পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“বেয়ারা। আচ্ছা, সাহেবরা আসন, তার পর মজা দেখতে পাবি!”—বলিয়া তিনি প্রস্থান করিলেন । ছোট সাহেব বাড়ী আসিয়া ভগিনীর নিকট এই ব্যাপার শনিয়া ত রাগে আগন হইয়া উঠিলেন। পিতার নিকট গিয়া তাঁহাকে সব কথা জানাইয়া বলিলেন, “বাবা আজই ওকে ডিসমিস করন।” ব্যানাজি সাহেব কন্যার নিকটও সকল বক্তান্ত শুনিলেন। শনিয়া পত্রকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “তোমার সে পোষাক ছিল কোথায়? আলমারির ভিতরে ?” “হ্যা।” "বেয়ারা চাবি পেলে কোথা ?” "চাবি, আমি আপিস যাবার সময় ভুলে আলমারিতে লাগিয়ে রেখে চলে গিয়েगिष्ट्रक्षाश ।” “আলমারিতে টাকাকড়ি কিছু ছিল নাকি ?” “আজ্ঞে হ্যাঁ। কাল মাইনে পেলাম—১৭০ টাকা সমস্তই ঐ আলমারিতে ছিল।” “সে টাকা আছে কি না, খোঁজ করেছ ?” - “আন্দ্রে না, দেখে আসি।”—বলিয়া তিনি উপরে গেলেন। পাঁচ মিনিট পরে ফিরিয়া আসিয়া বলিলেন, “না, টাকাকড়ি ঠিক আছে। তবে নোটগলো একুসঙ্গে গাঁথা ছিল সেগুলো নিশ্চয়ই ও খালেছিল—এলোমেলো হয়ে রয়েছে ” ব্যানাজি সাহেব হাসিতে লাগিলেন। বলিলেন, “দেখ, ইচ্ছা করলে বেয়ারা সমস্ত টাকাগুলি চরি করে নিতে পারতো। নিয়ে, তোমার চাবি কোথাও ফেলে দিলে, ওকে ধরে কে ? তুমি নিজেই মনে করতে চাবি তুমি কোথায় হারিয়ে ফেলেছ –টাকা চরির প্রলোভন সে জয় করেছে। শুধু আজ বলে নয়। সেবার গেটের কাছে তুমি তোমার পাস ফেলে এসেছিলে, তাতে কুড়ি টাকা না পাঁচশ টাকা ছিল, ইচ্ছা করলে ও স্বচ্ছন্দে গাপ করতে পারতো, কিন্তু তা করেনি। পোষাক পরে সাহেব সাজলে নিজেকে কি রকম দেখায়, তাই দেখার লোভটকু মাত্র ও জয় করতে পারেনি। ওটা নিছক ছেলেমানুষী বই আর কিছুই নয়। ওকে কি সেই জন্যে ডিসমিস করা ন্যায়বিচার হবে ? তোমরাই বল। পত্র কন্যা, পিতার মতে মত দিতে বাধ্য হইলেন। ব্যানজি সাহেব তখন কানাইকে ডাকিয়া পাঠাইলেন। কৃত্রিম রোষে তাহার উপর তজন গজন করিলেন। নিজ হাতে নিজ কাণ মলিয়া, নাকে খৎ দিয়া কানাই সে যাত্রা রেহাই পাইল । তিন ছোট মিস সাহেবের নাম বীণা ব্যানাডিজ। মেয়েটি বেশ সন্দরী। তাহার বয়স সতেরো বৎসর—ডায়োসীজন কলেজের ছাত্রী। শাড়ী ও জতা মোজা পরিয়া পদব্রজেই সে কলেজে যায়। কানাই তাহার বহি খাতাগলি বহন করিয়া লইয়া যায়। এবং চাৱ ঘটিকার সময় কলেজে গিয়া তাহাকে বাড়ী লইয়া আসে। কলেজে যাইবার পথে একদিন কানাই দেখিল, ইংরাজি পরিচ্ছদে এক বাঙ্গালী যবক অপর দিক হইতে আসিতেছে। বীণাকে দেখিয়া সে টপোঁ তুলিল, এবং পথের পাশেব দড়িাইয়া দুই এক মিনিট মাত্র কথা কহিয়া, তাহার হাতে একখানি চিঠি গজিয়া দিয়া চলিয়া গেল। বীণা সে চিঠি ব্লাউজের বকের ভিতর প্রবেশ করাইয়া দিল। ঠিক পরদিন সেই সময়ে সেই প্ৰথানেই আবার সেই যুবকের সহিত দেখা। এবার বীণা তাহার সহিত দুই চারিটি কথা কহিয়া, তাহার হাতে একখানি চিঠি দিল। কানাই মনে মনে বলিল, “কে এ লোকটা ? কই কুঠীতে কোনও দিন আসে না ত ”—অথচ, মিস বাবাকে এ ৱিষয়ে কোনও কথা জিজ্ঞাসা করাও যায় না। , এইরুপ পর চাল-চালি মাঝে মাঝে হইতে লাগিল। এ বিষয়ে কানাইয়ের কৌতুহলও ১২২