পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঝি আছে। আমাদের ক্ষুদ্র সংসার, বেশী চাকরবাকর লইয়া কি করিব, ইহাতেই আমাদের বেশ চলিয়া যায়। স্থির হইল, বামন-ঠাকুর ও রামখেলাওন আমাদের সঙ্গে যাইবে, ঝি তিন চার বৎসর বাড়ী যায় নাই, অনেক দিন হইতে সে ছটী ছুটী করিতেছিল, তাহাকে তিন মাসের ছুটী দেওয়া গেল। ধায্য দিনে আমরা দগর্ণনাম স্মরণ করিয়া দাঙিজলিঙ মেলে গিয়া উঠিলাম। পরদিন ইংরাজের অদ্ভুত কৌশল এবং মেঘের ও ঝরণার অপরাপ খেলা দেখিতে দেখিতে চলিলাম। রেললাইন কখনও কার্ট রোডের উপর দিয়া কখনও নীচে দিয়া, কখনও পাশে গাশে চলিয়াছে। বেলা দশটার সময় কাসিয়াং টেশনে গিয়া নামিলাম। < ডাক্তারবাব স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন, তিনি আমাদের সহজেই খুজিয়া লইলেন। আমার স্বামীকে বলিলেন, "এ কি করেছেন আপনারা ? রেলে কেন এলেন? আজকাল দাজিলিঙ কিবা কাসিয়াং যাত্রী কি কেউ রেলে আসে ? শিলিগড়ি থেকে ট্যাক্সিতে আসে। রেলের চেয়ে তাতে ভাড়াও কম পড়ে, আর দেড় ঘণ্টা দুঘণ্টা আগে পৌছান যায়।” স্বামী বলিলেন, “তা ত আমি জানতাম না। আমি সটান কাসিয়াঙেরই টিকিট কিনোছলাম।” -* -: ডাক্তারবাব বলিলেন, “চলন এখন, বাড়ীতে আপনার সবই ঠিকঠাক করে রেখেছি— মায় চাল-ডাল, তরী-তরকারী, ঘি, মশলা, কাঠ-কয়লা পৰ্যন্ত। একটা নানীও ঠিক করে রেখেছি ?” স্বামী বলিলেন, “নানী কি ?” ডাক্তারবাব বলিলেন “এখানে ঝিকে ননিী বলে। আপনি শধ্যে একজন বামন আর একজন চাকর নিয়ে আসবেন লিখেছিলেন, তাই ঘর সাফ করা, বাসন-টাসন মাজার জন্যে একটা নানী ঠিক করে রেখেছি।” কেটা-কেটির (পাহাড়িয়া কুলী-কুলিনীর কন্ধে জিনিষপত্র চাপাইয়া, ডাক্তারবাবর সঙ্গে আমরা নিদিষ্ট বাড়ীতে গিয়া উঠিলাম। বাড়ীটির নাম “বেলভিউ কটেজ”— চারিদিকে হাতার মধ্যে অজস্র ডালিয়া, গোলাপ, ফরগেট-মি-নট ও নাম-না-জানা অন্যান্য কত ফল ফুটিয়া রহিয়াছে। দেখিয়া বড় আনন্দ হইল। ডাক্তারবাব সব দেখাইয়া শনাইয়া বলিয়া কহিয়া দিয়া নমস্কারান্তে বিদায় গ্রহণ করিলেন। > দই নানীকে দেখিয়া অবাক হইয়া গেলাম-এ কি ঝি না মেমসাহেব ? তার ছিটে ঘাগরার কি বাহার ! মাথা হইতে কোমর পয্যন্ত বোলানো ফলকাটা ওড়নার কি বাহার। পায়ে জনতা মোজা—তবে লেডী জাতা নয়, পরষে-মানষের জ্যতা। খট-মট করিয়া এ-ঘর ও-ঘর বেড়ায়, বাসন মাজিয়া শেষে তাহা সাবান দিয়া ধুইয়া ঘরে তোলে, আমাদের সহিত বেড়াইতে বহির হইবার পবে, সাবান দিয়া মাখ ধাইয়া, চল আঁচড়াইয়া, তার সাজগোজের কি ঘটা ! সদাই গন-গন করিয়া গান গাহে, কমের অবসরে বারান্দায় দাঁড়াইয়া নিভীকভাবে “কাটোয়া” পান করে—মনিব বলিয়া গ্রাহ্যও নাই। (কাটোয়া গড়া সবদেশী সিগারেট বিশেষ। বাজারে এক প্রকার কুচোনো তামাক পাতা বিক্রয়' হয়, সেই তামাক কাগজে পাকাইয়া সবেহৎ সিগারেটের আকার ধারণ করিলে “কাটােয়া" হয়।) নানীর কার্য বাসন মাজা, ঘর ঝাড় দেওয়া ও বেড়াইতে যাইবার সময় আমাদের ছাতা প্রভৃতি বহন করিয়া পথপ্রদর্শন করা। এ দেশে এ সময় কখন বটি আসে, কিছুই ঠিক নাই। হয় ত, যখন বাহির হইলাম, তখন রৌদ্র চন-চন করিতেছে, পনের মিনিট পরেই দেখি, ও-মা, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন-কম-ঝম করিয়া ব্যটি সরে হইয়া ১২৭.