পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বছর দইয়ের বড়, তার নাম লীলাবতী ব্যানাজী। আমার স্বামী মুখাজী। খাকী তাহাদের বাড়ী যায়, লীলাও আমাদের বাড়ী আসে। দুইজনে অত্যন্ত ভাব। খাকীর একান্ত ইচ্ছা, সেই লীলার সঙ্গেই তার দাদার বিবাহ হয়। বালিকাদের এই মতলব শুনিয়া, লীলার মাও নিজে আমার কাছে এই প্রস্তাব করিয়াছেন—তবে আমি এখনও পাটাক্ষরে আমাদের সম্মতি জানাই নাই। মেয়েটি দেখিতে শনিতে ভাল, তাহার পিতাও সম্পন্ন লোক; সুতরাং প্রাপ্তিযোগও ভাল আছে, হইলে মন্দ হয় না। উহার ইচ্ছা, ছেলে বি-এ পাস করিয়া ডেপুটী হইলে তবে তাহার বিবাহ দিবেন, সেই জন্যই লীলার মাকে আমি সপণ্টাক্ষরে কিছু বলি নাই। খাকী আমার মন ভিজাইবার জন্য সময়ে অসময়ে লীলার নানা সদগণের কথা আমায় বলিয়া থাকে। তাই এ ব্যাপারে খাকীর এত দুঃখ। কথাটা শুনিয়া আমার মাথায় ত বজ্রাঘাত হইল। লীলার সঙ্গে পত্রের বিবাহ দ্বিই আর না দিই একটা পাহাড়িয়া মেয়ের সঙ্গে দিব কেন ? কত্তাকে গিয়া জানাইলাম। শনিয়া তিনি খানিকক্ষণ গম হইয়া বসিয়া রহিলেন, তারপর বলিলেন, “সেই কালেই আমি তোমাকে সাবধান করে দিইনি?”—খব খানিকটা বাঁকলেন। তা বকুন, বকুনি আমার পাওনা হইয়াছে বইকি। আমি চপ-চাপ বসিয়া বকুনি হজম করিয়া, শেষে বলিলাম, “সে ত যা হবার তাই হয়ে গেছে, এখন উপায় কি বল ?” কয়েক মহত্তে চিন্তা করিবার পর তিনি বলিলেন, “সন্ধা যে ওকে বিয়ে করতে চায়, সে কথা তোমায় কে বললে? সন্ধা বলেছে ?” উত্তর করিলাম, “না, সন্ধা বলেনি, খুকী বললে। ঐ যে ইংরেজীতে ওকে লিখেছে, আমি তোমায় ভালবাসি।” তিনি হাসিয়া বলিলেন, “খকী এখন নভেল পড়তে শিখেছে কিনা, ও মনে করে, ভালবাসলেই বুঝি বিয়ে করতে হয়। আমার ত মনে হয়, বিয়ে করবার কলপনা সন্ধা করেনি, এত নিবোধ সে নয়। তুমি পাহাড়ী মেয়েদের চরিত্র জান না, ওদের এ বিষয়ে নীতিজ্ঞান খুব শিথিল, কিন্তু আমি যা আশংকা করছি, তাই যদি হয়ে থাকে যা হবার উপক্রম হয়ে থাকে, সেও ত ঠিক নয়। অত্যন্ত অন্যায়। তুমি এক কাজ কর। মেয়েটাকে ত বিদায় করই, নানীকেও বিদায় কর। এ বিষয়ের জড় মেরে দাও।” কত্তার আদেশ প্রতিপালন করিলাম। নানীকে তাহার বেতন চকাইয়া দিয়া বলিলাম, “তুমি আর কাল থেকে এস না, আমি অন্য নানী ঠিক করবো!” নানী “কাহে মাইজী কেয়া কসর হয় ?” ইত্যাদি কত কথা বলিল, আমি গভীর হইয়া রহিলাম, কোনও উত্তর দিলাম না। ঘণ্টাখানেক পরে সন্ধা আসিয়া বলিল, “হ্যাঁ মা, নানীকে তুমি জবাব দিয়েছ ? কি দোষ হয়েছে ওর ?” রভাবে বলিলাম, “৪র কোনও দোষ হয়নি। দোষ হয়েছে তোমার।” সন্ধা বিসিমত হইয়া বলিল, “আমার ? কি দোষ করেছি আমি ?” আমি কঠোরভাবে বলিলাম, “দোষ করনি তুমি ? ঘড়ি একটা যাবতী মেয়ে, ওর সঙ্গে কি ব্যবহার করছ তুমি ? আমাদের এতদিন ধারণা ছিল, তুমি অতি সৎ ছেলে। তুমি যে এমন ইতর হতে পার, তা ত আমরা জানতাম না । তোমার এই ইতর ব্যবহারে লৎজায় আমাদের মাথা হ’ট হয়ে গেছে, উনি ত রেগে কাঁই হয়েছেন।” সন্ধা পাববং বিমিতভাবে বলিল, “কেন, কি ইতর ব্যবহার করেছি আমি ?” “তুমি ওকে ইংরেজীতে লেখনি—“আমি তোমায় ভালবাসি ? খকেী ওর খাতা-পত্রের মধ্যে সেই কাগজ দেখেছে, খাকী তোমার হাতের লেখা চেনে।” সন্ধা বলিল, “ওঃ, এই কথা ? তব ভাল। হ্যাঁ মা, আমি ও কথা তাকে লিখেছি বটে, কিন্তু আমি ত কোনও, কি বলে গিয়ে, dishonourable—অথাৎ অসাধুভাবে - S లి: