পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার নিকট ছিলেন, কিন্তু তখন ত এ বিপত্তির কিছুমাত্র সচনা আমি পাই নাই। কলেজ খলিবার অব্যবহিতপবে বাবাজী আবার আসিয়া তিন দিন ছিলেন, বস্তুতঃ এখান হইতেই তিনি কলিকাতায় রওয়ানা হয়েন, তখনও ত আমাদিগকে এ বিষয়ের কিছুমাত্র আভাস তিনি দেন নাই ! কলিকাতায় ফিরিয়া গিয়া মাসখানেক বাবাজী যথারীতি পত্রাদি লিখিয়াছিলেন,— তার পর হইতে নিস্তব্ধ। বাবাজীকে পত্র লিখিয়া উত্তর পাই না। খাকী, পাবে যে প্রতি সপ্তাহে তাঁহার পর পাইত, সে-ও কোনও পত্র পায় নাই। তিন সপ্তাহ এইরুপ ভাবে কাটিলে ব্যাকুল হইয়া বৈবাহিক মহাশয়কে রাজসাহীতে পত্র লিখিলাম, তাঁহার উত্তরে জানিলাম, তিনিও তিন সপ্তাহ পত্রের কোনও পর পান নাই। পত্রকে জবাবী টেলিগ্রাম পাঠাইয়াছিলেন, তাহা ফেরৎ আসিবার পর, অনুসন্ধানাথে নিজ মাতুলকে কলিকাতায় পাঠাইয়া দিয়াছিলেন। বাসার ছেলেরা নাকি বলিয়াছে, “কেন ? পাণ ত আজ তিন সপ্তাহ হ’ল, বাড়ী চলে গেছে।”—বাড়ী যার নাই শুনিয়া বাসার ছেলেরা অত্যন্ত বিস্মিত হইয়াছিল। কোথায় সে গিয়াছে, উহা তাহারাও অনমান করিতে অসমথ। বৈবাহিক আরও লিখিয়াছেন, "ছেলের এরপে ভাবে নিরদেশ হইয়া যাইবার কারণ কি ? শেষবার যখন আপনার ওখানে গিয়াছিল, সে সময়ে বউমার সহিত তাহার কোনও ঝগড়া-কলহ হইয়াছিল কি না, সন্ধান লইবেন ত!” কন্যার নিকট জানিয়া আসিয়া গহিণী বলিলেন, “না, সে রকম কিছুই ত হয়নি।”—আমিও সেই মৰ্ম্মেম বেহাই মহাশয়কে পত্র লিখিয়া দিলাম। এই ত অবস্থা ! আমি এখন কি করি বলন দেখি ! বেহাই মহাশয় ত বেশ নিশ্চিন্ত ও নিক্ৰিয় আছেন দেখিতেছি । তাঁর আর দই পত্র আছে, তিনি নিক্ৰিয় থাকিতে পারেন, কিন্তু আমার যে ঐ একমাত্র কন্যা ! শধে তাহাই নহে, আমার পরলোকগতা প্রথমা পত্নীর একমাত্র সমতিচিহ্ন—আমার বড় আদরের ধন। আমার খকুরাণীর মখে আর হাসি দেখিতে পাই না, সব্বদাই মুখখানি তার বিষন্ন, চক্ষ দইটি ছলছল করে। এখন আর নিতান্ত বালিকাটি নাই, চৌদ্দ বছরে পড়িয়াছে, জ্ঞান-বন্ধি হইয়াছে, সবই বঝিতে পারে ত ! তাহার বিষাদ-মলিন মুখখানি দেখিলে আমার বকের ভিতরটা হাহাকার করিয়া উঠে। ছেলেটি ভাল দেখিয়া, মহাশয়, প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ করিয়া ওখানে মেয়ের বিবাহ দিয়াছিলাম। আমার মত অবস্থার লোকের, এক মেয়ের বিবাহে, পাঁচ হাজার টাকা খরচ করা কি সোজা কথা ? কিন্তু তব আমি করিয়াছিলাম—কেন ? না মেয়েটি আমার সুখে থাকিবে, এই আশায়। কিন্তু দেখন দেখি একবার দৈব-বিড়ম্বনা ! আমার অবস্থাও বলি, শনন। আমার নিবাসও রাজসাহী জিলায়, ইছমাইলপর গ্রামে নাটোরের তিনটা স্টেশন পরে রঘরোমপুরে নামিয়া তিন ক্লোশ আসিতে হয়। স্টেশনে গরুর গাড়ী পাওয়া যায়, পালকীও পাওয়া যায়, কিন্তু ঘোড়ার গাড়ী নাই। আমার নাম শ্রীপ্রমথনাথ দেব—উত্তররাঢ়ী কায়স্থ আমরা। পিতার মৃত্যুতে আমি কিছু ভূসম্পত্তি পাইয়াছিলাম, আর কিছু কোম্পানীর কাগজ। তা কোম্পানীর কাগজগুলি মেয়ের বিবাহে ত প্রায় নিঃশেষই হইয়া গিয়াছে। ভূসম্পত্তি ছাড়া, আমার একটি সামান কারবারও আছে-গড় প্রস্তুতের একটি কারখানা। কয়েকটি ইক্ষমাড়াই কল আছে, সেই কলে ইক্ষ মাড়িয়া, রস জাল দিয়া গড় প্রস্তুত করি। আমি অবশ্য নিজ হস্তে করি না, বেতনভোগী কারিগরেরা আছে। কতক ইক্ষ আমার নিজের চাষের বাকীটা কিনিয়া আনি । আশে-পাশে পাঁচখানা গ্রামের ব্যাপারীরা আসিয়া সেই গড় খরিদ করিয়া লইয়া যায়। ভুসম্পত্তির আয়ে এবং কারখানার মনোফায় একরপে ভদ্রভাবেই আমার দিন শ্বজরাণ হয়। আমার প্রথমা পত্নী জীবিতা নাই, সে আভাস পাবেই দিয়াছি। খকেীকে চারি বৎসরের রাখিয়া তিনি সবগারোহণ করেন। আমার বয়স তখন বত্রিশ বৎসর মাত্র। ృsరి