পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উঠিয়া শুইলাম। উপায় চিন্তা করিতে করিতে আমার দাবাল মস্তিক ক্লান্ত হইয়া পড়িল-আমি ঘমাইয়া পড়িলাম। সন্ধ্যার পর আবার ঘুম ভাগিলে, কক্ষান্তর হইতে গানের শব্দ পাইলাম। বঝিলাম, নবাব সাহেব আসিয়াছেন । る পাচ পরদিন অপরাতুকালে লায়লী আমার ঘরে আসিলে ইঙ্গিতে জিজ্ঞাসা করিলাম. “তোমার মা কোথায় ?” সে কহিল, “নবাব সাহেব এসে মাকে তাঁর মোটরে তুলে নিয়ে গেছে। বোধ হয় তারা সেই রাজা পোড়ারমখোর সঙ্গে দেখা করতে গেছে—কারণ, শনলাম, শোফারকে হকুম দিলে গ্র্যাণ্ড হোটেল। সেই রাজা পোড়ারমুখো গ্র্যান্ড হোটেলে থাকে কিনা। —হ্যাঁ দাদা, আপনার বোনটির উপায় কিছ স্থির করলেন ?” আমি লিখিলাম, “ভেবে চিন্তে দেখলাম, তোমার শুধ পালালেই চলবে না, কোনও iনরাপদ স্থানে কিছুকাল তোমার লুকিয়ে থাকা দরকার। তাই ভাবছি, তোমায় আমাদের দেশে-নিয়ে যাব, সেখানে আমার সন্ত্রী আছেন, তাঁর কাছে তুমি থাকবে। এরা আমার নাম-ধাম কিছুই জানে না, কস্মিনকালেও তোমায় খুজে বার করতে পারবে না।” “আপনার দেশ কোথা, দাদা ? বউদিদির নাম কি ?” লিখিলাম—“সে সবই ত দুদিন পরে জানতে পারবে। এখন বাজে কথায় সময় নন্ট কোরো না। আমি যে তোমায় নিয়ে যাব, আমার কাছে কিন্তু টাকা-কড়ি কিছুই নেই। ভবানীপরে আমার বাসায় কিছু টাকা আছে বটে, কিন্তু সেখানে গিয়ে আনি কি করে ?” লায়লী বলিল, “টাকার জন্যে কোনও ভাবনা নেই, দাদা। আমার কাছে শ-খানেক নগদ টাকা আছে। তাতে হবে না ?” লিখিলাম, ”ঢ়ের হবে । তোমার মা কি তোমার কাছে এখনও দেশভ্রমণে যাবার কথা পেড়েছে ?” “না। আজ রাজার সঙ্গে সব কথা পাকাপাকি করে এসে বোধ হয় বলবে।” লিখিলাম, “তুমি মৌখিক আহাদ প্রকাশ কোরো। তা হলে ওদের কোনও সন্দেহ হবে না। তার পর, সযোগ বঝে তোমাকে নিয়ে আমি পালাবো।" “আপনার দেশে যেতে হলে কোন ইটিশানে গাড়ী চড়তে হয় দাদা ? শিয়ালদা না হাওড়া ?” “হাওড়া।” “ভালই হয়েছে। দেখন, হাওড়ায় আমরা ট্রেণে উঠবো না। এরা হয়ত আমাদের না দেখতে পেয়ে, হাওড়া আর শিয়ালদহে লোক পাঠাবে আমাদের ধরতে। তার চেয়ে বরং ট্যাক্সিতে আমরা চন্দননগর কি ব্যান্ডেল পৰ্য্যন্ত গিয়ে ট্রেণে উঠবো। কেমন, সেই ভাল হবে না ?” “সেই ॐाळ হবে।” পরদিন প্রভাতে লায়লী আসিয়া আমার কাণে কাণে বলিল, “কাল সন্ধ্যায় পঞ্জাব মেলে দেশভ্রমণে যাবার ব্যবসথা হয়েছে। কাল ভোরেই আমাদের পালানো দরকার।” বিপ্রহরে নবাব সাহেব আসিয়া পিয়ারীকে লইয়া জিনিষপত্র কিনিতে গেলেন। লায়লীকেও তাঁহারা সঙ্গে লইতে চাহিয়াছিলেন, কিন্তু শিরঃপীড়ার ছতা করিয়া সে গেল না। খালি বাড়ী পাইয়া আবার আমাদের পরামশের বৈঠক বসিল । লায়লী বলিল, "নবাব আজ রাত্রে এখানেই থাকবে। মৃদু ল বা অল বেলা ৮টা ৯টার কম Ꮌ8