পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সন্ধা আসিয়া চা খাইল না, বলিল, উহাতে বিলাতী চিনি আছে, তা ছাড়া ওটা একটা অনাবশ্যক বিলাসিতা । উনি এখানে আসা অবধি স্টেটসম্যান কিনিতেন—সন্ধা আসিয়া তাঁহার স্টেটসম্যান কেনা বন্ধ করিয়া দিল। দেশী খবরের কাগজ পাবাবাঁধই বন্ধ হইয়া গিয়াছিল, সুতরাং কলিকাতার, তথা সারা দেশের আর কোনও সংবাদ পাই না। একদিন লোকমুখে শনিলাম, মহাত্মা গান্ধী গ্রেপ্তার হইয়াছেন। সেদিন সন্ধা উপবাস করিবে বলিয়া বাহানা ধরিল। অনেক কটে তাহাকে কিছ দধ ও মিন্টান্ন খাওয়াইলাম, আমিও তাহাই খাইয়া রহিলাম। ছেলে উপবাসী—মা খায় কোন লজ্জায় ? চার তিন চারি দিন পরে খকী আসিয়া বলিল, “মা, ঘড়ি বেশ ইংরেজী কথা কইতে পারে। দাদার সঙ্গে ফর-ফর করে ও ইংরেজী বলছিল, আমি ত বৰ্ব্বতেই পারলাম नज़ा ?” নানীকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “হ্যাঁ নানী, তোর মেয়ে ইংরেজী কথা কইতে জানে ?” সে বলল, “হ্যাঁ মাইজী, জানে বইকি। আমি যখন ডাউহিল স্কুলে চাকরী করতাম, ও তখন ইংরাজ বাবাদের সঙ্গেই tখলা করত কিনা। সেখানকার বড় সাহেব যিনি ছিলেন, তিনি পাদরী। তিনি দয়া করে ইংরাজ মেয়েদের সঙ্গে ক্লাসে বসে ওকে পড়তে হঝুেম দিয়েছিলেন,—যদিও কোনও কালা অদিমির মেয়েকে সেখানে ভত্তি করা হয় না।” ছেলেকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “হাঁ সন্ধা, ঘড়ি নাকি ইংরেজী বলতে পারে ?” সন্ধা বলিল, “হ্যাঁ মা, ও বেশ ইংরেজী বলে। কিন্তু কথা যেমন বলতে পারে, বই তেমন পড়তে পারে না। আর, বানান সব অশুদ্ধ। কাণে শনে শেখা কিনা। আমি ওকে বই পড়তে শেখাব মনে করছি। খকেীও সেই সঙ্গে পড়বে।” দুই-একদিন পরে দেখিলাম, খাকী ও ঘড়িকে লইয়া সন্ধা রীতিমত স্কুল খলিয়া বসিয়ছে। দ্য বেলায় তিন চারি ঘণ্টা উহাদের পড়ায়। কত্তা শনিয়া বলিলেন, “ও পাহাড়ী মেয়েটার সঙ্গে সন্ধাকে মিশতে বারণ করে দিও।” হামি বলিলাম, “কেন, তাতে আর দোষ কি ?” তিনি বলিলেন, “তোমার সোমন্ত ছেলে, ঐ সন্দরী সোমত্ত মেয়েটার সঙ্গে বেশী মেশা কি ভাল ? শেষে কি থেকে কি হবে বলা যায় কি ? জান ত, চাণক্য পণ্ডিত বলেছেন, ঘি আর আগমন একসঙ্গে পথাপন করবে না।” আমি বলিলাম, “না না, ছেলে আমার সে চরিত্রের নয়। কোনও ভয় নেই। ঐ একটা নেশা নিয়ে মেতে আছে, থাকুক না। নয় ত শেষে কোন দিন বলে বসবে, চললাম আমি নদণ তৈরী করতে।” তিনি আর কিছু বলিলেন না। দিন পনেরো পরে একদিন খটকী আসিয়া চপি চপি আমায় বলিল, “মা, সব্বনাশ হয়েছে।”—তার চক্ষ দটি ছলছল। ভীত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “কি হয়েছে রে ?” “ঘড়িকে দাদা ভালবাসে। ওকে বিয়ে করবে।” বললাম, “দর পাগলী! ঘড়ি হ'ল পাহাড়ি মেয়ে, ওকে তোর দাদা বিয়ে করতে যাবে কেন ?” খাকী বলিল, “হ্যাঁ মা, দাদা ওকে ভালবেসেছে। আমি সবচক্ষে দেখেছি, ঘড়ির যই-খাতার মধ্যে একখানা কাগজ রয়েছে, তাতে লেখা আছে, I love you—তার মানে, আমি তোমায় ভালবাসি। দাদার নিজের হাতের লেখা—আমি দাদার হাতের লেখা চিনি ত!”—বলিতে ললিতে মেয়ে প্রায় কাঁদিয়া ফেলিল । কাঁদিবার তাহার কারণ আছে। মুর ক্লান্সেই একটি মেয়ে পড়ে, উহার চেয়ে \ల్సి