পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার কথা তখন শনলে ? বউয়ের রূপ দেখে একেবারে গ’লে গেলে। এখন রপে ধরে ধীয়ে খাও। ছোটলোক-—ছোটলোক ! মেয়ের রোজগার খাচ্ছিল, বুঝতে পারছ না ? নইলে পৌষের তত্ত্বে অত টাকা খরচ করলে কোথা থেকে ? উদ খেতে ক্ষদ নেই যার, সে জামাইকে দেড়শো টাকা দামের শাল দিতে পারে ? পজেরি-তত্ত্বও ত দেখেছিলে!” দেড়শো টাকা দামের শাল কোথা হইতে আসিল, অন্য অবস্থা হইলে আমি এখনই তাহা প্রকাশ করিতাম। কিন্তু প্রকাশ করিয়া ত কণামাত্র ফল নাই! জিজ্ঞাসা করিলাম, “বাড়ীর আর কেউ এ কথা জানতে পেরেছে ?” গহিণী বলিলেন, “না, বোধ হয় না।” বলিলাম, “তা হ’লে খুব সাবধান, কেউ কিছু যেন জানতে না পারে। আমি নিজে গিয়ে বউমাকে তার বাপের বাড়ী রেখে আসবো এখন ৷” “রেখে এস, কিন্তু আজই। আজ তেইশে ফালগন, আজ রাতেই ছেলে বাড়ী এসে পৌছবে মনে আছে ত?" “হ্যাঁ, তা তো মনে আছে। আচ্ছা, আজই গিয়ে রেখে আসি। তেল দাও, যাই স্নানটা সেরে ফেলি।” বেলা একটার সময় গরর গাড়ী ঠিক থাকিতে বলিয়া স্নান করিতে গেলাম। নানান্তে আসিয়া পাতের কাছে বসিলাম মাত্র। ভাতের গ্রাস গলা দিয়া নামিতে চাহে না। চোখ ফাটিয়া কেবল জল আসে। অদ্ধেক ভাত ফেলিয়া উঠিয়া পড়িলাম। বলিলাম, “বউমাকে চারটি খাইয়ে দাও । ছেলে এসে পৌছবার আগেই বেরিয়ে পড়া দরকার ” খাটের উপর বসিয়া তামাক খাইতেছিলাম। গহিণী আসিয়া বলিলেন, “গাড়ী সদর দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে। দাগ" বলে বেরিয়ে পড়।” “না, কিছুই খায়নি। আমারও মনের অবস্থা এমন নয় যে, পীড়াপীড়ি করি। চলোয় যাক –ওর ত এখন মরাই মঙ্গল।” “এই কাল মোটে বউ এল। আজই হঠাৎ আবার বাপের বাড়ী চলল, লোকে জিজ্ঞেস করলে কি বলবে ?” “বলবো কি, বলেছি। বলেছি যে বেয়াই কাল রাতে বাড়ী ফিরে গিয়েই দেখলেন, তার পরিবারের কলেরা হয়েছে। বাঁচবার আশা কম। তখনই লোক ছটিয়ে দিয়েছিলেন মেয়েকে আনবার জন্যে । অপর লোকের সঙ্গে না পাঠিয়ে কত্তা নিজেই যাচ্ছেন তাঁকে রাখতে গাড়োয়ানও এই কথাই জানে।” “বউমাকে তৈরী হতে বলগে।” বলিয়া আমি জামা গায়ে দিলাম। এই সময় বাহিরে ঠঠ-ঠং করিয়া বাইসিক্লের শবদ হইল। কে আসিল ? উঠিয়া জানালায় দাঁড়াইয়া দেখিলাম, বাইসিক্ল হতে প্রফুল্ল দড়িাইয়া, গাড়োয়ানের সহিত কি কথাবাত্ত কহিতেছে। তার পাশে, অপর বাইসিক্ল হতে তার সেই বন্ধমানের বন্ধ. সরেন্দ্রনাথ। এক মিনিট পরে প্রফুল্ল ও সরেন আসিয়া প্রবেশ করিল। উভয়ের সব্বাঙ্গ ধলিধসরিত—দর-দর করিয়া ঘাম ঝরিতেছে। প্রফুল্ল অসিয়াই আমার পা জড়াইয়া বলিল, "কেন, কেন বাবা, হঠাৎ কি হয়েছে ?” "বশরে-মশায় তাঁর মেয়েকে এখানে রেখেই বন্ধমানে গিয়েছিলেন আমায় আনতে। গাড়োয়ানের কাছেও শনলাম। বাবা, আপনি যখন জগন্ধাত্রী পজোর সময় বদ্ধমানে আমায় দেখতে গিয়েছিলেন, তখন আমি কারুর বিয়ের নেমন্তনে যাইনি, আমি গিয়ে- .S86 مه - و سه