পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপেক্ষণ পরেই ভূত্য ফিরিয়া লল, “আসন।” যাবতীন্বয় ভূত্যের পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিল। বাড়ীখানি বিদ্যুৎ আ আলোকিত। নিতান্ত নতন না হইলেও বেশী পরাতন নহে।- উঠানটি জঞ্জালে ভত্তি নহে—সিড়ির দেওয়ালে পাণের পিক নাই—বেশ পরিকার পরিচ্ছন্ন, ঝক ঝক তক-তক করিতেছে। যাবতীবয় বিতলের বারান্দায় পেশছিয়া দেখিল, বিশ বাইশ বছরের এক যবেক, একটা আধ-ময়লা টাইল-সার্ট গায়ে দিয়া দাঁড়াইয়া আছে। সে অগ্রসর হইয়া আসিয়া ইংরাজীতে বলিল, “ডক্টর রবিনসন কি আপনাদের পাঠাইয়া দিয়াছেন ?” ইংরাজী বেশধারিণী , বলিল, “হাঁ। তিনিই আমাদের পাঠাইয়াছেন। এ বাড়ীর কত্তা কে ?” যবেক উত্তর করিল, “যিনি কত্তা, তিনিই অসন্থ।” “ফৗজ সম্বন্ধে আমরা তবে কাহার সঙ্গে কথাবাত্ত কহিব ?” “আমার সঙ্গেই কহন।” "আপনি তাঁর পত্র বঝি ?” যবেক ঈষৎ হাসিয়া উত্তর করিল, “না, আমি তাঁর বন্ধু—তিনি আমারই সমবয়সী। তিনি নিজ অধিকারে একজন জমীদার—মৈমনসিং জিলার . অধিবাসী—এখানে থাকিয়া বিজ্ঞান কলেজে এম এস-সি পাঠ করিতেছেন।” এই পরিচয় শনিয়া যাবতীবয়ের মনে যেন একটু সম্প্রমের ভাব উদয় হইল। শাড়ীপরা মেয়েটি এবার বাঙ্গালায় জিজ্ঞাস করিল, “কত দিন জম্বর হয়েছে ?” “আজ এগারো দিন।” “এ বাড়ীতে মেয়েছেলেরা কেউ থাকে না। এটা ত বাসা-বাড়ী কিনা! আমিও থাকি অন্য বাসায়। তবে, এ ক দিন এখানেই রয়েছি, নইলে রোগীকে দেখে শোনে কে ?” “রোগী কোথায় ? কোন ঘরে ? চলন, রোগীকে আমরা দেখি।” যবেক উভয়কে লইয়া সেই বারান্দার প্রান্তস্থিত একটি কক্ষে গিয়া প্রবেশ করল । পালঙ্কের উপর একটা রেশমী চাদরে আবত হইয়া তেইশ চব্বিশ বৎসর বয়সের এক যবেক শইয়া আছে। একজন বন্ধ ভূত্য পালঙ্কের ধারে বসিয়া ধীরে ধীরে রোগীর পায়ে হাত বলাইতেছে। মেমসাহেববেয়কে দেখিয়া সে ব্যক্তি সসম্ভ্রমে উঠিয়া দড়িাইল । যাবতীদ্বয় প্রায় আধ মিনিটকাল রোগীর মাখের পানে চাহিয়া দাঁড়াইয়া রহিল। তাহার পর চাট দেখিতে চাহিল। ডাক্তার সাহেবের আদেশক্ৰমে ছয়ঘণ্টা অন্তর রোগীর দেহের উত্তাপ ও নাড়ীর গতি এই চাটে লিপিবদ্ধ হইতেছে। যাবতীদ্বয় চাট দেখিতেছিল, যবকটি বলিল, “শশষ সম্বন্ধে ডাক্তার সাহেব কি—” হ্যাটধারিণী নিজ আবদ্ধ ওঠযগেলে অঙ্গলিপথাপন করিয়া যুবককে কথা কহিতে নিষেধ করিল। তারপর অতি মদদবরে বলিল, “গোল করেন কেন ? দেখিতেছেন না, রোগী নিদ্রিত ?” তারপর সঙ্গিনীর দিকে ফিরিয়া সেইরূপ স্বরে বলিল, “ডোরা, তুমি রোগীর নিকট থাক, আমি অন্য ঘরে গিয়া বাবর সঙ্গে কথাবাত্ত কহি ।” ষাবকের দিকে ফিরিয়া বলিল, “এস, বাবা।” দই এ কক্ষখানি এই গহস্বামীর পড়িবার ঘর। সবচেয়ে ভাল চেয়ারখানি দখল করিয়া 'ಸ್ಟ್ಗ বলিল, “ব’স বাবর বাস।” } ইহার মরবেীয়ানা দেখিয়া যুবকের হাসি পাইতেছিল। যাবতী বলিল, “তোমার Fনামটি জানিতে পারি কি ?” ... -- বসবক বলিল, “আমার নাম অনিল চাটাঙ্গিজ ।” - যাবতী বলিল, “আমার নাম মিস জেসি ব্রাউন। আমার সঙ্গে যে আসিয়াছে, তাহার ఏt • ख ० *