পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বড়ই উৎকণ্ঠিত হইয়া পড়িল। রামাকে ডাকিয় বলিল, “রামদা, তুমি একবার আপিসে গিয়ে খবর নিয়ে এস না। কি হ'ল, কেন এলেন না, কিছুই বুঝতে পারছিনে যে ” রামা বলিল, “কত দিন বলেছি, আমাকে কি জামাইবাব তাঁর আপিস চিনিয়ে দিয়েছেন যে যাব ?” নিন্মলা কাঁদিতে কাঁদিতে বলিল, “তা হলে কি হবে, রামদা ?” “বাড়ীওয়ালাবাবকে বলিগে । তিনি বোধ হর সে আপিস চেনেন, তাঁকে সঙ্গে করে নিয়ে যাই।” “তুমি যাও দাদা—শীগগির যাও।” নিম্নমালা উৎকণ্ঠিতভাবে রামার আগমন প্রতীক্ষা করিতে লাগিল। হঠাৎ মাঝের দরজা খলিয়া, বাড়ীওয়ালাবাবরে স্ত্রী আসিয়া প্রবেশ করিয়া বলিলেন, “হাঁ বাছা, ব্রাম বলছে, আজ ছেলে নাকি বাড়ী আসেন নি ?” “হ্যাঁ মা। আমি বড় ভাবনায় পড়েছি। কি হবে মা ?” “ভয় কি, হয়ত কোনও কাজে আটকে পড়েছেন। তিনি বললেন, মেয়েকে জিজ্ঞাসা করে এস জামাই কোন আপিসে চাকরী করেন, তা হলে উনি এখনই গিয়ে খোঁজ নিয়ে আসবেন ।” নিমালা সরোদনে বলিল, “খবরের কাগজের আপিসে কাজ করেন।” “তা ত হ’ল, কিন্তু কোন খবরের কাগজের আপিসে ?” “ইংরিজী খবরের কাগজ । “কিন্তু সে কাগজের নাম কি ? ইংরিজী খবরের কাগজ ত অমন কত বেরোয় “তা জানিনে মা, ইংরেজী খবরের কাগজ, তাই জানি।” “আচ্ছা, কত্তাকে জিজ্ঞাসা করি, দাঁড়াও ” বলিয়া তিনি চলিয়া গেলেন। পাঁচ মিনিট পরে ফিরিয়া আসিয়া বললেন, “উনি ট্যাক্সি নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। বললেন, সমস্ত প্রধান প্রধান ইংরেজী খবরের কাগজের আপিসেই আমি যাব, গিয়ে খোঁজ করব।” নিৰ্ম্মলা তখনও আহার করে নাই জানিয়া তিনি তাহাকে খাওয়াইবার জন্য পীড়পীড়ি করিতে লাগিলেন। নিম্মালা বলিল, “না মা, তাঁর খবর না পেলে আমি কিছুতেই খেতে পারব না। আমার গলা দিয়ে অন্ন-জল গলবে কেন ?” অবশেষে অনেক কটে তিনি নিৰ্ম্মলাকে এক গলাস সরবৎ পান করাইয়া গহে গেলেন। নিশমলাকে জানাইলেন, কলিকাতার সমস্ত ইংরাজী দৈনিকের আপিসেই তিনি গিয়াছিলেন, কিন্তু বসন্তকুমার বস কেহ কোথাও চাকরী করে না। নিশমলা কাঁদতে কাঁদিতে বলিল, “আমার বাবাকে এখানে আসবার জন্যে টেলিগ্রাফ করে দিতে বল।”—নিম্মলা পিতার ঠিকানা বলিয়া দিল । সষ অস্ত গেল, সন্ধ্যা হইল, তথাপি বসন্তের দেখা নাই অথবা তাহার তরফ হহঁতে কোনও সংবাদও নাই। পিতাও আসিয়া পেপছিলেন না । রাত্রি এগারেটর সময় দয়ারের কড়ায় খটু-খট করিয়া আওয়াজ হইল। পিতা আসিয়াছেন মনে করিয়া নিমলা নিজে ছটিয়া গিয়া বার খলিয়া ছিল। একটি ৭৮ বৎসর-বয়স্ক বালকের হাত ধরিষা তার স্বামী দাঁড়াইয়া—তাহার চল উকখসক, মাখ শুকাইয়া আধখানি হইয়। গিয়াছে। সে ভগ্নস্বরে ডাকিল—“নিম্মল!” - সেই মহত্তে খোলা দরজার ভিতর দিয়া নিশমলার দটিতে পড়িল, হলদে রঙের বৃহৎ এক মোটরকার বাহির-বারান্দার নিম্নে রাস্তার উপর দাঁড়াইয়া রহিয়াছে। নিমালা একটা অফুট ভীতধৰনি করিয়া দুই তিন পদ পিছাইয়া গেল। - ... নেই নিৰ্ম্মলা –তোমারই স্বামী আমি অন্য কেউ নই। এইমাত্র নিমতলার - ఫి" -