলিয়া দেখিলেন না। আহারাদি করিয়া কাছারি চলিয়া গেলেন। কাছারি হইতে প্রায়ই তাঁহাকে খালি পকেটে ফিরিতে হইত। সে দিন দৈবাৎ পকেটটা কিছ ভারি করিয়া ফিরিলেন। আসিয়া দেখিলেন, পাখী উড়িয়া গিয়াছে। শুনিলেন তিনটার প্যাসেঞ্জার গাড়ীতে সতীশকে লইয়া “মাজী” প্রস্থান করিয়াছেন - ि শ্ৰীবিলাসের একজন বন্ধ প্রতিবেশী প্রায়ই তাঁহার বৈঠকখানায় আসিয়া তাম্রকট সেবা করতেন। তাঁহাকে তাঁহার বিশেষ অনিচ্ছাসত্ত্বেও শ্ৰীবিলাস ও পাড়ার - î #`#`ಕ್ಡನ್ತನ್ತಿ। ইংরাজিও অলপ জানিতেন; এ কালের লোকজন, আচার-ব্যবহার এ সকলের উপর তিনি হাড়ে চটা ছিলেন। তাহার একটা মত বড় ঐতিহাসিক ভ্রম ছিল—তিনি বছর ত্রিশ পয়ল্লিশের ভুল করিয়া এ পর্যন্ত এই ভারতব্যটাকে কোম্পানীর রাজ্য বলিয়াই উল্লেখ করতেন। এই ঠাকুরদাদা মহাশয়, শ্ৰীবিলাসের ত্রীর পলায়ন সংবাদ পাইবা মার, হেলিতে দলিতে বৈঠকখানায় আসিয়া উপস্থিত হইলেন। সমস্ত বত্তান্ত শ্রবণ করিয়া তিনি অনিশম্মী হইয়া উঠিলেন। বৰ্ত্তমান সময়ে স্ত্রীলোকগণের এই প্রকার যথেচ্ছাচারিতার বিরদ্ধে ওজস্বিনী ভাষায় বক্ততা আরম্ভ করিয়া দিলেন। দই চারিটা শাস্ত্র বচন আওড়াইয়া প্রমাণ করিলেন, ত্রীলোকেরা এইরুপ প্রবলা ও উচ্ছৃঙ্খলা হইয়া উঠিলে সমাজের আর ভদ্রস্থতা নাই;—এমন কি কলির শেষ অবস্থা ঘনাইয়া আসিয়াছে বঝিতে হইবে। শ্ৰীবিলাসের এখন এই সমস্ত কথা নিরতিশয় যক্তিসংগত বলিয়া বোধ হইতে লাগিল। তিনি বললেন—“আমার শাশড়ীঠাকুরাণী এমন কিছ জিদ করিয়া লেখেন নাই যে, পাঠাইতেই হইবে—এমন কোনও বিশেষ প্রয়োজন ছিল না—এই দেখন না পত্রখানা।" বলিয়া পত্ৰখানা বাহির করিয়া বন্ধের হস্তে দিলেন। পত্র খলিবামার লাল Y R