পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পড়েছি যবনের হাতে খানা খেতে বলে সাথে ।” —আমারও হইয়াছে তাই। তাঁহার প্রশেনর উত্তরে আমি বলিলাম, “সন্ধা আগে বাড়ী আসকে, তার পর খাব।” তিনি আর কোন কথা না বলিয়া, আহার শেষ করিয়া উঠিলেন। আমি তাঁহাকে পাণ-জল দিলাম, ভূত্য তামাক সাজিয়া দিল । ক্ৰমে রাত্রি দশটা বাজিল, কিন্তু সন্ধা ফিরিল না। মা হওয়া বড় জম্বালা ! বারান্দায় গিয়া দাঁড়াইয়া পথের পানে চাহিয়া রহিলাম। ভূতাও লন্ঠন লইয়া ছেলেকে খুজিতে বাহির হইবে কি না ভাবিতেছি, এমন সময় আমাদের বাড়ী র পথে টাচ-লাইট পড়িল । ঐ বোধ হয় সন্ধা আসিতেছে। টচ্চ-লাইট আমাদের বাড়ীর দিকেই উঠিতে লাগিল। সন্ধা আসিল। “হা রে, এত রাত্তির করলি কেন ?” ধলিয়া তাহার মথের পানে চাহিয়া ভীত হইয়া পড়িলাম। মুখ শুকাইয়া এতটুকু হইয়া গিয়াছে, চোখের দটিও কেমন বিভ্রান্ত। উদ্বেগপণ কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করিলাম, “হ্যাঁ বাবা, শরীর ভাল আছে ত?” বলিয়া তাহার কপালে হাত দিয়া দেখিলাম, গরম নয়। “চল মা, বলছি”—বলিয়া সন্ধা তাহার ঘরের দিকে অগ্রসর হইল। নিজ কক্ষে প্রবেশ করিয়া তক্তপোষের উপর বসিয়া সন্ধা বলিল, “তোমাদের খাওয়াদাওয়া হয়ে গেছে মা ?” বলিলাম, “উনি খেয়েছেন, খাকীও খেয়েছে।" “তুমি খাওনি কেন মা ?” “ছেলের খাওয়া না হলে মা কি খেতে পারে বাবা ?” সন্ধা দুই হাতে মুখ ঢাকিয়া ফোঁস-ফোঁস করিয়া কাঁদিতে লাগিল। আমি তাহার পাশে বসিয়া মুখ হইতে হাত টানিয়া খালিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “কেন বাবা অমন করছিস ? কি হয়েছে ?” সন্ধা হঠাৎ তত্ত্বপোষ হইতে নামিয়া আমার দুই পা জড়াইয়া ধরিয়া পায়ের উপর মুখ গজিয়া কুন্দনের সবরে বলিল, “আমি বড় অভাগা, মা ! আমায় তুমি মাফ কয়।” আমি তাহাকে উঠাইতে চেষ্টা করিতে করিতে বলিলাম, "কেন রে, কি হয়েছে, শীগগির বল বাবা, আমার যে কান্না পাচ্ছে।” সন্ধা বলিল, “তোমাদের কথার অবাধা হয়ে, তোমাদের মনে দুঃখ দিয়ে, ঘড়িকে আমি বিয়ে করতে চেয়েছিলাম, সে সঙ্কপে আমি পরিত্যাগ করেছি মা। আমার অপরাধ তোমরা ক্ষমা কর।” x - এ কথা শুনিয়া আনন্দে মন উল্লসিত হইয়া উঠিল। মনে মনে বলিলাম, “জয় মা মঙ্গলচণ্ডী, এ কলিতে তুমিই মা জাগ্রত দেবতা। ষোল আনার পজো মেনেছিলাম, আমি বরিশ আনার পজো তোমায় দেব মা-কলকাতায় ফিরেই।” কিন্তু মনের আনন্দ মনেই চাপিয়া, দুঃখের অভিনয় করিয়া বলিলাম, “তা সে সংকল্প পরিত্যাগ করেছ, ভালই করেছ। কিন্তু কি হ’ল বাবা ?” সাধা ফোঁপাইতে ফোঁপাইতে বলিল, “মহাত্মাকে সে অপমান করেছে মা " “কি ক’রে অপমান করলে ?” “মহাত্মাকে সে গান্ধী-চ্যাপ বলেছে, আরও অকথা কুকথা বলেছে।” “কি রকম ? তোমার সাক্ষাতে এমন সব কথা বলতে সে সাহস করলে ?” “আমার সাক্ষাতে নয় মা। আমি তার সঙ্গে রোজ যেমন বেড়াই, তেমনি বেড়িয়ে, তাকে উপদেশ-টপদেশ দিয়ে বাড়ী আসছিলাম। সেও বাড়ীর দিকে গেল। খানিক দর এসে হঠাৎ মনে হ’ল, তাকে আর একটা কথা বলে আসি। যদি তার নাগাল পাই, Sy