পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তোমার সঙ্গে আমার দেখা, তখন তুমি পরিচয়টি গোপন করেছিলে কেন ?" হেমন্ত বলিল, “আজ্ঞে না। নিম্মলাকে বাড়ী নিয়ে যাবার জন্যে গঙ্গার ঘাটে আপনি যখন পালকী এনেছিলেন, আপনি আমার নাম জিজ্ঞাসা করলেন, আমি তখন আমার প্রকৃত নামই বলেছিলাম—হেমন্তকুমার বসু। বাড়ী নিয়ে গিয়ে আপনি আমায় বসন্ত বসন্ত বলে ডাকতে লাগলেন। আমি প্রতিবাদ করিনি, কারণ তা করার কোনও দরকার মনে করিনি।” "আজ্ঞে, কুলীন কায়েথের ছেলে, ৩০ বছর বয়স হয়েছে, গরীব না সাজলে, তত দিন পৰ্য্যন্ত আইবড় থাকার কৈফিয়ৎ কি দিই? আর প্রকৃত কথা জানলে আপনি কি আর নিৰ্ম্মলা এক দীঘ পত্রে সহাসিনীকে সমস্ত ব্যাপার জানাইল। শেষে লিখিল, "তুমি যাহা অনুমান করিয়াছিলে, তাহাই সত্য হইয়া দাঁড়াইল,-উনি রাত্রে চাকরী করিতে থাইতেন না;—আমাকে বোকা বক্সাইয়া হাওয়া খাইতেই যাইতেন বটে। তবে সৌভাগ্যের বিষয় যে, উহা বিশুদ্ধ বায়, দষিত হাওয়া নহে!" পরলোকগতা পত্নীর শ্রাধব্রুিয়া শেষ না হওয়া পয্যন্ত নিমালাকে হেমন্ত এই প্লাড়ীতেই রাখিল। তাহার পর একটা ভাল দিন দেখিয়া, হেমন্তের জননী তাঁহার নতন বউকে আনাইয়া বরণ করিয়া ঘরে তুলিলেন। ডোরা রাত্রি ৯টার সময় হ্যারিসন রোড হইতে একখানি ট্যাক্সি আসিয়া, পটলডাঙ্গার একটি গুলির মধ্যে প্রবেশ করিল। আরোহিণী—দইটি তরণী। একজনের মাথায় হাট, অঙ্গে ইংরাজী গাউন; অপরটির পরিধানে শাড়ী—কিন্তু পায়ে জনতা-মোজাও আছে। হাটধারিণী সামনে বকিয়া শোফেয়ারকে বলিল, “ডেখো, ২০ নম্বর কাঁহা?” “জি হজের”—বলিয়া চালক গাড়ীর গতিবেগ কমাইল, এবং উভয় পাশেবর বাড়ীশালির নম্বরের প্রতি দটি রাখিয়া চলিল। অবশেষে ২০ নম্বর দেখিতে পাইয়া, সেই ৰাড়ীর সামনে গাড়ী থামাইল। শাড়ীপরা মেয়েটি মেম-জনোচিত উচ্চারণে তাহার সঙ্গিনীকে ইংরাজীতে বলিল, “ডক্টর রবিনসন ২০ নম্বরই বলিয়াছিলেন ত ? আমার কিন্তু স্মরণ নাই।” অপরা যাবতী বলিল, “হ্যাঁ--২০ নম্বর বলিয়াছিলেন আমার ঠিক মনে আছে।” শোফেয়ার ট্যাক্সির দরজা খলিয়া দিল। উভয়ে তখন নামিয়া সদর দরজার নিকট গিয়া দাঁড়াইল। শাড়ীপরা মেয়েটি দরজার কড়া নাড়িতে লাগিল। কয়েক মহত্তে পরে একজন খোট্টা চাকর আসিয়া দরজা খলিয়া দিল। শাড়ীধারিণী জিজ্ঞাসা করিল, “এই বাড়ীতে রোগী আছে ?” “আঞ্জে হাঁ।” “ডক্টর রবিনসন চিকিৎসা করছেন ?” “আন্দ্রে, মেটিয়া কলেজের ডাংদার সাহেব ইলাজ করছেন।” “হ্যাঁ ঠিক। বলগে, ডাক্তার সাহেব আমাদের পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমরা নাস ।" . “বহংক" বলিয়া ভূত্য চলিয়া গেল। গাউনপরা মেয়েটি তখন রাস্তায় নামিল। ট্যাক্সির ভাড়া দিয়া উহাকে বিদায় করিয়া আবার সঙ্গিনীর পাশে আসিয়া দাঁড়াইল। শাড়ীপরা মেয়েটির বয়স বোধ হয় উনিশ-কুড়ি হইবে,~~রঙটি বেশ ফস"। অন্য মেয়েটির বয়স পঁচিশ-ছাবিশের কম নয়—হ্যাট ও গাউন পরিলে কি হইবে—রঙটি তাহার কালো, তবে, “গদাধরের পিসীর" মত శా বটে। ' ఇ8 t