পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করলাম বলিয়া তিনি যেন কিছুমাত্র কুষ্ঠিত না হন; তাঁহার কিরূপ অনটনের সংসার তাহা অামি অবগত আছি বলিয়াই, কুটুব হিসাবে নয়, বন্ধভাবে তাঁহাকে সাহায্য করলাম, ইহাতে তিনি যেন আমার অপরাধ না লয়েন এবং কথাটা গোপন রাখেন ইত্যাদি। পৌষের তত্ত্ব দেখিয়া গহিণী খাসী হইলেন। বলিলেন, “আহা, ছেলে যদি বাড়ী বলিলাম, “দনমাস পরেই ত সে আসছে। এসে দেখবে এখন ৷” গহিণী ধরিলেন, “না গো তুমি একবার যাও বদ্ধমান। ছেলেকে এ সব দিয়ে এস। সে তার বন্ধুবান্ধবকে দেখাবে, কত আমোদ হবে তার ” নানা কায্যে ব্যস্ত থাকায় গহিণীর অনুরোধ পালন করিতে কয়েকদিন বিলম্ব হইল। জিনিষগুলি লইয়া একদিন আহারাদির পর রওয়ানা হইলাম। ছেলেকে দেখিয়াও আসিলাম, জিনিষগুলি দিয়াও আসিলাম। শুনিলাম বাইশে ফালগন তাহার পরীক্ষা শেষ হইবে, তেইশে সে বাড়ী যাইবে। নাই। সেই অনুসারে বেহাই-মহাশয়কে পত্র লিখিলাম। বাইশে ফালগন সন্ধ্যার পবে বেহাই নিজে আসিয়া তাঁহার মেয়েকে ঘর-বসত করিবার জন্য রাখিয়া গেলেন। বিবাহের সময় মা'র আমার যেমন রপে দেখিয়ছিলাম, এখন যেন তাহার বিগণ হইয়াছে। ঘর আলো-করা পত্রবধ যদি কাহারও আবশ্যক হয়, তবে সে যেন পরের জন্য এমন পাত্রীরই সন্ধান করে। পরদিন আমি সনান করিবার জন্য বাড়ীর ভিতর গিয়া দেখিলাম, গহিণীর মুখ অত্যন্ত গভীর। আমার সম্মখে আসিয়া দাঁড়াইলেন। তাঁহার মুখ লাল, চক্ষু ছলছল করিতেছে, কণ্ঠস্বর অবরুদ্ধ। বলিলেন, “ওগো, সববৃনাশ হয়েছে !” ভীতভাবে জিজ্ঞাসা করিলাম, "কেন, কি হয়েছে ?” তিনি বলিলেন, “বউমা নিজের ত মাথা খেয়েইছে, আমাদেরও মাথাও খেয়েছে।” "কেন, কি করেছেন বউমা ?” গহিণী আমার কাণে-কাণে একটি মাত্র শব্দ উচ্চারণ করিলেন। আমি বলিলাম, “মাথা খেয়েছে কেন বলছ ? কেন ? ক’মাস ? প্রফুল্ল কি মাসে শবশুরবাড়ী গিয়েছিল ? হ্যাঁ, জটি মাসে। তা হ’লে—তুমি কি বলছ—” . মাথামণ্ড কি বলিব, কথা শেষ করিতে পারিলাম না। শঙ্কাকুল নয়নে গহিণীর দিকে চাহিয়া রহিলাম। গহিণী বলিলেন, “তা হলে ত ভরাভত্তিই হত—খালাস হবার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। তা নয়। চার মাস এক বড় জোর পাঁচ মাস।” আমি নিজ কপাল টিপিয়া ধরিয়া, চক্ষু মদিয়া নারায়ণ স্মরণ করিলাম। একট, সামলাইয়া লইয়া, মুখ তুলিয়া বলিলাম, “তোমার ভুল হয়নি ত ?” গহিণী বলিলেন, “শরর মুখে ছাই দিয়ে আমি পাঁচ-পাঁচটা সন্তানের মা, তিনটে মেয়ে আমার কাছে থেকে খালাস হ’ল—আমারই ত ভুল হবে । সে যাক, বউমাও ত অস্বীকার করছে না। এ সব্বনাশ কে করলে জিজ্ঞাসা করলে কোনও উত্তর দিচ্চে না। খালি কাঁদছে। এখন বউ নিয়ে কি করবে কর। ঝাঁটা মেরে বিদেয় কর।” আমার চক্ষ দিয়া ঝর ঝর করিয়া জল পড়িতে লাগিল। আহা, মেয়েটাকে আপন সন্তানের মতই ভালবাসিয়াছিলাম। আমায় এ কি শাসিত দিলে, ভগবান ? চক্ষ মছিয়া বলিলাম, "আহা, ওর দোষ কি, দধের বাছা! দোষ ওর বাপ মার-যারা এমন অসাবধান। ঝাঁটা মারা উচিত তাদেরই মাথায় ।” গহিণী বলিলেন, “হ্যাঁ, অসাবধান! জেনে শুনেই তারা এমনটা ঘটতে দিয়েছে। গোড়া থেকেই আমি তোমায় বলিনি, ও ছোট-লোকের মেয়েকে ঘরে এন না। তুমি কি 388