পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এার তাহার পড়াশনা কিছুই হইল না। কেবল "যাব কি যাব না”—এই ভাপনায় মল্প রহিল। অবশেষে যাইবার পরামশাই স্থির করিল। আহারান্তে বাজারে বাহির হইল গীর জন্য নানাপ্রকার সাবান চিরণী সেন্স, সুগন্ধি তৈল, লতা-পাতা-ফল-অাঁকা চিঠির কাগজ ও খাম, দই একখানি গল্পের ও কবিতার বাঁহ এবং আরও কত কি সব আমাদের *মরণ নাই-ক্ৰয় করিল। সন্ধ্যার পর হাওড়ায় গিয়া, যারা করিবার সংবাদ এলাহাবাদে টেলিগ্রাম করিয়া, ডাকগাড়ীতে আরোহণ করিল। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ যথাসময়ে রামসুন্দর এলাহাবাদে পেশছিয়াছে। তাহার শবশর স্বয়ং টেশনে সাদর সম্ভাষণে প্রাণাধিক জামাতাকে গহে লইয়া গিয়াছেন। রামসন্দেরের শ্বশুরের নাম নিমাই বাব। সেকালের অনেক লোকে নিজ নাম অদভুত রকমে ইংরাজিতে বানান করিয়া থাকেন --ইনিও নিজের নাম Nemye Loll এইরুপ লিখিতেন। নিমাইবাব বাল্যকালে মিশনারী স্কুলে পড়িতেন, কিঞ্চিৎ সাহেবী ধরণের লোক। টেশনে গাড়ী হইতে অবতরণ করিয়া রামসুন্দর হার্টকোটধারী শবশরকে প্রথমে চিনিতেই পারে নাই, বিবাহের রালে তাঁহাকে নামাবলী গায়ে দিয়া কন্যা সম্প্রদান করিতে দেখিয়াছিল কি না ! তাহার পর চিনিতে পারিয়া যখন তাঁহাকে প্রণাম করিতে উদ্যত হইল, তখন তিনি তাহাকে বাধা দিয়া Lশকহ্যাণ্ড করিলেন। নিমাইবাবা ইংলিশ ডিনারের ভয়ানক পক্ষপাতী, মোগলডিসগুলির প্রতিও তাঁহার আন্তরিক অনুরাগ অলপ ছিল না। কিন্তু তাঁহার সাহেবিয়ান বন্ধসমাজে ও বৈঠকখানায়; অন্তঃপরে তাহা মোটেই প্রশ্রয় পাইত না। সেখানে তিনি যতক্ষণ থাকিতেন, “জজটি” হইয়া থাকিতেন। রামসন্দের নতন শবশুরবাড়ী আসিয়া খাব আমোদে দিন কাটাইতেছে। তাহার স্মীর কোনও সহোদর বা সহোদরা ছিল না; কিন্তু খুড়তুতো ও পিসতুতো একটি দইটি তিনটি শ্যালিকা-রত্ন সমস্তদিন তাহাকে খেলার পুতুল করিয়া তুলিল। এই তিনটির মধ্যে বড়টির সম্প্রতি বিবাহ হইয়াছিল, অপর দইটির মধ্যে একটির দধে দাঁত ভঙ্গিতে আরম্ভ করিয়াছিল, অন্যটির মাথায় একগাছিও চল ছিল না। সম্প্রতি রোগশয্যা হইতে উঠিয়া তাহার এ বিপত্তি ঘটিয়াছিল। রামসন্দেরের বড় শ্যালিকাটি চিরদিনই বাংগালা দেশের বাহিরে—তথাপি তাহার সংবাদ পাইতে বাকী ছিল না যে, ভগ্নীপতির সঙ্গে ঠাট্টা তামাসা করিতে হয়। অতএব সে এই কৰ্ত্তব্যভার স্বীয় মস্তকে গ্রহণ করিতে নিমেষমাত্রকাল বিলম্ব করিল না। ছোট বোন দুইটিকে লইয়া সে একটি ফৌজ গঠন করিয়া, রামসন্দেরের ভগ্নপতিত্ব-দগে অবিশ্রাতভাবে আক্ৰমণ আরম্ভ করিল। পাণের ভিতর সুপারির পরিবত্তে কয়লার গড়া ভরিয়া দিয়া, জলের গেলাসে লবণ মিশাইয়া দিয়া, আলতা গলিয়া চা করিয়া দিয়া, রমালে বাঁধা পোর্টমেন্টোর চাবি হরণ করিয়া লইয়া, এমন কি জনতা একপাটি পর্যন্ত লুকাইয়। রাখিয়া রামসন্দেরকে ব্যতিব্যস্ত করিয়া তুলিল। পরিবারস্থ একটি সরসিকা, পরিচিত তাবৎ দম্পতির নামে ছড়া বধিয়াছিলেন: —রামসন্দর ও তাহার পত্নীর নামেও বধিয়াছিলেন। সেই ছড়াটি তিনজনে সমস্বরে আবত্তি করিয়া কিছতেই ক্লান্তি মানিল না। পাঠকগণের কৌতুহল নিবারণাথ সেই ছড়াটি এখানে বলিতেছি। বেল ফলের গড়ে মালা এই কাহিনীর অন্যান্য কবিতায় তাঁহার আরও অদভুত রচনা-শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। জগতের হিতাথে তাহার দুই একটির নমনা নিনে প্রকাশ করিলাম। ১ । আমার কি হৈল অক্ষয়ের শৈল । * x چ مسج لا: