পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ|8প আরম্ভ করি। আজ প্রায় দুই বৎসর হইল রামসন্দেরের বিবাহ হইয়াছে, কিন্তু অহো দভাগ্য — সে এখন পৰ্য্যন্ত একটিবারও স্বশুরবাড়ী যাইতে পাইল না। সে যখন বি-এ শ্রেণীর ছাত্র, তখন তাহার বিবাহ হয়। তখন পরীক্ষা সন্নিকট বলিয়া “যোড়ে" শবশরবাড়ী যাওয়া হয় নাই বিবাহের কিছুদিন পরে, তাহার বশর সপরিবারে নিজ কৰ্ম্মস্থান এলাহাবাদে ফিরিয়া যান। জ্যৈষ্ঠ মাসে জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে যথাসময়ে নিমন্ত্রণ আসিল । সে বৎসর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দারণ গ্রীম –কলেরা ও বসন্ত সেই দিকটাতেই নিজেদের দিবিজয়ের শিবির সথাপনা করিয়াছিল। সংবাদপত্রের সত্যভ হইতে এই সমাচার প্রাপ্ত হইয়া রামসন্দেরের পিতা পত্রকে স্বশুরবাড়ী পাঠাইতে আপত্তি করিলেন। তাহার পর পাজার ছটির সময় আবার যথারীতি নিমন্ত্রণ আসিল। কিন্তু রামসদ্দর জনরে পড়িল, যাওরা হইল না। জ্যৈষ্ঠ মাসে জামাইষ্ঠীর দিন আবার নিকটে আসিতে লাগিল। এবার রামসন্দর যাইবেই। এবার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বেশ বটি হইতেছে; কোনও প্রকার রোগের . উপদ্রব নাই। এবার আর রামসন্দেরের আশালতা পাপিত হইতে বাকী থাকিবে না। কলিকাতা হইতে আসিবার সময় সে একখানা ‘টাইম-টেবিল সঙ্গে করিয়া আনিয়াছিল। সেই টাইম-টেবিলখানি এখন তাহার “বেদ”—অথবা একালের এচোড়ে পাকা ছেলেদের “গীতা" হইয়া দাঁড়াইল। রাত্রি দশটার সময় হুগলিতে গাড়ী চড়িতে হইবে। ছাড়িবার পবে, “অমুক সময়ে পে’ছিতেছি” বলিয়া এলাহাবাদে একখানা টেলিগ্রাম পাঠাইতে হইবে। তাহার পর গাড়ীতে উঠিয়া উপরের বণ্ডেক বিছানা পাতিয়া নিদ্রা;--নিদ্রা হইবে কি ? গ্রীষ্মকালের রাত্রে রেলপথে ভ্রমণ কি আরামদায়ক। কি সন্দের শীতল বায়! তাহার উপর রজনী যদি চন্দ্রালোকিত হয় !—মোকামায় গিয়া প্রভাত হইবে। তখন এক পেয়ালা গরম গরম চা। নিশ্চয়ই খুব আরাম হইবে। বেলা দুইটার সময় এলাহাবাদে পৌঁছান যাইবে।—ইত্যাদি প্রকারে রামসুন্দর-মৰ্ম্মী কল্পনার মালমসলায় আকাশে অট্টালিক লিমাণ করিতে ব্যস্ত রহিল। কিন্তু হরি হরি, সব পণ্ড হইয়া গেল ! যাত্রার অবধারিত ; দিনের কিয়ৎপন্বে রামসন্দরের মাতার ভয়ানক জর –আর যাওয়া হইল না। আমরা { রামসন্দেরের প্রতি অবিচার করিব না। সে এমন কথা ভাবে নাই, আমি যাত্রা করিলে | পর তখন মার জর হইল না কেন ? অথবা আমার যাত্রা করিবার দিন আরও কিছ ? পুবে ধাৰ্য্য হয নাই কেন ?—সে প্রাণপণে জননীদেবীর সেবা করিল। শবশুরবাড়ী , যাওয়া হইল না, ইহার দরুণ কোনও ক্ষোভ কোনও অসন্তোষ তাহার মনে পথান পাইল । না। রামসুন্দরের মাতা আরোগ্যলাভ করিলেন। গ্রীমোবকাশ ফরাইয়া আসিল। এখন রামসন্দর আইন পড়িতেছিল, বাক্স বিছানা পতাকাদির তাপী বধিয়া পনরায় কলিকাতা যাত্রা করিল। কলেজে তাহার সহপাঠী বিবাহিত বন্ধরা আসিয়া নিজের নিজের শ্বশুরবাড়ীর গল্প ফাঁদিল । রামসুন্দর তাহাদের গলেপ নিজের কোনও অভিজ্ঞতা যোগ করিতে পারিল না। মাঝে মাঝে বিদ্রুপের বাণ আসিয়া তাহার মস্তকে পড়িতে লাগিল। সে মুখটি চণ করিয়া অত্যন্ত মনোযোগের সহিত ছত্রীর অগ্রভাগ দিয়া পেন্সিলের মস্তকে নিজ নামের আদ্যাক্ষরটি খোদিত করিয়া সময় কাটাইল । - এ বৎসর রামসন্দরের আইন পরীক্ষা। পাজার ছটীর পাবে বাড়ীতে লিখিয়া পঠাইল, “পরীক্ষা নিকট, পড়াশনার চাপ অত্যন্ত অধিক, এবার বাড়ী যাইব না।” রামসন্দরের জননী ইহাতে প্রথমে আপত্তি করিয়াছিলেন, কিন্তু তাঁহার সে আপত্তি টিকিল না। ছুটীতে রামসন্দেরের মেসের বাসার সকলে সব সব গৃহে গমন করিল; রামসুন্দর একা হইয়া পড়াশনা করিতে লাগিল। দই চারি দিন এইরপে কাটিলে, একদিন ভোরের বেলায় নিদ্রাভঙ্গের পর বিছানায় পড়িয়া হঠাৎ তাহার মস্তকে একটা মৎলবের আবিভাব হইল, একবার এই ফাঁকে এলাহাবাদ সহরটা দেখিয়া আসিলে হয় না ?—সেদিন প্রভাতে ১৬৪