পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“না, মাইজনী।” “খোঁজ নে না। যদি মরে গিয়ে থাকে, তবে ত তুই আবার সাদি করতে পারিস। তোদের দেশে ত বিধবা-বিবাহ হয়।” - নানী বলিল, “না মাইজদী, সাদি আর আমি করতে চাইনে। পাহাড়ী লোগ বড় মদ খায়, খেয়ে জরকে মারে। এ আমি বেশ আছি।” "এখানে তোর মেয়ে ছাড়া আর কেউ আছে ?” “আছে মাইজী। আমার এক ভাই অাছে, সে ক্লারেন্ডনে চাকরী করে।” “তার নাম কি ?” "আঠ নম্বর ।” আমি বিস্মিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, "আঠ নম্বর কি রে ? মানুষের নাম কি ও রকম হয় ?” নানী বলিল, পর্বে তার অন্য নাম ছিল বটে, কিন্তু ক্লারেন্ডনে ঢাকিয়া অবধি তাহার নাম হইয়া গিয়াছে আঠ নম্বর। ঐ নামেই সকলে তাকে ডাকে।" কত্তার কাছে আমি এই গলপ করিলে তিনি বলিলেন, নানীর ভাই বোধ হয়, ক্লারেন্ডন হোটেলে ৮নং খিদমতগার। মণ্টিকুটাে গল্পের নায়ক এডমন্ড ড্যান্টেসের সদীর্ঘ কারাবাসকালে তাহার নাম লুপ্ত ও বিস্মত হইয়া যেমন একটা নম্বরে পরিণত হইয়াছিল, ইহাও বোধ হয় তাই। ----- আমার অনুরোধে নানী তাহার মেয়েকে একদিন লইয়া আসিল। দেখিলাম, মেয়েটি বেশ সশ্রী, নন্তন যৌবন তাহার অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ঢল ঢল করিতেছে, বেশ সভ্য-ভব্য, ফিট-ফাট । পাহাড়িয়া মেয়েদের বসেই তাহার অঙ্গ আবৃত, তথাপি উহা তার মাতার অপেক্ষ দামী ও সদশ্য। মা মাথায় দেয়া সতি ওড়না, মেয়ের মাথায় সিলেকর ওড়না। মার মত সে মামলী জতা-মোজা পরে না—াসকের ফ্লেশ-কলার মোজার উপর রীতিমত লেডি জতা। মা'র মত সে কাটােয়া পান করে না, কাঁচি সিগারেট খায়। কত্তার সাক্ষাতেও সে সিগারেট ধরাইল, কিছুমাত্র সঙ্কোচ নাই। নানী বলিল, যে সাহেব- , বাড়ীতে সে চাকরী করে, সেখানে মাসে পাঁচশ টাকা বেতন পায়—সব টাকাই নিজ বিলাসিতায় ব্যয় করে। খুকী ত ঘড়ি দেখিয়া মহা খসেী। কয়েক দিন পরে শানিলাম, ঘড়ির সে চাকরী গিয়াছে, তাহার মনিব সাহেব অন্যত্র বদলী হইয়া গিয়াছেন, ঘড়ি অন্য চাকরীর চেষ্টায় আছে। এখন সে প্রতিদিন তার সার সহিত আমাদের বাড়ী আসিতে লাগিল। খকেীর সহিত তার খুব ভাব হইয়া গেল। এখন সে প্রতিদিন ঘড়ি দেখিতেছে। তার সঙ্গে খুকী লুডো খেলে তাস খেলে, ঘটি খেলে—এই শেষের খেলাটি খাকীই তাহাকে শিখাইয়া লইয়াছে । তিল আমরা এক মাস কাসিয়াঙে আসিয়াছি, ইতিমধ্যে কত্তার সবাস্থ্যের উন্নতি দেখা তছে। জম্বর আর হয় নাই, হজমের গোলমালও নাই, রাত্রিতে বেশ নিদ্রাও হইতেছে। । আরও উন্নতি হইত, যদি তিনি আরও বেশী করিয়া বেড়াইতেন। সকলের দিকে তিনি মোটেই বাহির হইতে চান না—আমি খাকীকে লইয়া বাহির হই। সঙ্গে অবশ্য নানী যায়,—আমাদের ছাতা, ওভার-কেট প্রভৃতি বহন করিয়া । বেড়াইতে যাইতে নানীর মহা উৎসাহ। বিকালে চা-পানের পর কত্তাকে লইয়া বাহির হই। বেশী হাঁটিতে তিনি পারেন না, বড়া মানুষ ত! অথচ-বড়া বলিবার যো নাই, বলিলে রাগ করেন। তিনি যখন আমায় বিবাহ করেন, তখন আমার বয়স ষোল, তাঁহার বয়স চৌত্রিশ বৎসর মাত্র —পণ যাবাকাল। তখন তিনি আমায় চিঠি লিখিয়া নীচে সহি করিতেন—“ইতি তোমার বড়ো।”—এখন, বিশ বৎসর পরে, আর তিনি নিজেকে বড়া বলিয়া স্বীকার কারতে চান না । ১২৯ واج مسدسم. 8