পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


খাকী ফোঁপাইতে ফোঁপাইতে বলিল, “মা, বাবা বললে, আমি তোর বাবা নই। বললে আমি ত তোকে চিনি না বাছা ! কার মেয়ে তুই ? কোথায় থাকিস?”—বলিয়া সে অভিমানে কাঁদিতে লাগিল। - নিশমলা বলিল, “ও মা, সব্বরক্ষে ! ছি ছি রাম রাম, কাকে আমার স্বামী বলে মনে করেছিলাম ? না রে খাকী, ও তিনি নন। ঠিক তাঁর মত দেখতে আর একজন। তুই তাঁর বকের কলজে, তোকে কি তিনি বলতে পারেন, আমি তোর বাবা নই!” সহাস বলিল, “তুমি কি বলছ ভাই, আমি বুঝতে পারছিনে।” নিশমালা বলিল, “কেন, তোমায় কি আমি বলিনি ? বলিনি বোধ হয়। সে দিন যে তুমি আমায় বলেছিলে, একখানা হলদে রঙের মোটর গাড়ীতে উনি হাওড়া স্টেশনে যাচ্ছেন, তোমার বাবা দেখে এসেছেন—সে উনি নন । ঠিক ওঁর চেহারা এই কলকাতায় আর একজন লোক আছে, সে একখানা হলদে রঙের মোটর চড়ে বেড়ায়। ওঁর কত বন্ধ কত সময় তাকে দেখে উনি মনে করেছে—উনি সে কথা আমায় বলেছেন।” সহাস বলিল, “বল কি! খাব আশ্চৰ্য্য ত!” এই সময় থিয়েটারের ঝিকে সেইখান দিয়া যাইতে দেখিয়া, নিম্নমালা তাহাকে ডাকিয়া বলিল, “ও ঝি, তুমি একবার গিয়ে দেখে এস ত বাছা, একখানা বাড়ীর মোটর গাড়ী, হলদে রঙের, দাঁড়িয়ে আছে কি না; যদি থাকে ত জিজ্ঞাসা করো, কার গাড়ী ” “আচ্ছা”—বলিয়া ঝি চলিয়া গেল। কিছুক্ষণ পরে আসিয়া বলিল, “হলদে রঙের মোটর দাঁড়িয়ে আছে, বললে, ভবানীপুরের হেমন্তবাবর গাড়ী।” নিশমালা সহাস্যে সহাসিনীর প্রতি চাহিয়া বলিল, “শুনলে ত?” কনসার্ট থামিল, আলো নিবিল। তৃতীয় অঙ্ক আরম্ভ হইল। পরদিন বেলা ৯টার সময় বসন্ত বাড়ী আসিলে নিম্নমালা জিজ্ঞাসা করিল, “হ্যাঁ গা, কাল তুমি থিয়েটরে গিয়েছিলে ?” বসন্ত সবিসময়ে বলিল, “থিয়েটরে! তুমি স্বপন দেখেছ নাকি ? কাল সেই সন্ধ্যে থেকে সকাল ৭টা পৰ্য্যন্ত মাথার ঘাম মোছবার অবকাশ পাইনি—আমি যাব থিয়েটর দেখতে ? তুমি ত বেশ !” নিৰ্ম্মলা তখন গত রান্ত্রির সমস্ত ঘটনা খলিয়া বলিল। সহোস প্রথমে কি সন্দেহ করিয়াছিল তাহা এবং ঝি পাঠাইয়া খবর লইবার কথাও বলিল। শনিয়া বসন্ত বলিল, “তুমিও তা হ’লে দেখেছ তাকে ? কি সব্বনাশ! সে যদি তোমায় এসে বলত, চল, বাড়ী যাই, তুমি ত তা হ’লে সবচ্ছন্দে তার সঙ্গে চলে যেতে ?” নিৰ্ম্মলা বলিল, “বোকো না বাপ, যাও ! রোজ রোজ এক ঠাট্টা কি ভাল লাগে ? দরে থেকে দেখছি বলেই আমার ভুল হয়েছিল, কাছে এসে ডাকলে কি আর আমার ভুল হ’ত ?” বসন্ত হাসিয়া বলিল, “আমার নিজের মেয়েই যখন চিনতে না পেরে তাকে বাবা বললে,—আমার বশরের মেয়ে কি তফাৎ বুঝতে পারত?” নিৰ্ম্মলা বলিল, “ষা হয়ে গেছে, তা হয়ে গেছে। আর কক্ষণো আমি তোমার সঙ্গে ভিন্ন এক পা বাইরে যাব না।” ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ পজা অন্তে সহাসিনী তার স্বামীর সঙ্গে পশ্চিমে চলিয়া গেল। এই মৰবান্ধব পরীতে নিৰ্ম্মলা একটি সমবয়সী সহদেয়া সখী পাইয়াছিল—তাহার অভাবে নিমালার বড়ই কটে হইতে লাগিল। কাত্তিক মাসের মাঝামাঝি, নিৰ্ম্মলার আর এক বিপদ উপস্থিত হইল। সন্ধ্যার পর যথারীতি বসন্ত আপিসে চলিয়া গেল, কিন্তু তার পরদিন নিদিষ্ট সময়ে সে । ফিরিয়া আসিল না। ১০টা বাজিল ১১টা বাজিল, তথাপি স্বামী না আসায় নিন্মলা " - 、「ぬ> - --