পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঘড়ি অর্থে ঘটিকা-যন্ম নহে। উহা একজন ষোড়শী পাহাড়িয়া সুন্দরীর নাম। বায়-পরিবত্তান জন্য পাহাড়ে গিয়া সেই ঘড়িকে লইয়া মহা বিপদে পড়িয়ছিলাম, কেবল মা মঙ্গলচণ্ডীর কৃপায় সে বিপদ হইতে উদ্ধার হইয়া আসিয়াছি। কিন্তু সে কথা পরে বলিব, আগের কথা আগে বলাই ভাল। ইদানীং কিছুদিন হইতে আমার স্বামীর শরীরটা তেমন ভাল যাইতেছিল না, মাঝে মাঝে জর হয়, হজমের গোলমাল, রাত্রিতে ভাল ঘম হয় না--এইরুপ নানানখানা, ঔষধপত্রও খান, কিন্তু ফল তেমন পাওয়া যায় না। বয়স হইয়াছে (আমার হয় নাই, আমি তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের সী) তার উপর আপিসের হাড়ভাগা খাটনী, (তিনি আলিপরের হৈজরি হাকিম) সহ্য হইবে কেন ? তাই তাঁহাকে বলিলাম, “তোমার ছয়টি ত ঢের পাওনা , রয়েছে, মাস-তিনেকের ছটি নিয়ে দাজিলিঙ কি সিমলে পাহাড়ে গিয়ে হাওয়া বদলাবে ?” তিনি বলিলেন, “ছটি ত পাওনা আছে। কিন্তু ধর, দাডিজলিঙ কি সিমলে পাহাড়ে গিয়ে তিন মাস বাস করা, সে ত বিস্তর খরচ।” আমি বললাম, “টাকা আগে, না প্রাণটা আগে ?” বহয় তক-বিতকের পর অবশেষে তিনি স্বীকার করিতে বাধা হইলেন যে, প্রাণটাই আগে। এপ্রিল, মে ও জন তিন মাসের ছটীর দরখাস্ত করিলেন, এ-দিকে দাডিজ'লিঙে তাঁহার এক বন্ধকে চিঠি লিখিলেন, যেন মাসিক শখানেক টাকা ভাড়ায় একটি ভাল বাড়ী তিনি ঠিক করিয়া রাখেন। সংসারে আমাদের একটি ছেলে আর একটি মেয়ে। ছেলেটি ওঁর প্রথম পক্ষের, নাম সাধারকৃষ্ণ, আমরা ডাকি সধা বলিয়া। আমায় যখন উনি বিবাহ করিয়া আনিলেন, তখন সাধার বয়স নয় মাস মাত্র। আমিই সন্ধাকে মানুষ করিয়াছি। সন্ধা বড় হইয়া জানিয়াছে বটে যে, আমার গভে সে জন্মে নাই—কিন্তু তাহা মস্তিকের ভিতর জানিয়াছে মাত্র,–হৃদয়ের ভিতর সে জানে যে, আমি উহার জননী। সাধার বয়স একুশ বছর, সে বি-এ পড়িতেছে, আগামী বৎসর পাস দিবে। কন্যার নাম ইন্দিরা; কিন্তু আমরা ডাকি খাকী বলিয়া—যদিও সে নিতান্ত খাকী নহে, চৌদ্দ বৎসরের হইয়াছে, গোখলে মেমোরিয়াল স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। তাহার বিবাহ এখনও দিই নাই, মেয়ের ষোল বছর বয়স হওয়ার আগে বিবাহ দেওয়া উহার মত নয়। ছটা মঞ্জর হইয়াছে কিন্তু দাজিলিঙের বন্ধ চিঠি লিখিয়াছেন, দাজিলিঙে এবার অত্যন্ত ভাঁড়, একশো টাকার ভিতর ভাল বাড়ী পাওয়া যাইতেছে না, কাসিয়াঙে ঐ টাকায় ভাল ভাল বাড়ী পাওয়া যায়, যদি মত হয় ইত্যাদি। উনি বললেন, তবে চল, কাসিয়াঙেই যাওয়া যাক। সেইমত চিঠি লিখিয়া দেওয়া হইল। কয়েক দিন পরে পত্রের উত্তর আসিল—“আমি নিজে কাসিয়াঙে গিয়া, সেণ্ট মেরি পাহাড়ের গায়ে একখানি সন্দর বাড়ী ঠিক করিয়া আসিয়াছি, তিন মাসে দুই শত পঞ্চাশ টাকা ভাড়া দিতে হইবে। সেখানে আমার এক বন্ধ ডাক্তার গিরিজাবাব আছেন, তিনি অতি সদাশয় ব্যক্তি. তাঁহাকে বলিয়া আসিয়াছি কোন তারিখে পেপছিবেন, তাঁহাকে আপনি পত্র লিখিবেন, তিনি আপনার সমসত বন্দোবসত করিয়া দিবেন।” ইত্যাদি। গ্রীমাবকাশের জন্য কলেজ বন্ধ হইতে তখনও তিন সপ্তাহ বিলম্ব আছে, খাকীর ছুটী হইতে বুঝি এক মাস। উনি বলিলেন, খাকীর স্কুল কামাই হয় হউক, সাধার কলেজ কামাই করিয়া কাজ নাই, শেষে পাসেন্টেজের গোলমাল হইতে পারে। সন্ধা তাহার এক সহপাঠী বন্ধর সহিত বন্দোবসত করিল, তাহাদের বাড়ীতে থাকিয়া তিন সপ্তাহ সৈ কলেজ করিবে—কলেজ বন্ধ হইলে আমাদের নিকট যাইবে। আমাদের এক বামন-ঠাকুর আছে, রামখেলাওন নামে এক ভূত্য আছে এবং সতু বা সত্যবতী নামে এক ՖՀՀ,