পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পিয়ারী। এত ঝোঁকই হয়েছে যদি, তবে পাঁচ লাখ দিতে রাজি হচ্ছেন না কেন ? আড়াই লাখ পেলে আপনার অনেকটা দেনাই ত মিটে যেত। নবাব। চেষ্টা করতে আমি কি কসর করছি, না করবো? যদি তিন লাখের বেশী মহারাজ উঠতে না-ই চান, তা হ’লে, দেড় লাখ তোমারই বটে, কিন্তু আপাততঃ এক লাখ তুমি নিয়ে দলাখ আমায় দিও পিয়ারী তা হলে দটো বড় বড় মহাল আমি ছাড়িয়ে নিতে পারবো, আমার আয় বাড়বে, তোমার টাকা আমি দই এক বছরেই শোধ করে দেবো । পিয়ারী। মহারাজ কবে আমাদের যেতে বলেন : নবাব। তিনি এক হস্তার বেশী আর কলকাতায় থাকতে চাইছেন না! বলছেন, আমি যে দিন রওনা হব, তার দুই এক দিন আগেই তোমরা রওয়ানা হলে ভাল হয়। পিয়ারী। তা হলে আজ থেকে ধরন, পাঁচ দিন পরে। কালা-বোবাটার সম্বন্ধে কি করা যায় ? নবাব। ও ত এখন ভাল হয়েছে, উঠে হেটে বেড়াতে পারে, ওকে তখন বিদেয় করে দিলেই হবে । পিয়ারী। সেই ভাল । নবাব। এখন তবে আমি উঠি পিয়ারী ! পিয়ারী। এখনই যাবেন ? সন্ধ্যার পর আসবেন কি ? নবাব । না, আজ নয়। বড় ব্যস্ত আছি । আচ্ছা, কাল সন্ধ্যার পর এসে তোমার দুটো গান শনবো। পিয়ারী। এখানেই কিন্তু আপনার খাবার তৈরী থাকবে। নবাব । বেহে তর । ব্যাপার আমি সবই বঝিলাম। এই নর-রাক্ষস ও নারী-রাক্ষসীর প্রতি ঘৃণা ও ক্লেধে আমার মন পরিপন্ণ হইয়া উঠিয়াছিল, তথাপি নবাবকে প্রস্থানোদ্যত দেখিয়া নবাব আবার আমার পিঠ চাপড়াইয়া বলিল, “গড় বয়। গড় বয়!” পিয়ারী নবাবের সঙ্গে সঙ্গে বাহির হইয়া গেল । সে রাত্রে লায়লী আসিয়া আমার খাবার দিল । দুধে ভিজানো পউিরট এবং একটা আপেল। আমি আহার-দাত্রীর পানে বিষগ্ন-নয়নে চাহিয়া রহিলাম। পরদিন দিবপ্রহরে আহার শেষ করিয়া পিয়ারী লায়লীকে বলিল, “আজ নবাব সাহেব রাত্রে এখানে খাবেন। আমি মাকেটে চললাম। তুই ঘর-দের দেখিস শনিস, বাকলি ?” লায়লী বলিল, “আচ্ছা মা।” > “খানিকটা সেগো-পড়িং তৈরি করা আছে-বেলা তিনটের সময় বোবা-কালাকে খেতে দিস।” ”আচ্ছা। তুমি কখন ফিরবে মা ?” “আমার ফিরতে চারটে বাজবে।”—বলিয়া পিয়ারী প্রস্থান করিল। গাড়ীবারান্দা হইতে শব্দ করিয়া মোটরগাড়ী বাহির হইয়া গেল, আমি শ্রমিতে পাইলাম। লায়লী তখনও সেই ঘরে দাঁড়াইয়া, জানালায় মুখ দিয়া বাহিরে কি দেখিতেছিল। অলপক্ষণ পরেই সে মুখ ফিরাইল, আমি অমনই তাহাকে হস্তসঙ্কেতে ডাকিলাম। লায়লী আশ্চয্য হইয়া আমার নিকট আসিয়া দাঁড়াইল। আমি হস্তেঙ্গিতে তাহাকে কাগজ পেন্সিল দিতে বলিলাম। অদরে একটি টেবিলের উপর হইতে সে একটা রাইটিং-প্যাড এবং পেন্সিল অনিয়া আমার হাতে দিল। আমি প্যাডে লিখিলাম-“আমি কালা ত নই-ই, জন্ম-বোবাও নই। তোমার মোটরের ধাক্কা খেয়েই আমি বাকশক্তি হারিয়েছি। তোমার সঙ্গে আমার বিশেষ কথা আছে। - ১১২