পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছেলেটি তখন সভয় পদবিক্ষেপে ভিতরে গিয়া বাবর সম্মখে দাঁড়াইল। গড়গড়ি টানিতে টানিতে গহমবামী তাহার আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করিয়া বলিলেন, “কি হে” ছোকরা, তুমি কি চাও বল দেখি ?” যবেক বলিল, “আজ্ঞে, একটা চাকরী-বাকরী।” “লেখাপড়া জান ?” “আজ্ঞে, বাংলা জানি। দেশে থাকতে ছেলেবেলায় গর মশাইয়ের পাঠশালে পড়েছিলাম কিছুদিন। নিকতে পড়তেও জানি, হিসেব নিকতেও পারি। বড় গরিব, দিন চলে না, তাই কলকাতায় এসেছি একটা চাকরি-বাকরির চেষ্টায়।” “থাক কোথায় ?” “আজ্ঞে কালীঘাটে আমাদের দেশের একজন—” বাব বাধা দিয়া বলিলেন, “বাজার সরকারী-টরকারী এই রকম একটা কোন চাকরী খজৈছ বোধ হয় ? তা বাপ, বাজার সরকার ত আমাদের থাকে না। বেয়ারার কাজ করতে রাজী হও ত বল। আমার বেয়ারা কাজ ছেড়ে চলে গেছে। কি জাত তুমি, নাম কি তোমার ?” “আজ্ঞে আমার নাম শ্রীকানাইলাল নন্দী। আমরা কায়স্থ । অনা কোনও কাজ যদি খালি না-ই থাকে, তবে বেয়ারার কাজই আমায় দিন বাবা। তব ত দটো খেয়ে পরে বাঁচবো ।” “এখানে খাবে কি করে ? এখানে ত বাবচ্চিতে রাঁধে। আমি ত হিন্দ নই,— ক্লিশচান ।” “আজ্ঞে সে কথা বলিনি। মাইনে পাব ত, সেই টাকায় খাব পরবো। আমায় কি করতে হবে বাবমেশাই ?” “এই, বেয়ারার যা কাজ-বাড়ীর সব আসবাবপত্র বাড়পোঁচ করা, ঘরে ঘরে বিছানা ঠিক করা, রপোর বাসন-টাসনগুলো মজা ঘষা, মিস বাবাকে কলেজে দিয়ে আসা নিয়ে আসা, বিকেলে ছোট ছেলেমেয়েদের পকে নিয়ে গিয়ে একটা বেড়িয়ে আনা--এই রকম সব কাজ আর কি ?” “মাইনে কত পাব হজের ?” “কুড়ি টাকা। এ পাড়ার বাঁধা রেট।” কানাই মহত্তকাল কি ভাবিল। তার পর বলিল, “আচ্ছা যে আজ্ঞে হাজর, কবে থেকে আসবো তা হলে ?” বাব বললেন, “কাল ইংরেজি মাসের পয়লা তারিখ। কাল থেকে কাজে লাগো। ঠিক সাড়ে ছটায় আসতে হবে রোজ। সাতটায় আমি উঠি, আমায় তামুক-টামাক দিতে হবে। রাত্রে ডিনার হয়ে গেলে তার পর তোমার ছয়টি। মাঝে অবশ্য দপুরবেলা দন তিন ঘণ্টার জন্যে তোমায় খেতে ছটি দেওয়া যাবে। কাজ খুব হালকা—তবে সব্বদা হাজির থাকা চাই। কাল সকালে এসে, খানসামাকে বলবে, তোমার উদ্দি দেবে। পাগড়ী, চাপকন আর ধতি। এ সব ছেড়ে রেখে সেই উদি পরে কাজ করবে।”—এই বলিয়া তিনি টেবিলের উপর রক্ষিত বিদ্যুৎ ঘন্টার বোতাম টিপিলেন। খানসামা আসিয়া দাঁড়াইল। এই নবনিযুক্ত বেয়ারা সম্বন্ধে নিজ আদেশ জ্ঞাপন করিয়া কানাইকে বললেন, “আচ্ছা, এখন তুমি যেতে পার।” কানাই আবার ঝকিয়া প্রণাম করিয়া সে কক্ষ হইতে বাহির হইল। গাড়ীবারান্দা হইতে নামিয়া, চারিদিকে চাহিতে চাহিতে ধীরপদে অগ্রসর হইয়া, বাড়ীর পিছন দিকে গেল। অদরে বাবচ্চিখানা, সেখান হইতে মাংস রান্নার গন্ধ আসিতেছে। সেই গন্ধে ক্ষুধাতুর যুবকের চিত্ত উত্ত্বোত হইয়া উঠিল। বাটীর পশ্চাতের বারান্দায় খানসামা বসিয়া একরাশ কাচের গেলাস বাড়ন সহযোগে পরিকার করিতেছিল। কানাই সেখানে - })వ - - -