পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বেহাই স্বয়ং আসিয়া তাঁহার জামাতাকে লইয়া গেলেন। সপ্তাহ পরে ছেলে বশরবাড়ী হইতে ফিরিল। আমি তখন বাড়ীর ভিতরেই ছিলাম, দিবানিদ্রান্তে উঠিয়া তামাক \H ছেলে হাত-পা ধুইয়া জল খাইয়া ঠাণ্ডা হইলে গহিণী বলিলেন, “ওরা কি কি দিলে, দেখি ?” প্রফুল্ল তোরঙ্গ খলিয়া বলিল, “এই ধ্বতি-চাদর দিয়েছেন।” গহিণী বলিলেন, “জতো ?” “না, জয়তো দেন নি।” “না, সিলেকর জামা দেন নি। বললেন, বাবাজী, জুতো-জামা এ পাড়াগাঁয়ে ত পাওয়া যায়.না, এক কলকাতা থেকে আনানো। তা আন্দাজি আনলে মাপে ছোট হবে কি বড় হবে তার ত ঠিক নেই। সেইজন্যে অ্যর—” গহিণী পত্রকে ভেঙাইয়া বলিলেন, “সেই জন্যে আর সে ব্যবস্থা করেন নি! তা বেশ ত, তোর হাতে দাখানা দশ টাকার নোট দিয়ে বললেন না কেন, বাবাজী, ছুটীর পর বন্ধমানে গিয়ে জয়তো-জামা কিনে নিও ?” প্রফুল্ল নিবাক হইয়া নতমখে চোরটির মত দাঁড়াইয়া রহিল। ক্ৰোধে গহিণীর চক্ষ লাল। কণ্ঠস্বর উচ্চগ্রামে তুলিয়া বলিলেন, “বল। আমার কথার জবাব দে !” ছেলেরই যেন অপরাধ ! গাঁহিণী তখন ধুতি-চাদর হতে লইয়া, তাহার জমি পরীক্ষা করিয়া, আমার গায়ের উপর উহা ছডিয়া ফেলিয়া দিয়া বলিলেন, "দেখ একবার তোমার পেয়ারের বেয়াইয়ের আক্কেল-খানা। ধতির জমিট একবার দেখ। মোটা ক্যাট-ক্যাট করছে। এই ধতি মানুষ জামাইকে দেয় ?” আমি হকা নামাইয়া বস্ত্র পরীক্ষা করিয়া বলিলাম, “কেন, জমি মন্দই বা কি ? সতো মোট নয়, বেশী খাপি জমি তাই মোটা দেখাচ্ছে। দুদিন টিকবে।” গহিণী আমার মুখের কাছে হাত নাড়িয়া বলিলেন, “নাঃ, সতো মোটা নয়! চোখে ধরেছে চালসে, সর কি মোটা দেখতে পাচ্চ না ছাই পাচ্চ। চশমা চোখে দিয়ে, একবার দেখ দেখি।” আমি বলিলাম, “গাঁয়ের তাঁতিদের বোনা কাপড় ত! বেশী মিহি সতো তারা পাবে কোথা বল ? সে ছোট পাড়াগাঁ—ফরাসডাঙ্গা, শান্তিপরের কাপড়-চোপড় সেখানে কি কিনতে পাওরা যায় ?” গহিণী চক্ষ রাঙাইয়া বলিলেন, “বেয়াইয়ের হয়ে তুমি ওকালতী কোরো না খপদার বলছি।” ছেলেকে বললেন, “তোর আর এ ধতি-চাদর পরে কাজ নেই। এ তুলে রেখে দিই, পুজোর সময় ঠাকুর-মশাইয়ের ছেলেকে দিলেই হবে।”— .পূরেহিত মহাশয় তাহর স্মী ও সন্তনকু আমি পুজায় প্রতি বৎসর বস্তাদ দিয়া জ্যৈষ্ঠ মাসের সেই সকল ঘটনা স্মরণ করিয়াই আমি আশঙ্কায় আকুল হইলাম। একটি মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি তত্ত্ব বহিয়া আনিয়াছে। সে ব্যক্তি আসিয়া আমাকে প্রণাম করিয়া একখানি পত্র দিল। তাহার পরিচয় লইলাম—নাম গোবদ্ধন, জাতিতে সদগোপ, বৈবাহিকমহাশয়ের অন্যগত লোক, তাঁহার জমি চাষ করে। দ্রব্যাদিসহ লোকটিকে বাড়ীর ভিতর পঠাইয়া, আমি পত্র পড়িলাম। বৈবাহিক মহাশয় তত্ত্ব-সামগ্রীর দৈন্য ও অপ্রচরতা জন্য অনেক বিনয় করিয়া পত্র লিখিয়াছেন। অবশেষে অনুরোধ করিয়াছেন, তাঁহার অপরাধ অপেক্ষণ পরেই কি আসিয়া বলিল, “মা ডাকছেন।" . অন্তঃপরে প্রবেশ করিয়া দেখি, যাহা আশঙ্কা করিয়াছিলাম তাহাই ঘটিয়াছে। రిపి