পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দরে একটা ছোট পরাতন একতালা বাটীর সামনে দাঁড়াইয়া কড়া নাড়িতে লাগিল। জিজ্ঞাসা করিলাম, “এই বুঝি তোমার বাসা ? কিনেছ, না ভাড়া দাও ?” হারদা বলিল, “মাসে বাইশ টাকা করে ভাড়া দিই।” অপেক্ষণ পরে ভিতর হইতে শব্দ আসিল, “কে ?"—ম্মীলোকের কণ্ঠ। হারদা বলিল, “আমি। খোল।” বার খলিল। দেখিলাম, ২৩।২৪ বৎসর বয়স্ক একজন সধবা স্মীলোক। আমাকে দেখিয়াই সে মাথায় ঘোমটা দিল। হারদার পশ্চাৎ পশ্চাৎ আমিও উঠানে প্রবেশ করিলাম। হারদা জিজ্ঞাসা করিল, “ভাল ছিলে ত ক্ষান্ত ?” উঠানের কোণে চৌবাচ্চায় কল কল করিয়া কলের জল পড়িতেছিল। “ক্ষান্ত, তামাক সাজ একটা”—বলিয়া হারদা আমাকে লইয়া একটা ঘরে প্রবেশ করিল। তক্তপোষের উপর বসিয়া বলিল, “জামা খালে ফেল। সঙ্গে গামছা আছে ত ? হাত-পা ধয়ে ফেল। তার পর একট চা খাওয়া যাবে।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, “হারদা, এ বাড়ীতে আর কেউ থাকে নাকি ?” “না, আবার কে থাকবে ?” “ও সন্ত্রীলোকটি কে ?” “বামনী। রাঁধে-বাড়ে—কাজ-কম করে।”—বলিয়া হারদা ফিক করিয়া একটা l " আর ক্ষে নাই কল হল আর এ ফল কলা-ভা উদ মই হাসি দেখিয়া, ব্যাপারটা আমি তৎক্ষণাৎ হৃদয়ঙ্গম করিলাম এবং তাহার “সহ্যগণের”রহস্যটাও বুঝিতে বাকী রহিল না। १ হাতু-পা ধাইতে ধাইতে আমি মনে মনে সিথর করিলাম, ও মন্ত্রীলোকের হাতে আমি ਬੋ আমি নিজে রধিয়া খাইব। ওর ছোঁয়া জলও পান করিব না। মুখ-হাত ধাইয়া ঘরে প্রবেশ করিয়া দেখি, হারদা হকা হাতে করিয়া তামাক খাইতেছে, আর “বামনী" হারদার সঙ্গে ফিস ফিস করিয়া কি কথা বলিতেছে। উল্লীলোকটি আমাকে দেখিয়াই ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল। তত্ত্বপোষের উপর হারদার পাশে বসিয়া আমি বললাম, “হারদা, আমার খাওয়াদাওয়ার কি হবে ?” “কেন, আমরাও যা খাব, তুমিও তাই খাবে।” বলিলাম, “কিন্তু তোমার ও বামনীর হাতে আমি খেতে পারবো না দাদা ! হিন্দয়ানী রলে একটা জিনিষ আছে ত ?” হারদা গভীরভাবে বলিল, “তুমি কি মনে করেচ, ও বামনের মেয়ে নয় ? সত্যি ও বামনের মেয়ে। মেদিনীপুর জেলায় ওদের বাড়ী। ওর এক ভাই রয়েছে কলকাতায়, :সে বাগবাজারের চৌধুরীদের বাড়ী রাঁধে।” আমি বলিলাম, “কিন্তু দাদা, তব-—” হারদা বলিল, “তোমার মনের কথা আমি বুঝেছি। আরে ভাই, হিন্দয়ানী কি আমারই নেই? কিন্তু শাসে যে বলেছে, প্রবাসে দোষং নাস্তি। কত সবিধে, ববছ না ? পরিবার নিয়ে এসে এ কলকাতা সহরে বাস করতে হ’লে খরচ কত পড়ে যেত ? এ রাঁধনীকে রাঁধনী, বিকে.ঝি, ভাত-কাপড় দিয়েই খালাস।” আমি বলিলাম, “তা হোক দাদা, তুমি এক কাজ কর। আমায় তুমি একটা জায়গা দাও, আমি নিজেই রোধে বেড়ে খাব এখন।" -- •3