পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নিরঞ্জন ঈষৎ হাসিয়া বলিল, “যদি তাই হয়। তবে বলি শোন। আমি মনে পিথরই করেছি, যদি বিয়েই করি, তবে ডোরাকে ছাড়া আর কাউকে করবো মা !” রাম ভীতস্বরে বলিয়া উঠিল, “রাম রাম, দাগ দগা! ছি ছি দাদাবাব ও কথা তুমি মুখেও এন না। কি সব্বনাশ !” রামরে এই আকস্মিক উচ্ছৰসে নিরঞ্জন অত্যন্ত বিস্মিত হইয়া বলিল, “কেন রামদা ও কথা বলছিস কেন ?” রাম বলিল, “তবে শনবে দাদাবাব ? মামাবাব; তোমায় জানাতে বারণই ক’রে গিয়েছিল-কিন্তু এখন আর না বলে উপায় কি ? রাম রাম! দগণ দগা! হে মা নিরঞ্জন চেয়ারে উচ্চ হইয়া উঠিয়া বলিল, “কি রে রাম, ব্যাপার কি ? হঠাৎ পাগল হয়ে গেলি নাকি ?” রাম তখন যেন এলাইয়া পড়িল। বলিল, “পাগল হইনি দাদা—তবে শোন। ঐ মডারা—তোমার—আপন বোন !” নিরঞ্জন বলিয়া উঠিল, “সে কি রে ?—বোন কি রে ? আমার ত কোনও দিন বোন হয়েছিল বলে শুনিনি!” রাম বলিল, “তোমার—মTর পেটের বোন নয়। তব-ও তোমার—আপন বোন ।” “আমার বাবার মেয়ে ?” “হ্যাঁ יין নিরঞ্জনও এতক্ষণে ঈজি-চেয়ারে এলাইয়া পড়িল। বলিল, “বাবার যে আর এক বিয়ে ছিল, তা ত আমি কোনও দিন শনিনি রামদা।” রাম বলিল, “কত্তার বিয়ে আর ছিল না বটে। কিই বা বলি ছাই –তুমি দাদাবাব তখন বছর দুয়েকের হবে। কত্তা তখন মাঝে মাঝে কলকাতায় আসতেন, এক মাস দমাস করে থাকতেন। সেই সময় ঐ ঘটনা হয়। কত্তা তাঁকে ভবানীপুরে বাড়ী কিনে দিয়েছিলেন, মিশনারী মেম রেখে তাঁকে লেখাপড়া শেখাতেন। ঐ ডোরা যখন জন্মালো, তখন ত আমরা ভবানীপুরের বাড়ীতেই। তোমার বয়স তখন তিন কি বড় জোর চার ” নিরঞ্জল প্রথমটা এ কথাগুলির অর্থ ভাল বুঝিতে পারিল না। তাহার পর ধীরে ধীরে-আসল অথটিা তাহার মাথায় আসিল। সে কিছুক্ষণ গম হইয়া বসিয়া রহিল। তাহার পর একটি দীঘশবাস ফেলিয়া বলিল, “আমার মা এ কথা জানতেন?” “না।” “মামাবাব ?" “প্রথম প্রথম তিনিও জানতেন না, পরে জেনেছিলেন। কত্তার সবগ লাভের পর, মামাবাব মাঝে মাঝে এসে ডোরার মা'র সঙ্গে দেখা করতেন, তখন ওর নাম ডোরা ছিল না, তখন ওর নাম ছিল পটি—মিশনারীরা ওর ডোরা নাম রেখেছিল! পটির মা, মামাবাবকে দাদা দাদা বলতো। পটিকে তিন বছরের রেখে কত্তা সবগে গেলেন, পাঁচ বছরের রেখে পটের মাও গেলেন। মরবার আগেই বাড়ীখানি, টাকা-কড়ি, গহনাপর যা তাঁর ছিল, মিশনারীদের ফণ্ডে দান করে যান, আর বলে যান, আমার মৃত্যুর পর আমার মেয়েটিকে নিয়ে গিয়ে তোমরা মানুষ কোরো—ওকে লেখাপড়া শিখিও, ভাল পাত্র দেখে বিয়ে দিও।” “এ সমস্ত কথা তোকে কে বললে ?” “মামাবাব সে সময় খোঁজ-খবর নিতে কলকাতায় এসেছিলেন, তিনিই গিয়ে আমাকে বলেন।” নিরঞ্জন আবার দই তিন মিনিটকাল নীরবে বসিয়া রহিল। তাহার পর জিজ্ঞাসা N Oල