পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আত্মীয়-বন্ধুরা সকলেই আবার বিবাহ করিবার জন্য আমায় পীড়াপীড়ি করিতে লাগি- · লেন । আমি কিছুতেই বিবাহ করিব না।--আমার এত সাধের—এত আদরের খাকীকে আমি বিমাতার হাতে তুলিয়া দিতে পারিব না। আমার জ্যেষ্ঠা সহোদরা, তিনি বিধবা, নিজ শবশরোলয়ে অবস্থান করিতেছিলেন, তাঁহাকে আনাইয়া খনকার লালন-পালনের ভার তাঁহারই হস্তে অপণ করিলাম। এ দিকে আত্মীয়-বন্ধুরা বিবিধ প্রকারে অমায় বসবাইতে লাগিলেন—“এই মোটে বত্ৰিশ বছর তোমার বয়স, সারাটা জীবন পড়ে রয়েছে, কি ক’রে তোমার কাটবে ? তোমার দিদিই বা নিজের সংসার ছেড়ে কত দিন তোমার কাছে থাকতে পারবেন ? বিমাতা হলেই যে একটি আসত রাক্ষসী হবে, এমনই বা কি কথা ? সে রকম হয় কারা? যারা ছোট-লোকের ঘরের মেয়ে। ভদ্রবংশের একটি ডাগর দেখে মেয়ে বিয়ে করে আন, সে তোমার মেয়েকে নিজ সন্তানের মতই লালন-পালন করবে—তোমার সংসার বজায় রাখরে।” —ইত্যাদি ইত্যাদি। , সাত আট মাস থাকিয়া, দিদিও ফিরিয়া যাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া পড়িলেন। তখন কি করি, অগত্যা বিবাহই করিয়া ফেলিলাম। দিদি নববধকে সংসার বুঝাইয়া দিয়া সবস্থানে প্রস্থান করিলেন। সৌভাগ্যবশতঃ যাঁহাকে ঘরে আনিলাম, তিনি মাতৃবং সেনহাদরেই আমার খাকীকে বকে তুলিয়া লইলেন। এ পক্ষেও আমার দইটি কন্যা ও তিনটি পত্র জন্মগ্রহণ করিল। পত্র তিনটি আপনাদের আশীব্বাদে জীবিতই আছে, কিন্তু কন্যা দইটিকে তাহদের শৈশবেই যমের মুখে তুলিয়া দিয়াছি। দই এক মাস কাটিয়া গেল, জামাতার কোনও সংবাদ নাই। গত পণিমা-রাত্রিতে বাবা সত্যনারায়ণের সিন্নী দিয়াছি। গহিণী স্থানীয় কালী-মন্দিরে মানত করিয়াছেন, জামাতা ফিরিলেই ষোড়া পঠিা দিয়া মা'র পজা করিবেন। পাড়ার বর্ষীয়সী জ্ঞানদা-ঠাকুরাণী প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় আসিয়া গহিণী ও খাকীকে “নীলকুল বাস দেবের কথা” শনাইয়া যাইতেছেন—আমিও শুনিতেছি। ইহার ফলশ্রুতি এই প্রকার—“ধন না থাকলে তার ধন হয়, পতে না থাকলে তার পত হয়, বন্দী থাকলে ছাড়ান পায়, দন্ত্রের সুসমাচার নিকটে আসে।”—জ্ঞানদা-ঠাকুরাণী বলিয়াছেন, ইহা একেবারে অব্যথা—এই কথা শনাইয়া, অনেক গহস্থকে তিনি চিঠি আনাইয়া দিয়া নিশ্চিন্ত করিয়াছেন,—তবে ভক্তি থাকা চাই। কিছতেই কিছু হইতেছে না দেখিয়া গহিণী বলিলেন, “তুমি নিজে একবার কলকাতায় গিয়ে সন্ধান কর। বাসার ছেলেরা নিশ্চয় জানে সে কোথায় গেছে, বেয়াইয়ের মামার কাছে সে কথা তারা গোপন করেছে! তাদের বাপ-বাছা ব’লে খোসামোদ করে কথা বের করে নাও গে। মেয়েটার মুখপানে ত আর তাকানো যায় না!” অদ্য আহারাদির পর কলিকাতা যাত্রা করিব সিথর করিয়াছি। গোরর গাড়ীও বলিয়া রাখিয়াছি। বেলা তখন এগারটা। স্নানের পর্বে বৈঠকখানায় বসিয়া আমাক খাইতেছি, হঠাৎ নজর পড়িল, বড়িয্যেদের পোড়ো ভাঙ্গা রাড়ীর উঠান দিয়া, লাল পাগড়ী মাথায় ব্যাগ কাথে পিয়ন আসিতেছে। একদটে তাহার পানে তাকাইয়া রহিলাম—দেখি এই দিকেই আসে কি না। বকেটা দর দর করিতে লাগিল। এই ষে, এই দিকেই ষে আসে । পিয়ন আসিয়া প্রণাম করিল। তার পর হস্তস্থিত একগোছা চিঠির মধ্য হইতে বাছিয়া একখানি আমার হাতে দিয়া প্রস্থান করিল। খামের চিঠি। . আমি তাড়াতাড়ি ভিতর হইতে চশমা আনিয়া চোখে দিয়া ঠিকানা পড়িলাম। জয় বাবা সত্যনারায়ণ! জয় বারা নীলকুল বাসদেব! খুকীর নামে চিঠি, জামাতার হস্তাক্ষর কোথা হইতে লিখিল, জানিবার জন্য টিকিটের উপরকার ছাপটা পরীক্ষা : Y8b.