পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আশা করি, আমার পাঠকেরা না বলিলেও বঝিতে পারবেন যে, কন্যাটি বক্তাকারী ঠাকুরদাদার অতি নিকট-সপকীয়া। চতুর্থ পরিচ্ছেদ এই ঘটনার পর এক বৎসর কাটিয়া গিয়াছে। শ্ৰীবিলাসের একট পসার বাড়িয়াছে, কিন্তু মনের শান্তি বহৃদরে নিবাসিত। সরোজবাসিনী পিরালয়ে। তাহার যে কি অবস্থা হইয়াছে, তাহা অার লিখিবার প্রয়োজন কি ? সে গৰিব তা মদোন্ধতা, সরোজবাসিনী এখন “ধরার ধুলির চেয়ে নীচে” হইয়া গিয়াছে। লোকগঞ্জনায় তাহাকে অস্থির করিয়া তুলিযাছে। বাড়ীর লোক, পাড়ার লোক, গ্রামের লোক, আত্মীয় কুট বালয়ের লোক, তাহকে একবাক্যে নিন্দা করিতেছে। দিন নাই, রাত্রি নাই, গ্রামে যেখানে সেখানে সরোজবাসিনীর কথা উঠিলেই অমনি পাঁচজনে বলে—“ছি ছি ছি—এমন বধি ! আপনার পায়ে আপনি কুড়ল মারিল ! একটা সামান্য জিদের জন্য চির-জীবনটার দুঃখ কিনিল । গলায় দড়ি !"-ইত্যাদি । এই সমস্ত দেখিয়। শনিয়া সরোজার মরিবার ইচ্ছা করিত। এই সময়ে সরোজার মাতা মৃত্যুশয্যায় শয়ন করলেন। মৃত্যুর পাবে সরোজার হস্ত ধারণ করিয়া তিনি বলিয়া গেলেন—“মা, আমার এই শেষ অনুরোধ। এটি রাখিও। পর্ষ স্ত্রীকে ত্যাগ করতে পারে, কিন্তু সন্ত্রীলোকের সবামী ভিন্ন আর গতি নাই। তুমি স্বয়ং বাঁকীপরে যাইয়া স্বামীর পায়ে ধরিয়া ক্ষম্য ভিক্ষা করবে। সতীন হুইয়াছে, তার জন্য আর কি করবে মা ? সতীন ত কত লোকের থাকে। আজকালই কমিয়াছেমহিলে সে কালে সতীনের জবালা ভোগে নাই এমন কয়টা সীলোক ছিল ? তুমি পত্রজন্মে কোনও গ রােতর পাপ করিয়াছিলে, তাহার ফলে এই কটে পাইতেছ। এই জন্মে ভাল করিয়া ভক্তি করিয়া পতিসেবা কর, পরজন্মে আবার ভাল হইবে । আমি চলিলাম --তুমি পিতৃহীন ছিলে, মাতৃহীনও হইলে । এখন আর কে তোমার আশ্রয় রহিল মা ? আমার এ অনুরোধ না রাখিলে পরলোকে আমি শান্তি পাইব না।" সরোজা কাঁদিতে কাঁদিতে বলিল—“মা. আত করিয়া বলিতে হইবে না। আমি তোমার আজ্ঞা প্রতিপালন করব।" সরোজার মাতার মৃত্যু হইল। শ্রাদ্ধাদি ক্লিয়া যথাসময়ে এক রকম করিয়া সম্পন্ন হইল। কিছুদিন পরে বাড়ীঘরের বন্দোবসত করিয়া, সতীশকে লইয়া সরোজবাসিনী বাঁকীপরে যাত্রা করিলেন। পৌছিয়া, একেবারে গিয়া শ্রীবিলাসের বাসায় উঠিলেন । শ্রীবিলাপ তখন কাছারিতে। চাকর-বাকেররা, "মা-জী” আসিয়াছেন দেখিয়া সসম্প্রমে প্রণাম করল। তিনিও তাহাদিগকে যথাযোগ্য কুশল প্রশনাদি করিয়া আপ্যায়িত করিলেন। বাড়ী ঘর দয়ারের আর সে শ্রী নাই—দেখিয়া সরোজার চক্ষে জল আসিল। কোথাকার জিনিষ কোথায় পড়িয়া আছে তাহার ঠিকানা নাই। বিছানাগলার আচ্ছাদন নাই। আলমার, টেবিল, সিন্দক, বক্স ধলায় বজিয়া গিয়ছে। দেওয়ালের ছবিগলায় মাকড়সার জাল । ঘরের কোণে তামাকের গল, ছাই ছড়ান। উঠানে ঘাস গজাইয়াছে। একদিকটা ত একেবারে জঙ্গল বলিলেই হয়। দাসদাসীরা আপনা হইতে এ সব করে না-কেহ তাহাদিগকে করিতে বলেও না। সরোজবাসিনী তাহাদিগকে লইয়া কায করিতে লাগিয়া গেলেন ; সমস্ত ঝাড়িয়া ধুইয়া মছিয়া সাজাইয়া যথাসম্ভব পারিপাট্যবিধান করিলেন । ঘটী বাটী ইত্যাদি ব্যবহারের জিনিষগুলা মাজাইয়া ঘসাইয়া তকতকে ঝকঝকে করিয়া ফেলিলেন। তাহার পর বেলা পড়িলে রসাই-ঘরে গয়া সবহস্তে নানাপ্রকার জলখাবার প্রস্তুত করিলেন। পাণ সাজিয়া কাপড় বদলাইয়া, সলামীসক্ষম্ভাষণের জন্য প্রস্তুত হইতে হ:গ । লেন। মনে হইল, সে সব দিনে মিলনের এইরুপ অনতিপবে কি উৎকণ্ঠা, কি হব > 8