পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লেন, "ছেলেটার আদলেট যদি এতদর অধোগতিই লেখা থাকে, তবে তাই হবে।” তাই হবে কি ? আমার ছেলে বিবাহ করিবে ঐ ঝিয়ের মেয়েকে ? কখনই তা হইতে দিব না। হিন্দুধৰ্ম্ম কি মিথ্যা ? দেব-দেবীরা কি নিদ্রিত ? আমি মা মঙ্গলচণ্ডীর শরণ লইব, দেখি, তিনি আমার মঙ্গলবিধান করেন কি না, এ বিপদ হইতে আমায় উদ্ধার করেন কি না—আমার ছেলের মতিগতি ফিরাইয়া দেন কি না। আমি মনে মনে সাকে বারংবার প্রণাম করিয়া একান্তমনে প্রার্থনা করিতে লাগিলাম, “হে মা-মঙ্গলচণ্ডী, আমার ছেলেকে সন্মতি দাও, আমি তোমায় ষোল আনার পজা দিব।” ঘড়িকে ত বিদায় করিলাম। কিন্তু সংবাদ পাইলাম, প্রতিদিন বিকালে সন্ধা বেড়াইতে বাহির হইয়া ঘড়ির সঙ্গে মিলিত হয়, তাহাকে লইয়া দই তিন ঘণ্টা বেড়াইয়া সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরে। একদিন খাকী সন্ধাকে বলিল, “দাদা, তুমি আমাদের সঙ্গে বেড়াতে যাও না, একলা यां दिनिन् ?” “তোদের সঙ্গে আমার মতের মিল হয় কই ?” “কার সঙ্গে বেড়াও, ঘড়ির সঙ্গে ?” প্রশন শনিয়া সন্ধা বাগে কটমট করিয়া ভগিনীর দিকে চাহিয়া বলিয়াছিল, “আমার যা খাসী তাই করি, তোদের কি ?” খকেী বলিয়াছিল, "না, তাই জিজ্ঞাসা করছি। ঘড়িকে নিয়েই বেড়াও ত?” সন্ধা বলিয়াছিল, “হ্যাঁ, আমি তাকে মাতৃমন্ত্রে দীক্ষিত করছি।” পাচ আট দিন কি দশ দিন পরে, একদিন বেলা দশটার সময় গোইথাল হইতে বেড়াইয়া ফিরিতেছি, বাড়ীর কাছে পেপছিয়া মনে হইল, তরকারীপাতি প্রায় ফরাইয়া আসিয়াছে, একবার বাজারটা দেখিয়া যাই। সুতরাং রামখেলাওনকে বিদায় দিয়া খাকীকে লইয়া বাজারের দিকে অগ্রসর হইলাম। মইলির দোকানে ঢকিয়া তরকারীপাতি দর করিতেছি, এমন সময় খকেী আমার গায়ে হাত দিয়া বলিল, “মা, দেখ, ঐ ঘড়ি না ?” রাস্তার অপর দিকে একটা দোকানের সামনে আমাদের দিকে পিছন ফিরিয়া যেন ঘড়ির মতই একটা মেয়ে দাঁড়াইয়া কি কিনিতেছে। জিনিষ লইয়া সে রাস্তায় উঠিবামাত্র দেখিলাম, ঘড়িই বটে, হাতে এক প্যাকেট সিগারেট। একটা সিগারেট বাহির করিয়া, ধরাইয়া সে স্টেশনের দিকে অগ্রসর হইল—আমরা মইলির দোকানের ভিতর ছিলাম, আমাদের অবশ্য সে দেখিতে পাইল না। খাকী বলিল, “তবে যে মা, দাদা বলে, ঘড়ি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে!” বলিলাম, “নিজের চোখেই ত দেখলি । দাদাকে তোর বলিস গিয়ে।” খাকী বলিল, “হী-দাদা আমার কথা বিশ্বাস করবে কিনা! মনে করবে, তার মন ভাঙ্গাবার জন্যে আমি মিছে কথা বলছি।” মনে বড় ধিক্কার হইল। বাঃ, আমার বউমা, প্রকাশ্য বাজারের মধ্য দিয়া, সিগারেট ফকিতে ফকিতে চলিয়াছেন ! কি ভাগ্যবতী বাশুড়ী আমি! - তরকারী কিনিয়া একটা কেটি (মটিয়ানী বালিকা) লইয়া খড়কীর সহিত আমি সেই দোকানটায় গেলাম। দেখিলাম, দোকানদার খোট্ট নয়—একজন পাহাড়িয়া। তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, "একটু আগে একজন পাহাড়িয়া মেয়ে তোমার দোকান হইতে এক প্যাকেট সিগারেট কিনিয়া লইয়া গেল, ও কে বলিতে পার ?” দোকানদার বলিল, “ওর নাম ঘড়ি। কেন মাইজী, উহাকে আপনার কোন দরকার আছে কি ?” আমি বলিলাম, “না, উহার মা আগে আমার বাড়ীতে চাকরী করিত, উহাকে দেখিয়া Yog >