পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ও-কথা তাকে লিখিনি। আমি তাকে বিবাহ করবার প্রস্তাব করেছি এবং সেও আমায় / গ্রহণ করতে সক্ষমত হয়েছে।“ ......ག་ཤ” “༩ la ཕ་༔ বামনের ছেলে হয়ে তুই একটা অজাতের মেয়েকে বিয়ে সন্ধা বলিল, “কেন মা, তাতে দোষ কি ? সেও ভারতবষে জন্মেছে—নেপাল ভারতবষেরই অন্তগত, আমিও ভারতবর্ষের সন্তান। মহাত্মা বলেছেন, জাতিভেদ-প্রথা এ দেশ থেকে যত শীঘ্ৰ উঠে যায়, ততই মঙ্গল।” বলিলাম, “জাতিভেদ তুই না মানিস, আমরা ত মানি। কেন, বাঙ্গালা-দেশে সবজাতির ঘরে ইংরেজী কইতে পারে, এমন মেয়ে কি নেই ? ঘাঁড়কে বিয়ে করবার মতলব তোর কেন হ’ল ? এত দিন যে তোকে খাইয়ে পরিয়ে লেখা-পড়া শিখিয়ে মানুষ করলাম, তার কি এই প্রতিফল তুই দিচ্ছিস আমাদের ঐ যে আমার বাসন-মাজ ঝি, তাকে আমায় বলতে হবে বেয়ান ? আর ঘড়ির বাপ কোন সাহেবের বাবচ্চি উনি তাকে বেয়াই বলে অভ্যর্থনা করবেন ?” সন্ধা বলিল, “মানুষ যে, সে মনযে-সবাই এক ঈশ্বরের সন্তান,—জন্মগত বা কমগত হীনতার জন্যে মানুষে মানুষের প্রভেদ করা ত উচিত নয় মা”—বলিয়া মানবের ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যবাদ সম্বন্ধে সে মন্সত এক লেকচার ঝাড়িল। সব কথা আমি বঝিতে পারিলাম না। অবাক হইয়া বসিয়া রহিলাম । সন্ধাও কিয়ৎক্ষণ নীরব থাকিয়া বলিল, “শোন মা, আমার জীবনের প্রোগ্রাম তোমায় বলি। তোমরা যে মনে করেছ, আমি বি-এটা পাস করলেই লাটসাহেবকে ধরে বাবা আমাকে একটি ডেপুটি বানিয়ে দেবেন, সেটি হচ্চে না। আমি চিরজীবন দারিদ্র্য বরণ করে নিয়ে দেশের কাজে আত্মসমপণ করতে চাই। সে কাজে একজন উপযুক্ত জীবনসঙ্গিনী আমার আবশ্যক। আমি অনেক ভেবে-চিতে দেখেছি, ঘড়িই আমার জীবনসঙ্গিনী হবার উপষন্তে । প্রথমতঃ সে চির-স্বাধীন নেপাল দেশের মেয়ে, চির-পরাধীন বাঙ্গালীর মেয়ে নয়। জীবনের কমে যখন আমার অবসাদ আসবে, নৈরাশ্য আসবে, ক্লৈব্য আসবে, সে তখন তার নৈতিক বল দিয়ে আমাকে আবার সঞ্জীবিত করে তুলতে পারবে।” আমি বলিলাম, "তোমার জীবনের কমে ও তোমার সহায় হবে কি বিঘ্য হবে, এখন থেকে তা তুমি কি করে বুঝলে বাপ ?” সাধা সোৎসাহে বলিল, “তা অামি না বঝেই কি এ কাজে প্রবত্ত হচ্চি মা ? আমার সঙ্গে দারিদ্র্যের কঠোর জীবনযাপন করতে ও হাসিমুখে প্রস্তুত ও বলেছে, এক মঠো ভুট্টা-ভাজা খেয়ে ও দিন কাটিয়ে দিতে পারে। ওর কাপড়-চোপড় যা আছে সেগুলো ছিড়ে গেলে খন্দর ভিন্ন আর কিছু ও পরবে না, প্রতিজ্ঞা করেছে। দিনে ও এক প্যাকেট করে কাঁচি সিগারেট খেত, প্রকাশ্যভাবেই খেত—এ দিকে তিন চারিদিন তার ওকে সিগারেট খেতে দেখেছ ? তুমি বোধ হয় অত লক্ষ্য করনি—সিগারেট ও একদম ছেড়ে দিয়েছে। পাহাড়ীরা চা না খেলে বাঁচে না, সে চা-ও ও ছেড়ে দিয়েছে। আমি মহাত্মা গান্ধীর একখানি ছবি দিয়েছি, সেখানি ও বাড়ী নিয়ে গিয়ে মাথার শিয়রে রেখেছে, সকালে উঠে ভক্তিভরে সেই ছবিকে ও প্রণাম করে। ওকে আমার চাই মা— ওকে না পেলে জীবনের ব্রত একা উদযাপন করা আমার পক্ষে বড়ই কঠিন হবে।” “কিন্তু বাবা, কত্তার হকুমে আমি কাল থেকে নানীকে জবাব দিয়েছি।”—ছেলের ভাবভঙ্গী দেখিয়া, উপস্থিত ইহার বেশী আর কিছু বলিতে সাহস করিলাম না। সন্ধা বলিল, “এ বাড়ী ছাড়াও ভগবানের পথিবীতে যথেষ্ট স্থান আছে মা " বলিয়া সে চলিয়া গেল। কাক দিয়া সঙ্গ কৰা জনাইলস টু খনিক চপ করি বালি বল - סל