পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছয় ট্রেণে আমি লায়লীকে বলিলাম, “দেখ, তুমি আর লায়লী নও, আজ থেকে তুমি আগেকার হিরণকুমারী।” ষ্টেশনে নামিয়া গরর গাড়ী ভাড়া করিলাম। সন্ধ্যার পরে গো-যান আমাদের গ্রামে প্রবেশ করিল। গরর গাড়ী বাড়ীর সদর দরজায় দাঁড় করাইয়া আমি ছটিলাম শবশুরবাড়ী, বউকে আনিতে। বিশেষ প্রয়োজন জানাইয়। তখনই একবস্ত্রে তাহাকে সঙ্গে করিয়া বাড়ী লইয়া আসিয়া বলিলাম, “গোরুর গাড়ীতে তোমার ননদ বসে আছে, যাও ওকে নামিয়ে আন ।” “ননদ ?”—বউ ত শনিয়া আশ্চৰ্য্য হইয়া গেল। আমার সঙ্গে গিয়া লায়লীকে মামাইয়া লইল। ভাড়া দিয়া গরুর গাড়ী বিদায় করিলাম। বউ বলিতে লাগিল, “হাঁ গা ? কি হয়েছে বল না ? কে ও ? কোথায় পেলে ওকে ?” আমি বলিলাম, “সে অনেক কথা। রাত্রে শয়ে শয়ে বলবো। এখন কিছদ খাবার যোগাড় কর দেখি। সারাদিন অন্নের মুখ দেখিনি।” বউ তাড়াতাড়ি আলভাতে ভাত চড়াইয়া দল। সারাদিনের পর তৃপ্তিপবেক আহার করিয়া দেহে প্রাণ আসিল । ছোট ঘরে হিরণের জন্য বউ শয্যা রচনা করিয়া তাহাকে শয়ন করাইয়া আসিল। গ্রাম ছাড়িবার পর যাহা কিছু ঘটিয়াছিল, সংক্ষেপে সমস্তই তাহাকে বলিলাম। শনিয়া বউ খানিকক্ষণ অবাক হইয়া রহিল। তার পর বলিল, “হ্যাঁ গা, তারা সব বড়লোক, রাজা-উজীর, তোমায় কোনও বিপদে ফেলবে না ত ?” বলিলাম, “বিপদ কিসের ? কোনও মন্দ কাজ ত আমি করিনি,—ভাল কাজই করেছি। তার জন্যে বিপদ হবে কেন ? তুমিও যেমন, কি ক’রেই বা তারা আমাদের সন্ধান পাবে ?" শেষে বউ বলিল, “কাল সকালে পাড়ার লোক যখন হিরণকে দেখে জিজ্ঞাসা করবে এ মেয়েটি কে, তখন কি বলা যাবে?” আমি ভাবিতে লাগিলাম, কিন্তু কিছই কলকিনারা পাইলাম না। অবশেষে বউ বলিল, “দেখ, বলা যাবে, তোমার যেখানে চাকরি হয়েছে, সেই মানবের মেয়ে। চিরকাল কলকাতায় মানুষ, কখনও পাড়া-গাঁ দেখেনি, তাই পাড়া-গাঁ দেখতে এসেছে। কাল সকালে উঠেই ওকে আমি শিখিয়ে পড়িয়ে ঠিক করে নেবো ।” বদ্ধির তারিফ করিলাম। বাসতবিক, সদগোপের ঘরের মেয়ে, তায় মোটে ১৮ বছর বয়স, এরপ তীক্ষাবধি সচরাচর দেখিতে পাওয়া যায় না। বউয়ের সঙ্গে হিরণের খুব ভাব হইয়া গেল। প্রথম দিন হইতেই হিরণ মন্দাকে বউদিদি সম্বোধন করিতেছিল। দিন পনেরো পরে একদিন প্রভাতে উঠিয়া দেখি, বাড়ীর চারিদিকে পলিস ঘেরাও করিয়াছে। কলিকাতা হইতে ডিটেকটিভ ইনপেক্টর আসিয়াছে। ওয়ারেটের বলে তাহারা হিরণকে এবং আমাকে গ্রেপ্তার করিয়া কলিকাতায় লইয়া চলিল। হিরণের জন্য পাকেীর বন্দোবসত তাহারা পর্বেই করিয়া রাখিয়াছিল। সাত পরদিন বেলা ১০টার সময় তাহারা আমাদিগকে লালবাজারে আনিয়া এক বাঙ্গালী ডেপুটী কমিশনরের নিকট হাজির করিল। ডেপুটী কমিশনরবাব আমায় প্রশন করিতে লাগিলেন; আমি আমল বত্তান্ত সমস্তই খোলাখলি বলিয়া দিলাম। একজন দেশীয় করদ নপতি এ ব্যাপারে জড়িত শনিয়া বাবটি কিয়ৎক্ষণ হতভম্ব হুইয়া বসিয়া রহিলেন। তার পর তিনি উঠিয়া গেলেন। 4 H Ꮌ Ꮌ Ꮼ