পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ফেলিয়া দিলেই হইল। কিন্তু তাহার মনে একটু বিধাও উপস্থিত হইল। ছি ছি— শেষকালে চরি৷ একদিন পেটের জালায় ফল চরি করিয়া খাইয়াছিল বটে। কিন্তু টাকা চরি একান্ত গহিত কম হইবে যে ! খুব সম্ভব, বড় সাহেব কিংবা ছোট সাহেবেরই এ ব্যাগ। বড় সাহেবের বোধ হয় নয়, ছোট সাহেবেরই হইতে পারে। কারণ গত রাত্রে বড় সাহেব ত কোথাও বাহির হন নাই; ছোট সাহেবের বাহিরে নিমন্ত্রণ ছিল, কানাই যখন বাড়ী যায়, তখনও তিনি ফেরেন নাই—তিনিই বোধ হয় বাড়িতে প্রবেশ করিবার সময় অসাবধানে এ ব্যাগ ফেলিয়া গিয়াছেন। নাং, লোভ করিয়া দরকার নাই, —তামাক দিতে গিয়া এ ব্যাগ বড় সাহেবের নিকট দাখিল করিতে হইবে। কানাই লোভ রিপকে জয় করিল। বড় সাহেবের নিকট ব্যাগটি দিল। - সে ঠিকই অনমান করিয়াছিল। ছোট সাহেব গতকল্য রাত্রি ১২টার সময় তাঁহার ক্লাব হইতে ডিনার খাইয়া বাড়ী ফিরিয়া, ট্যাক্সিওয়ালকে ভাড়া দিবার জন্য ব্যাগটি তাঁহার পাংলনের পকেট হইতে বাহির করিয়াছিলেন। তারপর, ভাড়া দিয়া, উহা পাৎলনের পকেটে রাখতে গিয়া মাটিতে পড়িয়া যায়। সাহেবের তখন বিলক্ষণ মৰ্ত্তাবস্থা–ব্যাগ পড়া খেয়াল করিতে পারেন নাই। পিতার অনুরোধে ছোট সাহেব কানাইকে তাহার এই সাধতার জন্য দুইটি টাকা বখশিস করিলেন । এই ঘটনার পর হইতে, কানাইয়ের পশার এ বাড়ীতে খাব বাড়িয়া গেল। তা ছাড়া নিজ কাজকমেও দিন দিন সে বেশ নিপুণতা দেখাইতে লাগিল। তেতুলায় একটি মাত্র ঘর,—সেই ঘরে ছোট সাহেব শয়ন করিতেন। সে ঘরে বাড়ীর অন্য কেহ সচরাচর প্রবেশ করিত না। একদিন বড় সাহেব ছোট সাহেব আপিসে চলিয়া যাওয়ার পর, কানাই তাঁহাদের ঘর ঠিক করিতেছিল। ছোট সাহেবের ঘর ঠিক করিতে গিয়া হঠাৎ তাহার নজরে পড়িল, আলমারির গায়ে চাবিটি লাগানো রহিয়াছে। সে তৎক্ষণাৎ আলমারি চবিবন্ধ করিয়া, চাবি নিজের কাছে রাখিল। কালীঘাটের বাসা হইতে আহার সারিয়া কানাই বেলা দুইটার সময় ফিরিয়া আসিত। আজি সে সময় ফিরিয়া দেখিল, বড় মেম সাহেব (বানাজি সাহেবের জ্যেঠা কন্যা) নিজ শয়নকক্ষে বার বন্ধু করিয়া রহিয়াছেন—বিপ্রহরে তিনি কিয়ৎক্ষণ নিদ্রা গিয়া থাকেন। মিস বাবাও কলেজে রহিয়াছেন। কি মনে করিয়া, কানাই তেতলায় গিয়া ছোট সাহেবের শয়নকক্ষে প্রবেশ করিল। চাবি লইয়া আলমারিটি খলিল। থাকে থাকে পোষাক সজিত রহিয়াছে। আলমারির মধ্যভাগে তিনটি দেরাজ। সেগুলি একে একো টানিয়া খলিল। একটা দেরাজে লাল সীতায় গাঁথা এক তাড়া নোট রহিয়াছে। নোটগুলি গণিয়া দেখিবার জন্য সে উঠাইল, কয়েকখানি গণনাও করিল, তার পর কি মনে করিয়া সেগুলি রাখিয়া দিয়া আবার দেরাজটি বন্ধ করিয়া দিল। লাল সন্তাটি খলিয়া গিয়াছিল, ইহা সে লক্ষ্য করে নাই। পোষাকগুলির পানে চাহিয়া তাহার বড় লোভ উপস্থিত হইল। এক প্রস্থ পোষাক নামাইয়। লুইল। তার পর সেগুলি একটি একটি নিজ অঙ্গে পরিধান করিল। বড় আয়নার সামনে দাঁড়াইয়া নেকটাই বধিল । ভাল হইল না। কয়েকটা হ্যাট ছিল, তাহার মধ্যে পছন্দসই একটা লইয়া মাথায় দিয়া, আয়নার সামনে দাঁড়াইয়া নিজ প্রতিবিম্ব নিরীক্ষণ করিয়া খসিতে তাহার মনটি ভরিয়া উঠিল। মনে হইল, একটা কি যেন অঙ্গহানি হইতেছে। ঠিক ঠিক। ছোট সাহেবের সিগারেট একটা লইয় তাহা ধরাইল। পাংলনের বাঁ দিকের পকেটে বাম হস্ত প্রবেশ করাইয়া দিয়া, সিগারেট টানিতে টানিতে ঘরের মধ্যে গবিত ভাবে পদচারণা করিতে করিতে, আয়নায় নিজ মাত্তি পর্যবেক্ষণ করিতেছিল এবং হাসিতেছিল, এমন সময় হঠাৎ বার খোলার শব্দ পাইয়া চমকিয়া দেখিল, ছোট সাহেবের জ্যেষ্ঠ সহোদরা দড়িাইয়া! ভয়ে তাহার প্রাণ উড়িয়া গেল। মেমসাহেব রক্তিমনেত্রে কম্পিত ধ্রুবরে বলিলেন, > R》