পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঘট প্রণাম করিয়া, আমাদিগকে প্রণাম করিয়া প্রফুল্ল শুভযাত্রা করিল। প্রফুল্ল প্রতি রবিবার আমাকে একখানি করিয়া পত্র লেখে, সে পত্র আমি পাই সোমবার বেলা তিনটার সময়। শুক্লবারে জগদ্ধাত্রী পজো ছিল, শনিবার মার বিসর্জন, রবিবার প্রাতে গহিণী বলিলেন, রাত্রে প্রফুল্প-সম্বন্ধে একটা দঃস্বপন দেখিয়া তাঁহার মন বড় খারাপ হইয়াছে। আমি বলিলাম, জগদ্ধাত্রী পজোর ছটিতে ফি-বছরই ছেলে বাড়ী আসে, এবার আসেনি বলে আমার মনটাও খারাপ ছিল। তোমারও ছিল নিশ্চয় । সে জন্যেই ও রকম সবগুন দেখেছ-ও কিছ নয়, সে ভালই আছে, কোনও চিন্তা নেই।” গহিণী বললেন, “তোমার মখে ফল চন্নন পড়কে, তাই যেন হয় ! কিন্তু তবন তুমি গিয়ে একবার তাকে দেখে এস।” বললাম, "আজ রবিবার, আমি বন্ধমানে গিয়ে ছেলেকে দেখে ফিরে আসতে কাল বেলা দপুরের কম ত নয়—কাল সোমবার বেলা তিনটের সময় তার চিঠিই ত আসবে।” সমস্ত দিন গহিণীর মনটি বিষগ্ন হইয়া রহিল। সোমবার আহারাদি সারিতে বেলা একটা বাজিল। তামাক খাইয়া গহিণীকে বলিলাম, "আমি যাই পোট আপিসে গিয়ে ছেলের চিঠি নিয়ে আসি। বেল। দেড়টার সময় রাণার ডাক আনে, তব দেড় ঘণ্টা আগে চিঠিখানা পাব।" বলিয়া আমি বাহির হইলাম। গ্রামেই পোল্ট অফিস আছে । ডাকবাব সমাদর করিয়া আমায় আপিস-ঘরে ডাকিয়া বসাইলেন। দেড়টা তখন রাজিয়া গিয়াছিল। শনিলাম রাণার এখনও আসিয়া পৌঁছে নাই। দুইটা বাজিতে চলিল, তখনও রাণারের দেখা নাই। ডাকবাব বললেন, “ট্রেণ লেট থাকলে একটা দেরীও হয় ।” ঠিক যখন সওয়া দইটা, তখন বাহিরে রাণার আসিবার ঝম-ঝম শব্দ শুনিতে পাইলাম। ডাক আসিল, ডাকবাব ব্যাগ কাটিলেন। ক্ষিপ্রহস্তে চিঠিগুলি পরীক্ষা করিয়া বলিলেন, “কই না, আপনার কোনও চিঠি ত নেই।” ভগনমনে গহে ফিরিলাম। চিঠি আসে নাই শুনিয়া গহিণী কাঁদিয়া ফেলিলেন। তাঁহার চোখ মছাইয়া বলিলাম, "ছি ছি, চোখের জল ফেলতে আছে ? তাতে যে ছেলের অকল্যাণ হবে। আমি এখনই বুদ্ধমান রওয়ানা হচ্চি। সন্ধ্যা নাগাদ সেখানে পেপছর। আজ রাত্রের মধ্যেই ছেলের ভাল খবরটি তোমায় এনে দেবো। তুমি ধৈৰ্য্য ধর, আর ঠাকুরদের ডাক,—তাঁরা সমস্তই মঙ্গল করবেন।”—বলিয়া উদ্দেশে প্রণাম করিলাম । এক ঘণ্টার মধ্যেই গরর গাড়ীতে মেমারি যাত্রা করিলাম। বদ্ধমানে মহাজনটালীতে ছেলের বাসায় যখন পৌছিলাম তখন সন্ধ্যা সাতটা। ঘর সব খালি। “প্রফুল্ল” বলিয়া ভাকিতে, একটি ছেলে বাহির হইয়া আসিল, সে আমার পরিচিত, আমাদের পাশের গ্রামেই বাস। তার নাম সরেন্দ্র, বাল্যকাল হইতে প্রফুল্লর বিশেষ বন্ধ। আমাকে সে জোঠামশাই বলিয়া ডাকে। আমাকে দেখিয়াই, “জ্যেঠামশাই যে ” বলিয়া ছটিয়া আসিয়া প্রণাম করিল। বলিলাম, “ভাল আছ ত বাবা ? প্রফুল্ল কই ? সে কেমন আছে ?” সরেন বলিল, “আজ্ঞে হ্যাঁ, ভাল আছি। প্রফুল্লও ভাল আছে।” "কই সে ?” সরেন বলিল, “অজ্ঞে সে ত এখন বাসায় নেই।” "কোথা গেল ? কখন আসবে ?” সরেন বলিল, “আজ্ঞে সে—সে—কি একটা গ্রামে গেছে। হ্যাঁ হ্যাঁ বন্তির—” “বন্তির ? বন্তির গেছে কেন ?” ”আজ্ঞে সেখানে, আমাদের ক্লাসের একটি ছেলের বিয়ে কিনা। সেই জন্যে গেছে। কালই রওয়ানা হয়েছে।” “ফিরবে কখন ?” 388