পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করলেন। কিন্তু তাঁর প্রতি কথায় আমার মাথা কাটা যেতে লাগল।” বড়বধ ঘড়ির পানে চাহিলেন। বলিলেন—“কাল আবার সব গল্প হবে ভাই, আজ রাত্তির হল—কুমিকে নিয়ে আসি।” চার বলিল—“কাল আমি থাকব বুঝি? ভোরে উঠে অন্ধকারে অন্ধকারে চম্পট।" বড়বধ কৃত্রিম রোষের সহিত বলিলেন—“খবরদার চার-অমন কাজটি কোরো না— তা হলে পড়াশুদ্ধ ঢাক পিটিয়ে দেব, খবরের কাগজে পয্যন্ত তুলিয়ে দেব।” চার অত্যন্ত শিহরিয়া বলিল—“না না মাফ করন, মাফ করন, বিনা অনুমতিতে আমি যাব না ;" "এই সবধির কথা বলেছ। যাই কুমিকে তুলে অনি।" এই বলিয়া বউদিদি প্রস্থান করলেন । চার বসিয়া একখানা পসতক উলটাইতে লাগিল। কিয়ংক্ষণ পরে বহিরে ঝম বমে করিয়া মলের শব্দ উঠিল। চারর বক্ষশোণিতও সেই তালে তালে নত করিতে লাগিল। দয়ারের কাছে আসিয়া মলের শব্দ থামিয়া গেল। বড়বধর সবর শনা গেল, রাগিয়া বলিতেছেন—“দাঁড়ালি কেন লা পোড়ারমখি ? সঙ আর কি। দিনে দিনে কাঁচ খলকি হচ্ছেন। দেখে আর বাঁচিনে।” এই বলিয়া তিনি কুমদিনীকে ঠেলিয়া ঘরে ঢাকাইয়া দিলেন। বেটারি পড়িতে পড়িতে সামলাইয়া গেল। কাত্তিক, ১৩০৬ ] প্রিয়তম ll S it প্রিয়তমার সঙ্গে তরঙ্গিণীর সম্বন্ধটা একটু অদ্ভুত রকমের—তাহাকে ঠিক সখিত্ব বলা যাইতে পারে না। তাহারা পরস্পরের প্রতি প্রণয়ী ও প্রণয়িণীর মতই আচরণ করত। তাহাদের পয়গুলি প্রেমলিপি ছাড়া আর কিছুই নহে। তাহাতে অাদর সোহাগ ও মান অভিমানের প্রাচ্য থাকিত। দেখা হইলে দুইজনে নিভৃত স্থানে গিয়া উপবেশন করিত; কোনও তৃতীয় ব্যক্তির সাক্ষাতে তাহদের মখে কথা ফটিত না। তরঙ্গিণী কতদিন প্রিয়তমার গলা ধরিয়া জিজ্ঞাসা করিয়াছে—প্রিয়, ভাই, আমাকে বেশী ভালবাসিস না তোর বরকে ? প্রিয়তমা বলিয়াছে—তোকে। একদিন প্রিয়তমা তাহার স্বামীর প্রতি অধিক । অনরোগ ব্যক্ত করিয়াছিল, সেদিন আর তরঙ্গিণী অন্নজল মখে তুলিল না। কত করিয়া তবে প্রিয়তমা সখীর মান ভাংগাইল। সেই অবধি প্রিয়তমা কপটতাচরণ আরম্ভ করিয়াছে। তরঙ্গিণী সপ্তদশবষীয়া যাবতী। তাহার পরিধানে কালাপেড়ে দেশীয় সক্ষম বসন এবং হাতে সোণার চড়ী আছে বটে, কিন্তু সীমন্তে সিন্দর নাই। আট বৎসর বয়সে বিবাহিত হইয়া নয় বৎসর বয়সে সে বিধবা হইয়াছে। তরঙ্গিণী যখন প্রথম বশরগহবাসে আসে, তখন তাহার সঙ্গিনীর মধ্যে ছিলেন শুধ শ্বাশুড়ী ও দিদিশবাশুড়ী। প্রিয়তমা তাহদের প্রতিবেশিনী, কিন্তু তাহার সাহচয্য লাভ প্রথমেই হয় নাই, সেও তখন নিজ শবশরোলয়ে ছিল। প্রিয়তমা ফিরিয়া আসিলে প্রথম সাক্ষাতেই তরঙ্গিণী তাহাকে ভালবাসিল। বিধবা বালিকা তাহার ক্ষধিত হাদয়ের সমস্ত ভালবাসা সখীর প্রতি আপণ করিল। তাহাকে সে কখনও ডাকিত প্রিয় বলিয়া, কখনও বলিত প্রিয়তম। চিঠিতেও তাহাকে প্রিয়তমা না বলিয়া, প্রিয়তম বলিয়া সম্বোধন করত। প্রতি সন্ধায় নিজ নিজ ছাদে উঠিয়া পরস্পরের সহিত দেখা হইত, তাহা ছাড়া তরঙ্গিণী প্রতিদিন প্রিয়কে চিঠিও পাঠাইত। তরঙ্গিণীর মবশরোলয়, কিন্তু প্রিয়তমার পিত্ৰালয়। প্রিয়তমা মনে করিলেই তরঙ্গিণীর × o ტ