পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিলাম, কিন্তু তেল-কালী, এমন ধ্যাবড়াইয়া গিয়াছে যে, কিছই নির্ণয় করিতে পারিলাম না। যাহা হউক, বাবাজী যে প্রাণগতিকে ভাল আছেন, ইহাই আপাততঃ পরম লাভ মনে করিয়া, দ্রতপদে বাড়ীর ভিতর গিয়া গহিণীকে ডাকিলাম। তিনি আসিলে হাসিমুখে বলিলাম, “বাবা সত্যনারায়ণ, বাবা নীলকুল বাসদেব মুখ তুলে চেয়েছেন । এই লাও তোমার জামাইয়ের চিঠি, খাকীকে দাও গে। আর তাকে জিজ্ঞাসা করে এসে আমায় বল, জামাই কোথা আছেন, কেমন আছেন, কবে বাড়ী আসবেন। আমি ঘরে গিয়ে বসছি।” কিয়ৎক্ষণ পরে গহিণী চিঠি হাতে করিয়া ফিরিয়া আসিলেন,—তাঁহার মখখীন গম্ভীর, চোখ দুটি ছলছল করিতেছে, সে মাত্তি দেখিয়া আমার কিছুক্ষণ পবেকার সমস্ত আনন্দ উৎসাহ কোথায় উড়িয়া গেল। আমি ভীতভাবে তাঁহার মুখপানে চাহিয়া রহিলাম। গহিণী চিঠি আমার হাতে দিয়া বলিলেন, “পড়।” বলিলাম, “কেন? জামাই লিখেছেন মেয়েকে চিঠি, আমি পড়বো কেন ?” “পড়, দোষ নেই। আমিও পড়েছি। মেয়ে ত চিঠি পড়েই আছাড় খেয়ে পড়েছে ৮ আমায় বললে, ‘মা, চিঠি বাবাকে দেখাও, যা করতে হয়, তিনি করুন।” কম্পিত হন্সেত খাম হইতে চিঠি বাহির করিয়া পড়িলাম। পড়িয়া আমার মাথা ঘরিয়া গেল, চোখে অন্ধকার দেখলাম। চিঠিতে এইরুপ লেখা ছিল— “সাধিল । আমি মাসখানেক নানা গরতের কায্যে এতই ব্যস্ত ছিলাম যে, তোমায় চিঠি লিখিবার তিলমাত্র অবসর পাই নাই। আমরা কয়েক জন যবেক মিলিয়া সন্তানধৰ্ম্মম অবলম্বন করিয়াছি। তুমি আনন্দমঠ পড়িয়াছ কি না, জানি না, যদি পড়িয়া থাক, তবে সন্তান কাহাকে বলে, তাহা নিশ্চয়ই অবগত আছ। জননী জন্মভূমিকে পরাধীনতা-শঙ্খল হইতে মুক্ত করাই সন্তানের জীবন-ব্রত। কলিকাতা হইতে “যুগান্তর” নামে আমরা একখানি সাপ্তাহিক পত্র বাহির কুতুমান দল বানান বাদ ভুল অফ কে ই দলিল । - I আমি দল গঠন করিয়া আপাততঃ গ্রামে গ্রামে স্বদেশী মন্ত্র প্রচার করিতে বাহির হইয়াছি। কবে কোথায় থাকি, কিছরই স্থিরতা নাই। যে স্থান হইতে এই পত্র তোমায় লিখিতেছি, কল্যই সে স্থান পরিত্যাগ করিয়া যাইব । মার শঙ্খল যত দিন না ভগন করিতে পারি, তত দিন আমাদের গহ-সংসার নাই, পিতামাতা নাই, সত্ৰী পত্র নাই—কিছুই নাই। আছে কেবল দেশ। (আনন্দমঠ দেখ) এ জীবনে এ পবিত্র ব্ৰত যদি উদযাপন করিতে পারি, তবেই গহে ফিরিব, তোমার সঙ্গে আবার আমার মিলন হইবে, আবার আমি সংসারণী হইব; নচেৎ এই শেষ। তুমি আমার সহধৰ্ম্মিণী, আমার বিশ্বাস আছে যে, ধৰ্ম্মপথে তুমি আমার সহায় হইবে, বিঘারপিণী হইবে না। বিভুপদে সতত প্রার্থনা করিবে, যেন আমাদের, উদ্যম সফল হয়, মনোবাঞ্ছ। পণ হয়, ব্ৰত উদযাপনান্তে এক দিন গহে ফিরিতে পারি। ইতি— দেশমাতার সন্তান শ্ৰীপণানন্দ ব্রহ্মচারী।” । পনশ,। পািখনি পড়িয়া ছিড়িয়া ফেলিবে, কারণ, অদূর ভবিষ্যতে বাড়ী খানতল্লাসী হওয়া বিচিত্র নহে। পত্র পড়িয়া গহণীর হতে উহা ফেরত দিয়া, দই হাতে দই রগ টিপিয়া, বালিস বকে দিয়া, কিছুক্ষণ আমি শয্যায় পড়িয়া রহিলাম। অগ্রহায়ণ মাসের শীতেও "দেহ হইতে দূর-দর করিয়া খাম ছটিতে লাগিল। “ও মা, কি বিপদ হল গো! বিপত্তে মধ S8>