পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঘাট থেকে ফিরছি। সেদিন থিয়েটরে বক্সে যে রোগ; মন্ত্রীলোকটিকে দেখেছিলে, সে সত্যিই তোমার সতীন—উপসতীন নয়—আমার প্রথমা সত্ৰ"--তাকে পড়িয়ে এলম – এই ছেলেটিকেও সেদিন তুমি বক্সে দেখেছিলে। এই নাও—আজ থেকে খোকা তোমারই ছেলে হ’ল ।” বালক এই কথায় হাউ-হাউ করিয়া কাঁদিতে লাগিল। মহত্তে নিমালা সমস্তই বঝিতে পারিল । সে ছটিয়া গিয়া খোকাকে কোলে তুলিয়া লইল। স্বামীর হাতখানি ধরিয়া বলিল, “ভিতরে এস।” বসন্ত—অথবা হেমন্ত (কারণ, হেমন্তই এই দুভাগ্যের আসল নাম) বলিল, দড়িাও, BBBBB BBB BB BB SBBB B BBBB BBB BBBSSSBBBBS BBB BBB আবার নিমতলায় যাও। ওঁদের সব বাড়ী পৌছে দিয়ে, গাড়ী সেখানেই রেখ। আজ রাত্রে আমি আর খোকা এইখানেই রইলাম—কাল বেলা ৯টার সময় গাড়ী নিয়ে আসবে।" নিমালা রান্নাঘরে গিয়া তাড়াতাড়ি লেব দিয়া চিনির সরবৎ প্রস্তুত করিয়া, স্বামীকে ও খোকাকে পান করাইয়া বলিল, “হ্যাঁ গা, দটি ভাত চড়িয়ে দিই, ভাতে-ভাত ?” হেমন্ত বলিল, “আমি ত কিছুই খেতে পারবো না। খোকাও বোধ হয়, ভাত হতে হতে ঘুমিয়ে পড়বে। দুধ-টন্ধ থাকে ত ওকে একটা দাও।” “আজ সারাদিন বোধ হয় তোমার খাওয়া হয়নি ?” ’না হওয়ারই মধো । ক’দিন থেকেই থোকার মা অসুখে পড়েছিলেন। কাল রাত ১০টার সময় ভবানীপুরে বাড়ী গিয়ে দেখলাম, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, জীবনের আশা ডাক্তারের ছেড়েই দিয়েছে । সেই তখন থেকে, আজ বেলা তিনটে অবধি যমেমানুষে যন্ধ । তিনটের সময় সব শেষ হয়ে গেল। যোগাড়যন্তর করে বেরতে বেরতে সন্ধে হল। আমি না আসাতে তুমি কত ভাবছো—তা মাঝে মাঝে মনে পড়ছে বটে --কিন্তু কাউকে দিয়ে একটা খবর যে পাঠাব তোমাকে, তা পেরে উঠলাম না। তোমার খাওয়া দাওয়া হয়েছে P” নিমালা বলিল, “দপুরবেলা সরবৎ খেয়েছি।” হেমন্ত একটি দীঘনিশবাস ফেলিয়া বলিল, “তা আগেই জানি। আচ্ছা, দাও দুটো ভাত চড়িয়ে—দু’জনেই খাব এখন। খুকী কোথা ?” “সে উপরে ঘমেনুচ্ছে।” “তুমি উপরে চল।” “আচ্ছা, তাই চল ।” বিতলে গিয়া নক্ষমলা খোকাকে কোলে করিয়া সোফার উপর বসিয়া তাহকে দন্ধ ও সন্দেশ খাওয়াইতে লাগিল। হেমন্ত খাটের উপর বসিয়া, ঘনমন্ত খাকীকে কোলে তুলিয়া লইয়া তাহার মুখে চমো খাইতে খাইতে বলিতে লাগিল, “মা—আমায় বাবা বললে যে, আমি তোর বাবা নই!--এই বলে বাছা আমার সেদিন কোঁদেছিল। আমি তোর বাবা মই—বলতে আমার বকটা ফেটে গিয়েছিল রে, তা কি তুই জানিস ?”—বলিয়া হেমন্ত ঘনমন্ত মেয়েকে বকে চাপিয়া ধরিল। পরদিন বেলা ১০টার ট্রেণে দত্ত মহাশয় আসিয়া উপস্থিত হইলেন। সমস্ত ব্যাপার শনিয়া তিনি কিছুক্ষণ স্তম্ভিত হইয়া বসিয়া রহিলেন। প্রথমটা জামাতার উপর মনে মনে তাঁহার খাব রাগ হইল—কিন্তু শেষে যখন শুনিলেন, সম্প্রতি ইংলিসম্যানে চাকরী করার কথাটা কম্পিত হইলেও, প্রথমে কথিত দালালী ব্যবসায়টা খাঁটি সত্য, সে ব্যবসায় বিশেষ জাঁকালো রকমের, এবং সে ব্যবসায় হইতে বাবাজীউ বৎসরে লক্ষাধিক টাকা উপাজন করিয়া থাকেন; তখন তাঁহার সমস্ত রাগ জল হইয়া গেল । পরদিন দত্ত মহাশয় জামাতাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, "আচ্ছা বাবাজী, প্রথম যখন කු ඵ -