পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ডোরার সামনে ধীরল। “বঃ-কি সন্দের!”-বলিয়া ডোরা তাহা নিরঞ্জনের নিকট হইতে চিলের মত ছোঁ মারিয়া লইল এবং ব্রেসলেট পরিতে উদ্যত হইল। নিবঞ্জন বলিল, “এস ডোর, আমি নিজে তোমার হাতে পরিয়ে দিই।” ডোরা বলিল, “না না, তোমায পরতে হবে না, তুমি লাগিয়ে দাও আর কি ! আমি নিজে পরি।” ব্রেসলেট পরিয়া হাত দুখনি তুলিয়া ঘরাইয়া ফিরাইয়া দেখিতে দেখিতে ডোরার মুখে হাসি ফুটিয়া উঠিল। ছোট মেয়ে. মনের মত খেলানা পাইলে তাহার মাখে যে খসীর হাসিটি ফটে—ঠিক সেইরূপ। পরমহত্তে ডোরা গলায় কাপড় দিয়া ভমিঠ হইয়া নিরঞ্জনকে প্রণাম করিল। নিরঞ্জন তাহকে হাতে ধরিয়া তুলিবার অভিপ্রায়ে নত হইবামার, ডোরা হরিণীর মত ক্ষিপ্রচরণে উঠিয়া পলাইল এবং বরান্দয় গিয়া রামদা। রামদা ! বলিয়া ডাকিতে লাগিল । - রাম আসিলে বলিল, “রামদা দেখ তোমার দাদাবাব আমাকে কেমন গহনা দিয়েছেন "—বলিয়া বালিকার ন্যায় আনন্দোচ্ছাসে হাত দটি তুলিয়া ঘরাইতে লাগিল। রাম হাসিতে হাসিতে বলিল, “বেশ হয়েছে দিদি—বেশ হয়েছে। ও আমি আগে দেখেছি—মামাবাব যে দিন সায়েব-বাড়ী থেকে কিনে আনেন, সেই দিনই আমি দেখেছি। বেশ মানিয়েছে দিদির হাতে।” ডোরা বলিল, “মামাবাব কিনে এনেছিলেন বঝি ? ওঃ—তাই বুঝি সে দিন সকালে চা খাওয়ার পর তিনি বলেছিলেন ‘আমি বাজারে যাচ্ছি জিনিষ কিনতে!—তোমরা ভিতরে ভিতরে বঝি এই ষড়যন্ত্রটি পাকিয়েছিলে ?” নিরঞ্জন বলিল, “রামরেই ত দোষ। আমি মামাবাবকে বললাম ডোরা আমার এত সেবা করলে, যাবার সময় ওকে ত কিছু উপহার দেওয়া উচিত। মামা বললেন, একটা চেক দেওয়া যাবে। রাম সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, ও বললে, না না, ও সব চাকিচোঁকে দরকার নেই। যে হাতে দিদিমণি তোমার অত সেবটা করলে, সে হাত দুখানি সোণা দিয়ে বাঁধিয়ে দাও । তাই ত ব্রেসলেট কেনা পরামর্শ হ’ল।” ডোরা বলিল, “তাই বঝি ? আমাকে কিছু বলা হ’ল না!" বুললে, আমি মামাবাবর সঙ্গে যেতাম; নিজে দেখে পছন্দ করে কিনতাম, আরও হয়ত কত সব ভাল ভাল ছিল, পেলাম না।”—বলিয়া মুখে বিষন্নতার ভান করিল। খোটা ভূত্য আসিয়া সংবাদ দিল, “দিদিমণি ট্যাক্সি আয়ো হ্যায়।” ডোরার নিন্দেশমত ভূত্য তাছার জিনিষ-পত্র নামাইয়া লইয়া গেল। ডোরা আবার নিরঞ্জনকে প্রণাম করিল। নিরঞ্জন ডোরার সহিত নামিষা তাহকে ট্যাক্সিতে তুলিয়া দিয়া আসিতে চাহিল, কিন্তু ডোরা বলিল, “তুমি এস না। রামদার সঙ্গে আমার একটা .গোপনীয় কথা আছে।” নিরঞ্জন মনে করিল, গাড়ীতে উঠিবার সময় ভৃত্যগণকে বখশিস দিবে বলিয়া ডোরা তাহাকে সঙ্গে আসিতে নিষেধ করিল । ধরা গলায় বলিল, “আচ্ছা, এস তা হলে।” পাচক ও ভৃত্যকে ডোরা আগেই বখশিস দিয়া রাখিয়াছিল। সদর দরজার নিকট পেপছিয়া সে হঠাৎ ঝাঁকিয়া রামর পদপশ করিল। রাম স্তম্ভিত হইয়া বলিল, “iছ ছি দিদি ও কি, ও কি ? আমায় পেন্নাম করতে আছে ? আমি যে শািন্দর।” ডোরা বলিল, “প্রণাম করতে আছে। তুমি আমায় ভালবাসলে কেন ? আমরা খণ্টান যীশ ভজি—ও সব জাতিভেদ টাতিভেদ মানিনে।”—বলিয়া চোখের জল মছিয়া ডোরা ট্যাক্সিতে উঠিল । “মেয়েটা পাগলা!" আপন মনে এই কথা-বলিতে বলিতে চক্ষ মাছিতে মৃছিতে রাম ভিতরে গেল। Sey