পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গিয়া বলিল, “খানসামাজী তুমকো নাম কেয়া ?” খানসামা হাসিয়া বলিল, “নাম কেয় ? তুমি আমাকে খোট্টা তজবিজ করলে নাকি ? আমার নাম গোলাম রসলে, আমি বাঙ্গালী মুসলমান, হুগলি জেলায় চেড়াগাঁয়ে আমার ঘর। তোমার নাম কি ? ধর কোথায় ?” কানাই নিজ নাম ও নিবাস বলিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “এখানে বাবর কে কে থাকেন ?” খানসামা উত্তর করিল, “বাব । বাব কে ? সাহেবের কথা পাছ করছ ? বাব বোলো না, সাহেব গোসসা হবে।” “বটে, তাই নাকি ? তা আমি ত জানতাম না খানসামাজী। ধতি পরে তামাক খাচ্চেন দেখে আমি ত বাব বলে ফেলেছি!” “উনি কি তোমাদের হেদ ইশাই যে ! সাহেব বলবে। সাহেবের মেম নেই, এন্তেকাল করেছে। এ কুঠিতে সাহেবের দুই বেটী, এক বেটা থাকে। ছোট সাহেবের এখনও সাদি হয়নি। ছোট মিস বাবারও সাদি হয়নি। বড় দামাদ সরকারী কাজে বিলায়েং মলকে গিয়েছে, তাই বড় বেটী এখন বাপের কাছে থাকে। তার দই লেড়কা তিন লেড়কী । ব্যস।” বলিয়া খানসামা সজোরে কাচের গলাসে ঝাড়ন ঘষিতে লাগিল। বলিল, “যাও দেখি, এই টেরের উপর সফ গেলাসগুলো রয়েছে, এগুলো ঐ খানাকামরায় রেখে এস । দেখো, ফেলে দিয়ে ভেঙ্গো না যেন।” কানাই সাবধানে ষ্ট্ৰে তুলিয়া লইয়া খানাকামরায় প্রবেশ করিল। দেখিল, টেবিলের উপর দুইটি চীনামাটীর পাত্রে অনেকগুলি আপেল ও ন্যাসপাতি সাজানো রহিয়াছে। বাহিরে আসিয়া কানাই আবার খানসামার নিকট বসিয়া, সাহেব ও তাঁহার পরিবারবগ সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহে প্রবক্ত হইল। অপেক্ষণ পরে বাবচ্চিখানা হইতে শব্দ আসিল, “রসল ভাই-জেরা এদিকে আয় एल !” রসল, হাতের গলাস নামাইয়া রাখিয়া প্রস্থান করিল। এই সুযোগে কানাই চট করিয়া খানাকামরায় প্রবেশ করিয়া একটা ন্যাসপাতি ও দুইটা আপেল নিজ পকেটে পরিয়া বাহিরে আসিয়া, আবার যথাস্থানে বসিল। মিনিট পাঁচেক পরে রসলে ফিরিয়া আসিল । কানাই তখন দড়িাইয়া উঠিয়া বলিল, “আচ্ছা, এখন আসি তবে, বেলা হল। সেলাম ভাইসাহেব।” “সেলাম। কাল বিহানে এসে, আমার কাছ থেকে তোমার উদ্দি চেয়ে নেবে। সাবন দেবে, হাতম আচ্ছিতরে ধয়ে, উদি পরে আপন কামে যাবে। সাহেবলোক ময়লা একদম দেখতে পারে না—খব সাফাই চায় ।” “আচ্ছা”—বলিয়া কানাই প্রস্থান করিল। কিছ:দর গিয়াই পদ্মপুকুর। ঘাটে নামিয়া, পকেট হইতে ফল তিনটি বাহির করিয়া জলে ধাইয়া লইয়া, বেটিসদ্ধ খোসাসদ্ধে কামড় মারিয়া গোগ্রাসে চিবাইতে লাগিল। ফল তিনটি নিঃশেষ করিয়া পদ্মপকূরের জল অঞ্জলি অঞ্জলি পান করিল। হাত পা ধুইয়া উপরে আসিয়া ছায়াতলে একখানি বেঞ্চি দেখিয়া, তাহার উপর শয়ন করিল। ঝির ঝির করিয়া বাতাস বহিতেছিল; কানাই অবিলম্বে ঘুমাইয়া পড়িল । দই চাকরিতে ভত্তি হইবার এক সপ্তাহ পরে, কানাই অতি প্রাতে প্রভুর প্রবেশ করিবার সময় ফটকের বাহিরে একটি "মনিব্যাগ” কুড়াইয়া পাইল। সেটি বাগানে লেবগাছের আড়ালে দাঁড়াইয়া খলিয়া দেখিল, ভিতরে দইখানি দশ টাকার এবং খুচরায় তিন টাকা কয়েক আনা রহিয়াছে। তার মনের মধ্যে প্রলোভন হইল, গলি সে আত্মসাৎ করে। নোট ও টাকাগুলি বাহির করিয়া লইয়া, ব্যাগটা রাস্তায় ১২০ গাহে লইয়া নোট টাকা