পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চার ব্যানাজি সাহেবের যাত্রার দুইদিন পবে কানাই আবার ডাকে ফেলিবার জন্য মিস বাবার ঐরাপ আর একখানি পত্র পাইল । পড়িয়া দেখিল, বীণা পলায়নের দিন সিথর করিয়া লিখিয়াছে—পিতার যাত্রার তিন দিন পরে, বেলা একটা চল্লিশের গাড়ীতে সে হাওড়া হইতে রওয়ানা হইবে। সাহেব যেন চন্দননগর স্টেশনে উপস্থিত থাকেন। এই পত্র পড়িয়া কানাই অতলত চটিয়া গেল। বড় বাপের অমতে, তাঁর মনে দুঃখ দিয়া, ধোপার ছেলেকে বিবাহ না করিলেই কি নয় ? মনে মনে বলিল, “দাঁড়াও তোমায় জব্দ করছি আমি।” স্থির করিল, ইহা ডাকে দেওয়া হইবে না, ইহা সাহেবকে দেখানোই উচিত। পত্ৰখানি সে রাখিয়া দিল। 3 অনাদিন রাত্রি ৯টায় সকলের ডিনার শেষ হইলে, কানাই ছুটি পায়। দশটা না বাজিলে ব্যানজি সাহেব শয়ন করিতে যান না। সাহেবের প্রবাস যাত্রর জন্য কাপড়চোপড় গুছাইবার অছিলায় কানাই বাসায় গেল না। -------- রান্ত্ৰি ১০টা বাজিলে ব্যানাডিজ সাহেব শয়নকক্ষে প্রবেশ করলেন। অন্য দিন কানাই তাহার তামাকু সাজিয়া পালকের পাবে রাখিয়া যায়, শয়নকালে ব্যানাজি সাহেব দেশলাই জালিয়া অগ্নিসংযোগ করিয়া ল’ন। আজ নিজেই সে কলিকা ধরাইয়া আনিয়া, মনিবের শয্যাপাশেব রাখিয়া বলিল, “হজর, আমার বেয়াদপি মাফ করবেন, এই চিঠিখানি পড়ে দেখনে ৷”—বলিয়া চিঠিখানি বিছানার উপর রাখিয়া নতমস্তকে দড়িাইয়া রহিল। - -- ব্যনাজি সাহেব খামের উপর কন্যার হাতের লেখায় সেই যুবকের নাম দেখিয়া ক্লদ্ধ হইয়া বলিলেন, “এ চিঠি কোথা পেলি তুই ?” কানাই বলিল, “মিস সাহেব এটা ডাকে লাগাবার জন্যে আমায় দিয়েছিলেন।” ব্যানাজি পত্র উলটাইয়া দেখিলেন উহা খোলা। পত্র পড়িতে পড়িতে ক্লোধে তাঁহার মুখ রক্তবর্ণ ধারণ করল। পাঠশেষে চিঠি হাতে প্রায় দই মিনিট কাল তিনি তবধ হইয়া বসিয়া রহিলেন। তারপর জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুই খলেছিস বুঝি ?” “হােজর! চিঠি পড়ে ভাবলাম, যাঁর নন খাই, তাঁর কোনও অনিষ্ট জেনে শনে হতে দেওয়া আমার কত্তব্য হবে না। তাই এ চিঠি ডাকে না লাগিয়ে হজরকে দেখাবার জন্যে রেখেছি।" “তা বেশ করেছিস—এতে আমি তোর কাছে উপকৃত হলাম। না হয় খন্টানই হয়েছি, বামনের ছেলে হয়ে ধোবা জামাই প্রাণ থাকতে আমি করতে পারবো না। কিন্তু "ভাল কথা, এ চিঠি তুই কাকে দিয়ে পড়িয়েছিস ?” “কাউকে দিয়ে পড়াইনি হজর। আমি নিজেই পড়েছি। শুধ এখানা নয়, দু'জনের অনেক চিঠিই আগে আমি পড়েছি। পালাবার পরামর্শ হচ্ছিল, তাও আমি জানতে পেরেছিলাম কিছ দিন আগে।” “কিন্তু এ যে ইংরেজী চিঠি, তুই পড়লি কি করে ?” “আমি একটু একটা ইংরেজী জানি হজের। আমি ম্যাটরিক পাস করেছি।” “তুই ম্যাটরিক পাস ? তবে যে বলেছিলি, সামান্য বাঙ্গলা জানিস মাত্র।” “গেল বছর পাস করেছি। একটা কেরাণীগিরি-টিরির চেস্টাতেই আমি কলকাতায় আসি । কিন্তু অনেক চেটাতেও কোথাও কিছু জোটাতে পারিনি । শেষকালে ভাবলাম, দর হোক, যে চাকরি পাই সেই চাকরিই করবো। হাজরের বেয়ারার দরকার আছে শনে, তাই হজারের কাছে এসে চাকরি প্রাথনা করেছিলাম। লেখাপড়া শিখে বেয়ারার কাজ করবো, তাই নিজেকে মুখ বলে পরিচয় দিয়েছিলাম।” “আচ্ছা, এখন তুই যা। তোকে বেয়ারার কাজ বেশী দিন আর করতে হবে না। ছটির পর আপিস-টাপিস খুললে আমি তোর উপযুক্ত একটা চাকরি জটিয়ে দেবার ১২৪