পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কাছে আসিতে পারিত; প্রকাশ্য রাজপথ অতিক্ৰম করিতে হইত না। খিড়কী খলিয়া পকুরের ধার দিয়া বাগানের ভিতর দিয়া তরঙ্গিণীদের খিড়কী দরজায় উপস্থিত হইবার সযোগ ছিল। পথ উভয়ের সমান, কিন্তু তরঙ্গিণীর বাশড়ী তাহাকে কোথাও যাইতে আসিতে দিতে ভালবাসতেন না। তাহাতে কিছু ক্ষতি ছিল না; তেরঙ্গিণীদের বাড়ীটি অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত ও নিজান হওয়াতে এইখানেই দুই সখীর বিশ্রাভালাপের, আমোদ প্রমোদের সুবিধা হইত। ' তরঙ্গিণীর ভালবাসার অত্যাচার প্রতিদিন বধি পাইতে লাগিল—কিন্তু প্রিয়তমা সে সমস্ত সকরণ সহিষ্ণতার সহিত সহ্য করিতে থাকিল। সে ভাবিত আমার স্বামী আছে, ভালবাসীর পাত্র আছে; আহা তরঙ্গিণীর যে কেহ নাই, কিছু নাই। তাই সব সময় মনে না আসিলেও মুখে তাহাকে আদর করিত। প্রিয়তমা তরঙ্গিণীকে সচরাচর বলিত তরী, কখনও বলিত তরণী, কখনও বলিত সাধের তরণী। একবার স্বশুরবাড়ীতে থাকিতে থিয়েটারে মণালিনীর অভিনয় দেখিয়াছিল; সে অবধি মাঝে মাঝে সে তরঙ্গিণীর গলাটি ধরিয়া হাসিতে হাসিতে গান করে— সাধের তরণী আমার কে দিল তরঙ্গে। প্রিয়তমা শধে তরঙ্গিণীকে আদর করিয়াই নিম্প্রকৃতি পাইত না। তরঙ্গিণী যেমন কথায় কথায় তাহার উপর অভিমান করিত, প্রিয়তমাকেও সেইরাপ করিতে হইত। যদি কোনও দিন রাগ না করিত, তাহা হইলে তরঙ্গিণী বলিত—“তোমার ত বয়ে গেল। তুমি কি আমাকে ভালবাস যে রাগ করবে ? প্রথম প্রথম এই মৌখিক মান অভিমান প্রিয়তমার নিকট অত্যন্ত বিসদশ মনে হইত, কিন্তু ক্লমে সমস্ত বেশ অভ্যস্ত হইয়া গেল। নিতান্ত কত্তব্য পালন করিতেছি বলিয়া আর মনে হইত না। ! ९ !! সন্ধ্যার অনতিপবে একটি নিজজন কক্ষে বসিয়া তরঙ্গিণী আপনার মনে গন গন করিয়া গাহিতেছিল— “দারণ মানোঁর ভরে করেছি তার অপমান। কোথায় সে গেল সখি, আন তারে ডেকে আন ।” তরঙ্গিণীর কণ্ঠবিনিঃসত মদতান ভ্রমর গঞ্জেনের মত শনাইতেছিল। আজ প্রভাতে যখন প্রিয়তমা তরঙ্গিণীর সহিত সাক্ষাৎ করিতে আসিয়াছিল তখন তরঙ্গিণী রাগে তাহার সঙ্গে ভাল করিয়া কথা কহে নাই।-প্রিয়তমা কাঁদকাদ হইয়া ফিরিয়া গিয়াছে। অন্য সারাদিন তরঙ্গিণী প্রায় ছাদেই যাপন করিয়াছে, তথাপি একটিবারও প্রিয়তমার দেখা পায় নাই। নিরাশ হইয়া তরঙ্গিণী এইমাত্র ছাদ হইতে নামিয়া আসিয়াছে। সন্ধ্যা হইতে আর অধিক বিলব নাই। তরঙ্গিণী একবার ভাবিল প্রিয়কে একখানা চিঠি লেখে। কিন্তু আজ প্রভাতে তাহার অভিমানের কারণ, পর্বদিনে লিখিত পত্ৰখানির উত্তর না পাওয়া। সুতরাং চিঠি লিখিতে তরঙ্গিণী ইতস্ততঃ করিতে লাগিল। অথচ সকাল - বেলার আচরণটা নিতান্তই রাঢ় হইয়াছে। কিন্তু প্রিয়তমারও কি যথেস্ট দোষ নাই ? প্রিয়তমার স্বামী আসিয়াছে সত্য: তাই বলিয়া কি সে একটিবার ছাদে আসিবার অবসর পায় না? আর তরঙ্গিণী যে রাগ করিল, তা কাহার দোষ ? প্রিয়তমারই ত দোষ । কেন সে নিয়মিত সময়ে পত্রোত্তর দেয় নাই ? স্বামী কি তাহার হাত বধিয়া রাখিয়াছিল ? না, কলম ভাঙ্গিয়া দিয়াছিল ? না, কালি ফেলিয়া দিয়াছিল ? ক্ৰমে অন্ধকার হইল। দাসী আসিয়া টেবিলের উপর একটি জলন্ত বাতি রাখিয়া গেল। তরঙ্গিণী টেবিলের সম্মখে বসিয়া, বাক্সটি খালিয়া চিঠি লিখিবার সরঞ্জাম বাহির করিল। একখানি সন্দের রঙীন কাগজ লইয়া চিঠি লিখিল। তরঙ্গিণী উত্তম აe 8