পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রমণী-সভায় হাসির ফোয়ারা ছটিল। বৈষ্ণবীরাও পরপর মুখ চাওয়া-চাওয়ি করিয়া হাসিল। নগেন বলিল—“তা যা বল বাছা, রাত্তিরে আমরা থাকতে পারব না।” যথাবিধি পরস্কৃত হইয়া, বৈষ্ণবীরা বাহিরে আসিয়া দেখিল একজন কনেটবল দরজার কাছে প্রহরায় নিযুক্ত। ইহাদিগকে দেখিবামান্ত সে হাঁকিল—“জমাদার সাহেব। আসামী নিকলি।” তিনজন সবিস্ময়ে বৈঠকখানার বারান্দার পানে চাহিল। দেখিল পলিসের জমাদার সদলবলে আসিয়া বসিয়া আছে। জমাদার সাহেব হকুম দিলেন—“গিরেফতার করো।" এই কথার সঙ্গে সঙ্গে একটা উচ্চ হাস্যধ্বনি শ্রত হইল। হাস্যকারী আর কেহ নয়, সেই দারোয়ান নাথ মণ্ডল। নিরাপদ ব্যবধানে দাঁড়াইয়া সে নগেন্দ্রকে বলিল--"কি গো বোটমি দিদি ! কুপিত লড়বি ?" রাত্রি দশটার সময় চার তাহার বশরবাড়ীর একটি শয়নকক্ষে চেয়ারে বসিয়া রহিয়াছে। তাহার কাছে দাঁড়াইয়া তাহার শালাজ-পত্ৰবকথিত বড়বউ। তিনি হাসিতে হাসিতে বলিলেন— “ছি ছি ছি--একি বধি চার ? তোমার দটো বন্ধকে এনে কি করে তুমি আমাদের বাড়ীসন্ধ মেয়েকে দেখিয়ে দিলে ? আর তোমার বন্ধুরাই বা কি রকম লোক ? কি কম তাদের আক্কেল ? সাহসও ধন্য! ভদ্রলোকের বাড়ীর ভেতর কি করেই বা সকলো ? একটা লজ্জা একটা আত্মসম্প্রম নেই ?” চার বলিল-“আর বউদিদি। যা হবার তা হয়ে গেছে। কিন্তু দোহাই আপনাদের, পায়ে পড়ি, এ কথা যেন বাইরে প্রকাশ করবেন না। তা হলে কিন্তু আয় কখনো এমখো হতে পারব না।” বড়বধ একটু অভয়হাস্য হাসিলেন। বলিলেন—“আচ্ছা, বাবা যদি থানায় গিয়ে তোমাদের ছাড়িয়ে না আনতেন তা হলে কি দশা হত তোমাদের ?” চার বলিল—“সমস্ত রাত্তির আজ হাজতে পচতে হত। তারপর কাল সকালে যা হয় হত । কিন্তু ভাগ্যিস ব্যাপারখানা কি দেখবার জন্যে বাবা থানায় গিয়েছিলেন " “বাবা তোমাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে যান নি। বাড়ী এসেই শনলেন যে এই রকম হয়েছিল। তখন তাঁর মনে নানা রকম সন্দেহ, নানা রকম আশঙ্কা উপস্থিত হল। তাই তিনি থানায় ছুটে দেখতে গিয়েছিলেন ।” “বাবার কিন্তু আশ্চর্য চক্ষ। আপনারা এতগুলো মেয়েতে আমায় চিনতে পারেন বড়বধ হাত নাড়িয়া বললেন—“আমরা চিনবো কোথেকে, তুমি যে আড়ালে বসেছিলে মশাই! আর একটিও কি কথা কয়েছিলে ?—তা হলেও না হয় চেনা সভব হত গলার সবর শনে। বাবা তোমার স্বর শনেই চিনতে পেরেছেন বললেন।” “বাবার কিন্তু খাব উপস্থিত বৃদ্ধি। আমাকে চিনে কোন রকম বিসময় প্রকাশ করলেন না;--কিছ নয়। ধীরে ধীরে শান্তভাবে দরোগাকে বললেন—“সাহেব ! যে রকম শনছি তাতে ত দারোয়ানটারই সম্পণে দোষ। মারের কথা কি বলছ, ও রকম অবস্থায় পড়লে স্মীলোকে খন পর্যন্ত করেছে এমন কত শোনা যায়। তা এরা ফকিরণী, ভিক্ষে করে থায়, এদের ছেড়ে দাও । নাথ মণ্ডলকে আমি পাঁচটা টাকা বখসিস দিচ্ছি—ও মোকদ্দমা তুলে নিক। আমি ত লজ্জায় মাথা হেট করে বাবার সঙ্গে সঙ্গে এলাম। নগেন বিপিন যে অন্ধকারে কোথায় সরে পড়ল কে জানে!” “বাবাকে সব কথা বুঝিয়ে বলতে তিনি কি বললেন ?” “হাসলেন। পাছে আমি অপ্রতিভ হই তার জন্যে কত রকম কথা বলে আমায় সাত্বনা $ ०९