পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কি চঞ্চলতা আসিয়া বকের ভিতর দৌরাত্ম্য করিত ! আর আজ এ কি ভাব! ভাবিতে ভাবিতে সরোজার মুখখানি যেন মেঘ করিয়া আসিল । শ্ৰীবিলাস কাছারি হইতে ফিরিলেন। প্রথমেই বাহিরে সতীশের সাক্ষাৎ পাইয়া সমস্ত অবগত হইলেন। বাড়ীতে প্রবেশ করবেন-পা যেন উঠে না! সরোজার সঙ্গে দেখা হইল। উভয়ের তখনকার মনের ভাব ক্ষে বর্ণনা করিবে ? অনেক পরাতন কথা মনে আসিয়া উভয়ের চক্ষে জল বহাইল। সেই রাত্রি সে দম্পতির কি ভাবে কাটিল কে বলিতে পারে ? দিনের দিন দিন গেল, সংসার চলিতে লাগিল: - কাহারও মনে সুখ নাই, মখে হাসি নাই; অথচ উভয়ে স্বামী সত্ৰী সাজিয়াই সংসার করিতে লাগিল। আমার পাঠকেরা না হউন, পাঠিকারা নিশ্চয়ই শ্ৰীবিলাসের কৃত দকমের প্রতিফন্সকবরপ তাহার জীবনব্যাপী যন্ত্রণার চিত্র দেখিবার জন্য প্রতীক্ষা করিতেছেন। কিন্তু তাহ হইতে পাইল না। শ্ৰীবিলাসের নবপরিণীতা বধটি বঙ্গদেশের এক নিভৃত গ্রামে, জর ও প্লীহায় ভুগিতেছিল। হঠাৎ একদিন তাহার মৃত্যু সংবাদ আসিল। শ্রীবিলাস বিবাহ করিয়া অবধি শুভদটির বসাবরণ মধ্যে ভিন্ন সে সন্ত্রীর সাক্ষাৎ পান নাই। ফলশয্যার রাত্রে কম্প দিয়া তাহার ত ভারি জম্বর আসিয়াছিল। তাহাৰ মৃত্যুতে শ্রীবিলাসের কোনও কট হইবার কথা নহে। আমাদের সরোজবাসিনীও আদশ* রমণী নহেন; তিনি সপত্নীর মৃত্যু সংবাদে খসী হইয়া দাস দাসীকে বখসিস এবং দেবতাকে হরিনটে দেন নাই বটে;–কিন্তু তাহার পর হইতে হাসিতে গল্পেতে মনেৱ প্রফুল্লতা ও লঘভাবের যথেস্ট পরিচয় দিতে সংকুচিত হইতেন না। ইহা দেখিয়া শ্ৰীবিলাসেরও অনতাপক্লিন্ট মুখমণ্ডলের বিবণতা দিন দিন দরে হইতে লাগিল। এখন হইতে এই দম্পতি, প্রত্যেক উপকথার নায়ক নায়িকার মতই, সখে ঘর সংসাৱ করিতে লাগিলেন। কিন্তু প্রভেদ এই যে, শ্ৰীবিলাস এখনও রাজালাভ করিতে পারেন নাই ; এবং শত পত্রের একটি মাত্র এ পয্যন্ত পথিবীর আলোক দশন করিতে পাইয়াছে। বৈশাখ, ১৩o৫ ] বেনামী চিঠি প্রথম পরিচ্ছেদ কত সামান্য তুচ্ছ ঘটনার মলভিত্তির উপর কত বড় বড় ব্যাপারের প্রতিষ্ঠা হয়, তাহা চিন্তা করিলে বিস্ময়ের অবধি থাকে না। কথিত আছে, কোনও দেশের রাজা মগয়া করিতে যাইবার মানসে ভৃত্যকে অশব সজিত করিতে তাজ্ঞা দেন। ভূত্য যখন এই কায্যে ব্যস্ত ছিল, তখন তাহার শিশুপত্র আসিয়া মিঠাই খাইবার জন্য মহা অাদার আরম্ভ করে। পিতা বিরক্ত হইয়া পত্রকে চপেটাঘাত করিল, ইহাতে সেই কন্ধ শিশু একটা বংশদণ্ড তুলিয়া পিতার পদে নিক্ষেপ করিল। আঘাতের যন্ত্রণায় ও মনের বিরক্তিতে ভূত্য ভাল করিয়া জিন কষিতে পারিল না। এই কটিবশতঃ মগয়াকালে অশবপষ্ঠ হইতে পড়িয়া গিয়া রাজার মৃত্যু হয়। পরবত্তী রাজাটি ভয়ানক অত্যাচারী হইল। দেশসন্ধ লোক তাহার কু-শাসনে অশ্রুপাত করিতে লাগিল। অবশেষে একটা ভয়ঙ্কর বিদ্রোহ উপসিথত হইল, সহস্ৰ সহস্ৰ লোক মৃত্যুমুখে পতিত হইল, শত শত গহ দগধ হইয়া গেল,—এক কথায়, রাজ্যটা লণ্ডভণ্ড হইয়া গেল। এখন এত বড় একটা বাপারের মল ধারণ অনুসন্ধান করিতে করতে, সেই সাহসপত্রের সন্দেশ খাইবার লোভে আসিয়া পোছতে হয় —আমাদের এই আখ্যায়িকাটিতেও একটি সামান্য ঘটনায় একটি বৃহৎ ফল ফলিয়াছিল। বন্ধিহীনা বালিকার লিখিত একখানি দই তিন ছত্র বেনামী চিঠিতে, একটি মনুষ্যজীবনের গতি আশ্চৰ্যরাপে ভিন্নদিকে ধাবিত হইয়াছিল। যাহা হউক, এখন Ꮌ ☾