পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লইতে হইবে।” অনিল তখন উঠিযা জেসিকে পাশববত্তীর্ণ কক্ষে লইয়া গেল। জিনিষ-পত্ৰ দেখিয়া, আর যাহা যাহা ত্যাবশ্যক, জেসি সে সমসত জিনিষের একটি তালিকা লিখিয়া দিল। বলিল, “এগুলি কাল সকালে অানাইয়া লইলেই চলিবে। যাহা আছে, আজ রাত্রের জন্য তাহাই যথেষ্ট। এখন মিস রয়কে একবার ডাকিয়া দাও তুমি রোগীর নিকট থাক। পালা সম্বন্ধে মিস রয়ের সঙ্গে আমি কথাবাৰ্ত্তা সিথর করিয়া লই।” অনিল উঠিয়া গেল। ক্ষণকাল পরে ভোরা আসিয়: প্রবেশ করিল। জেসি প্রস্তাব করিল—আজ রাতটা ভোরাই থাকিবে, কল্য প্রাতে ৮টার সময় আসিয়া জেসি উহাকে ছুটি দিবে। তাহার পর ছয় ঘণ্ট অন্তর পালা বদলাইবে । ডোরা কোনও আপত্তি করিল না। জেসি বলিল, “তু সব তুমি রোগীর কাছে যাও । ঐ চটাতিজ ছোকরাকে একটা ট্যাক্সিব জন্য লোক পাঠাইতে বল। গড় নাইট ডিয়া।”—বলিয়া জেসি হসত প্রসারণ করিল I “গড়ে নাইট” বলিয়া ডোরা উঠিয়া জেসির করমদন করিল। জেসি বলিল, “খুব সাবধান, রোগীর ঘরে যেন গোলমাল না হয়। ঐ চাটাডিজ" লোকটা দারি বক বক করে। গোল করে ত উহাকে ঘর হইতে বাহির করিয়া দিও। আর দেখ, চাট যেন ঠিক ঠিক তৈরি হইতে থাকে। ডক্টর রবিনসন এ বিষয়ে কি রকম কড়াক্কড়, তা জন ত ? অার উত্তাপ ১০২ ডিগ্রীর উপর উঠিলেই মাথায় আইস-ব্যাগ দিবে। যেন ভুল না হয় ।” “ভুল হইবে না। গড় নাইট”—বলিয়া ডোরা প্রসথান করিল। ईद्धन যে দিনের ঘটনা উপরে বর্ণিত হইল, সেই দিনই সন্ধ্যাবেলায় ডাক্তার সাহেব আসিয়া নিরঞ্জনের ব্যাধি টাইফয়েড বলিয়া নিন্দেশ করিয়াছিলেন এবং শিক্ষিত শুশ্ৰষাকারিণীদের । দ্বারা চব্বিশ ঘণ্টা শশ্রষার প্রয়োজন জ্ঞাপন করিয়া যান। যে বদ্ধ ভৃত্যকে রোগশয্যার প্রান্তে বসিয়া তাহার মানবের পয়ে হাত বলাইতে দেখা গিয়াছিল, তাহার নাম রামকৃষ্ণ -সে নিরঞ্জনের পিতার আমলের তৃতা—নিরঞ্জনকে সে কোলে পিঠে করিয়া মানুষ করিয়াছিল। রারি ৯টার মধ্যে দুইজন নাস আসিবে, ইহা বলিয়া ডাক্তার সাহেব প্রস্থান করিবার পর, দেশে মাতুল মহাশয় রাজেন্দ্রবাবকে নিরঞ্জনের পীড়ার সংবাদ তারযোগে জানাইয়া তাঁহাকে আসিতে বলা হয়। অনিলই ট্যাক্সিতে গিয়া টেলিগ্রাম করিয়া আসিয়াছিল । তদনুসারে বদ্ধ রাজেন্দ্ৰবাব তৃতীয় দিন প্রভাতেই কলিকাতায় আসিয়া পেপছিলেন। ডাক্তার সাহেব এবং অপর একজন খ্যাতিমান বাঙ্গালী ডাক্তার দই বেলাই আসিয়া রোগীকে দেখিতেছেন, এবং তাঁহাদের উপদেশ অনুসারে জেসি এবং ডোরা কতৃক অক্লান্ত শুশ্ৰুষাও চলিতেছে। অনিলও প্রত্যহ আসে,—বন্ধকে দেখিয়া যায়। সংকটের দিনগুলি একে একে উত্তীণ হইয়া যাইতে লাগিল। চারি সপ্তাহ পরে চিকিৎসকগণ বলিলেন, আর কোনও আশঙ্কা নাই,—তবে পথ্য দিবেন আরও কয়েক দিন বিলবে। তাঁহারা ইহাও জনাইলেন যে, এখন আর দুইজন শশ্রেষাকারিণীর প্রয়োজন নাই—একজন থাকিলেই যথেষ্ট হইবে। ডোরা প্রথম প্রথম ছটী হইলে “নাসেসি হোম"-এ গমন করত। তাহার পর এই বাড়ীতেই তাহাকে নিভৃত ও স্বতন্ম একটি ঘর দেওয়া হয়, বামনঠাকুরের রান্না ডাল, ভাত, তরকারী উপাদেয় জ্ঞানে আহার করিয়া, ছটীর সময়টা সে এই বাড়ীতেই যাপন করিতে থাকে। তা ছাড়া, ডোরা কোনও tমমসাহেবগিরি ফলায় না বলিয়াও বটে এবং অতি যত্নে রোগীর শুশ্ৰষা করে বলিয়াও বটে, ইহাকে সকলেরই বড় ভাল লাগিয়াছে। রাজেন্দ্ৰবাব তাহাকে মাতৃ-সবোধন করেন, রামকৃষ্ণ ও অন্যান্য ভূত্যেরা তাহাকে অসকোচে দিদিমণি বলিয়া ডাকে-সে যেন পরিবারস্থ $Ꮔ