পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছিলাম শ্বশুরবাড়ী। আপনাদের লুকিয়ে গিয়েছিলাম, সরেন সব কথাই জানতো, তাই আমায় বাঁচাবার জন্যে সে মিথ্যে করে ঐ সব কথা আপনাকে বলেছিল।” সরেন ছোকরা নত মস্তকে দাঁড়াইয়া । শনিয়া আমার বািক হইতে হাজার মণ পাথরের ভার নামিয়া গেল। আমি নিঃশ্বাস ছাড়িয়া, যপমকর ললাটে সপশ করিয়া, উদ্দেশে নারায়ণ প্রণাম করিলাম। প্রফুল্লর প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে, তাহার গভীধারিণীও আসিয়া দয়ারের কাছে দাঁড়াইয়াছিলেন। সমস্ত শুনিয়া চোখে অঞ্চল দিয়া তিনি চলিয়া গেলেন,—বোধ হয় বউমার কাছে। কিয়ৎক্ষণ পরেই গহিণী ফিরিয়া আসিয়া প্রফুল্ল ও সরেনকে নানাহার করাইতে লইয়া গেলেন। অপরাহে স্বয়ং বেহাই-মশাই গোযানে আসিয়া উপস্থিত—কামারহাটী হইতে নয়, বদ্ধমান হইতে, প্রফুল্ল ও সরেন্দ্রের সহিত এক ট্রেণে আসিয়াছিলেন। কুমে ক্ৰমে সকল কথা শুনিলাম। বদ্ধমান হইতে কামারহাটি যাইতে হইলে, পাণ্ডয়া টেশনে নামিয়া তিন ক্লোশ । কিন্তু বন্ধমান হইতে কামারহাটি অবধি পাকা সড়ক আছে, উহা সাত ক্লোশ ব্যবধান। প্রফুল্ল সাত ক্লোশ পথ বাইসিক্লে অতিবাহন করিয়া, শুধ সেই জগদ্ধাত্রী-পাজার ছটিতে যে শ্বশুরবাড়ীতে গিয়াছিল তাহা নয়, প্রতি শনিবারে শবশুরবাড়ী যাইত এবং সোমবার ভোরে সেখান হইতে রওয়ানা হইয়া, বাসায় আসিয়া সনানাহার করিয়া কলেজ করিত। তার বশর জানিতেন যে জামাই লুকাইয়া যাওয়া-আসা করে। স্বভাবতঃ তিনি জামাইয়ের গোপূন কথা ব্যক্ত করিতে চাহেন নাই। মাঝে মাঝে চিঠি লিখিতেন, কোন চিঠিতেই কোনও দিন লেখেন নাই যে, প্রফুল্ল বাবাজীবন আসিয়াছিলেন তিনি ভাল আছেন, বন্ধমানে ফিরিয়া গিয়াছেন। কথা তিনি প্রকাশ করবেন না শবাশুড়ীর কাছে এই আশবাস পাইয়াই প্রফুল্লর যাতায়াত তখন ঘন-ঘন হইয়া উঠিয়াছিল। শুধু তাই নয়। শনিলাম, পাজীটা নাকি বউমাকেও, নিজের পায়ে হাত দেওয়াইয়া শপথ করাইয়া লইয়াছিল যে, ঘর-বসত করিতে আসিয়া সে কথা তিনিও যেন এখানে প্রকাশ না করেন। আমাদের কালে যে সব ব্যাপার একেবারেই অসম্ভব বলিয়া গণ্য ছিল, একালের ছেলেদের পক্ষে তাহ আর নাই, আমরা সন্ত্রী-পরীষে এই আলোচনা করিয়া গোপনে অনেক হাসাহাসি করিলাম। আষাঢ় মাসে প্রফুল্লর পরীক্ষার ফল বাহির হইল। জলপানি ত পায়ই নাই, পাস হইয়াছে মাত্র, তাও থাড ডিভিজনে। জামাতা বাবাজী এক আমি বড় বিপদে পড়িয়াছি। আজ প্রায় এক মাস হইতে চলিল, আমার একমাত্র জামাতাটি নিরদেশ, অথচ কারণ কিছুই জানা যায় নাই। রাজসাহী জিলা-স্কুল হইতে ম্যাটরিক পাস করিয়া বাবাজী (তখনও আমার জামাতা হন নাই) কলিকাতায় গিয়া কলেজে ভত্তি হন। দই বৎসর তথায় পড়িয়া, আই-এ পরীক্ষা দিয়া বৈশাখ মাসে তিনি রাজসাহীতে পিতার নিকট ফিরিয়া আসেন। পিতা তাহার, রাজসাহীর প্রসিদ্ধ গভর্ণমেণ্ট প্লীডার রায় শ্ৰীযন্ত শশিশেখর দত্ত বাহাদর। সেই সময় তাঁহার এই পত্র শ্ৰীমান পণচন্দ্রের সহিত আমার কন্যা লীলাবতীর বিবাহসম্মবন্ধ হয়। ৮ই শ্রাবণ বিবাহ হইল—তখন সপ্তাহখানেক মাত্র গেজেট বাহির হইয়াছিল, বাবাজী দ্বিতীয় বিভাগে পাস হইয়াছিলেন। পাজার ছটীতে বাবাজী রাজসাহী আসিলে, আমি তাঁহাকে নিমন্ত্ৰণ করিয়া নিজ গ্যহে আনিয়াছিলাম। এক সপ্তাহকাল বাবাজী X85