পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কি তোমার পোষাবে ? তার চেয়ে বরং এক কাজ করতে পার। গলিতে ঢোকবার সময় ঐ মোড়েই দেখেছ ত সাইনবোড রয়েছে “পবিত্র হিন্দ হোটেল”-ঐখানেই বরং দুবেলা গিয়ে খেয়ে আসতে পার। এ-বেলা তিন আনা, ও-বেলা তিন আনা—এই ছ' অন্য ক’রে রোজ লাগবে ।” আমি বলিলাম, “তবে দাদা, সেই বাবস্থাই আমায় করে দিও।” ক্ষান্তমণি দই পেয়ালা চা লইয়া আসিল। তাহার ঘোমটার বহর এখন কমিয়াছে, মুখ কতকটা দেখা যাইতেছে। হারদা এক পেয়ালা লইয়া আমার দিকে ধরিয়া বলিল, “চা খাও হৈ ।” আমি বলিলাম, “না হারদা, চা খাব না, সহ্য হবে না। হারদা বলিল, “কেন, আমাদের সহ্য হয়, তোমার হবে না?” আমি হাসিয়া বলিলাম, “তোমার মত সহ্যগণ আমি কোথায় পাব হারদা ?” চা-পান করিয়া হারদা বলিল, “তুমি বসি ভাই, আমি মুখ-হাত ধয়ে আসি।”— বলিয়া গামছা কাঁধে করিয়া কলতলার দিকে গেল। আমি সেই তত্ত্বপোষেই বসিয়া আকাশপাতাল চিন্তা করতে লাগিলাম—যে কায্যের জনা আসিয়াছি, কেমন করিয়া তাহা সিদ্ধ ? ***शड ধইয়া আসিয়া বস্ত্রাদি পরিবত্তন করিয়া হারদা বলিল, “চল, একবার দোকানে যাওয়া যাক পথে, তোমার হোটেলের বন্দোবস্তটাও অমনি করে যাব।” —বলিয়া তিনি হাঁকিলেন, “পাণ সাজা হ’ল গা তোমার ?” ক্ষান্তমণি কাঁসার ডিবার একটি খুেলে চারিটি পাণের খিলি আনিয়া হারদার হাতে দিল। হারদা নিজে দুইটি লইয়া আমায় দটি দিল। লইবার ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু ফিরাইয়া দিতেও চক্ষলজা হইল। ফি হাত কাঁহাতক আর “এটা খাব না” “ওটা খাব না” বলা যায় ! পাণ লইয়া মুখে দিয়া, হারদার সঙ্গেই বাহির হইলাম। গলির শেষে মোড়ে পৌঁছিয়া, হারদা আমাকে লইয়া সেই “পবিত্র হিন্দ হোটেলে” BBB BBBB BBB DBBSBBBBB BBBS BBBBB BBBY S BBBBBB BBB বন্ধ চক্ৰবত্তী আসিয়া উপস্থিত হইলেন । হারদা তাঁহার নিকট সবিস্তারে আমার পরিচয় দিয়া বলিলেন, “ইনি দ’বেলা এখানে খাবেন। কিন্তু চাভেজা সম্বন্ধে একটা বিবেচনা করতে হবে চক্ৰবৰ্ত্তী মশাই । চাকরি বাকরির চেন্টায় আসা, অবস্থা ত বৰ্ব্বতেই গারছেন !" চক্লবত্তী হাসিয়া বলিলেন, “তা যখন উনি আপনার লোক, তখন আর কথা কি। তিন আনার জায়গায় উনি না হয় দ্য আনা করেই দেবেন, দ্য বেলায় চার আনা। আপনি তা হলে ক'টার সময় আসবেন নগেনবাব ? এই ৯টা আন্দাজ আমাদের রান্নাব না শেষ হয়ে যায়।” x - নয়টার পর আসিব বলিয়া, হারদার সঙ্গে আমি তাঁহার দোকানে চলিলাম। বলিলাম, “হারদা, তোমার খুব খাতির ত এক কথায় ছ’ আনার জায়গায় চার আনা হয়ে গেল!” হারদা হাসিয়া বলিলেন, “আমার দোকান থেকে চক্ৰবত্তী উঠনোয় চাল নেয় যে !" দোকানখানি তেমন বড় নয়—তবে বড় রাস্তার উপর, তাই খরুিদার অনেক আছে। ঘণ্টা দই হারদা তাঁহার দোকানের হিসাবপত্র দেখিলেন। তার পর টাকা-কড়ি থলিয়াতে ঘাঁধিয়া আমায় বলিলেন, “চল হে, নগেন।” গলির মোড়ে আসিয়া বলিলেন, “তুমি ঢোক—একেবারে খেয়েই এস। বাড়ী চিনতে পারবে ত ? সোজা গিয়ে বাঁ-হাতি, ১৯ নম্বর বাড়ী।” “হ্যাঁ, চিমতে পারবো বইকি!” বলিয়া আমি সেই পবিত্র হিন্দ হোটেলে ঢাকিলাম। খাদ্য যাহা পাইলাম, সারাদিন অভুক্ত ছিলাম বলিয়াই সে সমস্ত উদরসাৎ করিয়া ফেলিলাম, নাহলে সাধ্য হইত না s ebس