পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২। আমি কি হয়েছি কালা ( ! ) যতীশের নগেন্দবালা । এইরুপে জবালাতন হইয়া, রামসন্দের তাহার বড় শ্যালিটিকে বিরক্ত করিবার এক অভিনব উপায় অকস্মাৎ আবিস্কার করিয়া ফেলিল। এই বালিকাটির নাম চিরদিনই ডেমি ছিল, কিন্তু বিবাহের পর হইতে সে হঠাৎ ইন্দুবালা হইয়া গিয়াছে। এই নতন নাম পরাতন মেয়েটিকে মানাইয়া লইবার জন্য বাড়ীর লোকেরা প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে সব্বদাই তাহাকে ইন্দবালা বলিয়া ডাকিতেন। রামসন্দর তাহাকে দই একবার ডেমি বলিয়া ডাকিল, তাহাতে ইন্দবালা কিঞ্চিৎ ক্লোধের সহিত আপত্তি জানাইল। রামসন্দের আর ছাড়িবে কেন ? সে তাহাকে ক্ৰমাগত ডেমি বলিতে লাগিল। ইহাতে সেই দাঁতপড়া মেয়েটির পর্বেসমতি জাগিয়া উঠিল; সে এবং তাহার অনুকরণে ছোট মেয়েটি “ডেমিড্যাম-ডেমি” এই পরাতন বিস্মতপ্রায় খ্যাপানটি সরে করিয়া উচ্চস্বরে বলিতে বলিতে বাহা তুলিয়া তাণ্ডব নৃত্য আরম্ভ করিল। "কণ্টকেনেব কণ্টকং” এই নীতিবাক্যের সার্থকতা দেখিয়া রামসুন্দর মনে মনে অত্যন্ত আনন্দ অনুভব করিল। ইন্দবালা প্রথম প্রথম অন্তঃপরে গিয়া নালিশ করিতে লাগিল। কিন্তু তপ ধমাধিকরণেরা হাসিয়া এই মোকদ্দমা ডিসমিস করিতে লাগিলেন। ইহাতে বালিকার অভিমান অত্যন্ত বাড়িয়া উঠিল। সে কাঁদিয়া ফেলিল, তাহাতে রামসন্দের কিছু অপ্রস্তুত হইয়া পড়িল। সে দিন গেল। পর দিন আবার এই অভিনয়ের সত্রপাত হইল। আর কিন্তু ডেমি অন্তঃপরে নালিশ করিতে গেল না। সে কিছুদিন পবেবী একখানি গল্পের বহিতে . . পড়িয়াছিল, কোনও লোক তাহার শবশরবাড়ীতে অবস্থান করিতে করিতে বিলাত পলাইয়া । যাইবার আয়োজন করে। তাহার পিতা মাতা ইহা জানিতে পারিয়া সময়মত আসিয়া তাহাকে গ্রেপ্তার করেন। এই ঘটনা উপলক্ষে জামাইবাবর নাকালের শেষ থাকে নাই। ইন্দবালা ভাবিয়া চিন্তিয়া ঘরে খিল বন্ধ করিয়া এক টুকরা কাগজে বামহস্তে লিখিল ৪— “তোমার ছেলে বিলাত পলাইয়া যাইবার আয়োজন করিয়াছে, সাবধান ।” এই কাগজখানি খামে ভরিয়া, রামসন্দরের পিতার নামে ঠিকানা দিয়া দাসীহতে ডাকঘরে পাঠাইয়া দিল। পত্র তৃতীয় দিবসে বেলা দশটার সময় রামসন্দেরের পিতার হস্তগত হইল। রামসন্দরের পিতার নাম হরিবল্লভবাব। লোকটি সম্পণে সে কালেরও নহেন, এ কালেরও নহেন। সামান্য ইংরাজি জানেন । বয়স পঞ্চাশ। পর্বে কোথাকার নীলকুঠিতে চাকরি করিতেন। শনা যায় সে কাৰ্য্যটিতে তাঁহার বেশ দ পয়সা ছিল। এই · ‘দ পয়সা সম্মবন্ধীয় কি গোলযোগে বাধ্য হইয়া তহিকে কমত্যাগ করিতে হয়। এখন বাড়ীতে বসিয়া বিষয় কম দেখিতেছেন। পৈতৃক ও সেবাপাজিত জমিদারী সম্পত্তির আয় হইতে সংসারটি বেশ চলিয়া যায় এবং “কোম্পানির” কাগজের সংখ্যা প্রতি বৎসর বন্ধিই হইতে থাকে। হরিবল্লভবাব বৈঠকখানার ঘরে বসিয়া ঘোষেদের কন্যা-বিবাহের একটা ফন্দ করিয়া দিতেছিলেন। এমন সময় উল্লিখিত পত্ৰখানি তাঁহার হাতে পেপছিল। খালিয়া পাঠ. করিয়া, তাঁহার মাথায় যেন আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়িল। তৎক্ষণাৎ অন্তঃপরে প্রবেশ করিয়া এ সংবাদ গহিণীকে অবগত করাইলেন। তিনি ত ইহা শনিয়া ক্ৰন্দন করিতে লাগিলেন। দেখিতে দেখিতে পাড়াময় এ কথা রাষ্ট্র হইয়া পড়িল। প্রতিবেশী, বন্ধ, আত্মীয় সবজন অনেকগুলি আসিয়া উপস্থিত হইলেন। সকলেই বন্ধকে পরামর্শ দিলেন, আর ক্ষণ >しア