পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লেখাপড়া জানিত। বিধবা হওয়া অবধি ছয় বৎসরকাল সে পিল্লালয়ে ছিল । তাহার দাদা তাহাকে সযত্নে লেখাপড়া শিখাইয়াছিলেন; তিনি ভাবিয়াছিলেন, জ্ঞানচচ্চা করিব্যর অবসর পাইলে দুঃখিনী ভগিনীটির আজন্মবৈধব্য তব কিয়ং পরিমাণে সহনীয় হইবে। চিঠিখানি শেষ করিয়া তরঙ্গিাণী সেখানিকে খামের মধ্যে পরিল। শিরোনামা লিখিবার পাবে আর একবার ভাবিল চিঠি পাঠাইবে কিনা। এ কি পায়ে ধরিয়া মনোভক্ষা করা হইতেছে না ? এই সময় তরঙ্গিণীর মাথাটা বিমঝিম করিতে আরম্ভ করিল। হিটিরিয়ার পবেলক্ষণ। পনেরো বৎসর বয়স হইতে মাঝে মাঝে তাহার হিস্টিরিয়া হইতেছে। বেশী অধ্যয়ন অথবা বেশী চিন্তা করলে, কিংবা বেশীক্ষণ মন খারাপ করিয়া থাকিলে এই রোগ তাহাকে আক্ৰমণ করিত। আজ ত সারা দিনটা সে মন খারাপ করিয়াই আছে । ডাক্তারেরা পরামর্শ দিয়াছিল, রোগ আসন্ন জানিতে পারিলে শীতল জল পান করিবে এবং মাখে চক্ষে জলের ঝাপটা দিবে। ঘরের কোণে জল রাখা ছিল, তরঙ্গিণী জল পান করিয়া মুখে চোখে জল দিয়া চেয়ারে আসিয়া বসিল। কিন্তু আক্ৰমণ রোধ করিতে পারিল না। চেয়ারে অজ্ঞান হইয়া পড়িল। হাত পা ছড়িতে লাগিল। ক্ৰমে চেয়ার সন্ধ সশব্দে মেঝেতে পড়িয়া গেল। তরঙ্গিণীর এই ব্যাধি আছে বলিয়া, বাটীর লোক সব্বদা সতক থাকিত। পাশের ঘরে এক দাসী ছিল, সে শব্দ শুনিয়া ছটিয়া আসিল। ব্যাপার দেখিয়া তৎক্ষণাৎ নিম্নে अश्वान्न झिल। গতকল্য তরঙ্গিণীর খড়শবশরে হদয়নাথবাব সত্ৰী পত্র লইয়া বাটী আসিয়াছেন, পত্র সুধীরচন্দ্রের শাভ উপনয়ন। তরঙ্গিণীর শাশড়ী তখন মাকে লইয়া পালকী করিয়া সন্ধীরের উপনয়নে পাড়ার মেয়েদের নিমন্ত্ৰণ করিতে বাহির হইয়াছেন। বাড়ী ছিলেন শধ্যে নবাগতা ছোটকাকী। তিনি ছটিয়া আসিলেন। তাঁহার এক বোনের হিস্টিরিয়া আছে; মাছৰ্গভঙ্গ করিবার নিয়মাদি সব তাঁহার জানা ছিল। ঝির সাহায্যে তরঙ্গিণীকে উঠাইয়া পালঙ্কের উপর শয়ন করাইলেন এবং চেতনা সম্পাদনের জন্য সচেষ্ট হইলেন। হঠাৎ নিকটস্থ টেবিলের উপর রঙীন খামখানির প্রতি তাঁহার দটি আকৃষ্ট হইল। দক্ষিণ হস্তে তরঙ্গিণীকে পাখা করিতে করিতে, বাম হতে খামখানি তুলিয়া লইলেন। অঙ্গলি সাহায্যে চিঠিখানি বাহির করিয়া খামখানি টেবিলের উপর ফেলিয়া দিলেন। চিঠির ভাঁজ খলিয়া আলোকে পড়িলেন—‘প্রিয়তম । তাঁহার মাথা ঘুরিতে লাগিল। হাত পা অবশ হইয়া আসিল । নিঃশ্বাস জোরে বহিতে লাগিল। ঝিকে বলিলেন, “তুই বাতাস কর, আমি শীগগির আসছি।”—বলিয়া পাখা ফেলিয়া গহ হইতে নিৰ্ম্মকান্ত হইয়া গেলেন। ইহার স্বামী হাদয়নাথ মীরাটের প্রধান ডাক্তার। বিলক্ষণ উপাত্তজন করেন। লোকটি পরম হিন্দ। এক সময়ে নাকি গোমাংসও ইহার উদরপথ হইয়াছিল; কিন্তু সে সব ভূত-কথা। আপাততঃ তাঁহার মস্তকে একটি প্রকাণ্ড শিখা দোদুল্যমান। সন্ত্রীশিক্ষার অত্যন্ত বিরোধী। ইহার প্রথমা পত্নী পরলোকগতা। সাধাঁর সেই প্রথমার গভজাত। এই দ্বিতীয় সংসারটি এখনও কোন সন্তান-সন্ততি সংসারে আনিতে কৃতকার্য হন নাই। তার বড় আশাও নাই কারণ ই’হার বয়ঃক্ৰম এখন পঞ্চবিংশতি বর্ষ হইয়াছে। হাদয়নাথ একটি ঘরে একাকী বসিয়া কি লিখিতেছিলেন, সহসা তাঁহার পত্নীকে প্রবেশ ক্ষয়িতে দেখিয়া চমকিয়া উঠিলেন। তাঁহার স্ত্রী চিঠিখানি তাঁহার হাতে দিয়া বললেন, গড়।" হৃদয়নাথ চশম-অটিা চক্ষ দইটি স্ত্রীর পানে ফিরাইয়া বলিলেন, “ব্যাপারখানা কি ?” "দেখ না পড়ে।” ”কে লিখেছে " ১.৫ -