পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সদন । বিপত্তে মধ্যসদন”—বলিতে বলিতে গহিণী আমায় পাখার বাতাস করিতে লাগিলেন । মিনিট পাঁচেকে আমি একটা সামলাইয়া উঠিলাম। গহিণীকে বলিলাম, “তুমি মেয়ের কাছে যাও, এখানে কি করছ? তাকে সামলাও গে।” গহিণী চলিয়া গেলে আমি ভাবিতে লাগিলাম, এত দিন মনে মনে আশা ছিল, বেহাইমহাশয় সাহেবদের প্রিয়পাত্র অন্যগত লোক,—ছেলেটা বি-এ পাস করিলে সাহেবদের ধরিয়া তাহাকে তিনি একটা ডেপুটী করিয়া দিতে পারবেন। অন্ততঃ পক্ষে আইন পাসের পর মন্সেফী পদ দেওয়াইতে পরিবেন, মেয়ে আমার হাকিমের পরিবার হইবে। সে সব আশা-ভরসা সমস্তই ফসর্ণ হইয়া গেল ! ক্লমে মনে ক্ৰোধের সঞ্চারও হইল। তোর কি বাপ সমস্তই অদ্ভুত ? স্বদেশী হয়ে একেবারে গহত্যাগ! কেন রে বাপ, এত বাড়াবাড়ি কেন ? যা রয় বসে, তাই করলেই ত হয়! সবদেশী হয়েছিস, বেশ ত! মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় পর, দেশী চিনি, করকচ নণ ব্যাভার কর, বিড়ি খা—কেউ ত মান করছে না। একেবারে গহত্যাগ, পত্নীত্যাগ ! তাই যদি তোর মনে ছিল, তবে এক ভদ্রকন্যাকে বিবাহ করে তার সব্বনাশ করলি কেন ? তখন মনে পড়িল ষে, বিবাহের সময় এরপে মনোভাব তাহার ত ছিল না! স্বদেশীর ঢেউ ত পাবাবধিই উঠিয়াছিল। বিবাহে, পাজার তত্ত্বে, বিলাতী জতা, সিলেকর বিলাতী ছাতা, বিলাতী সাবান, এসেন্স প্রভৃতি প্রসাধন-দ্রব্য কত তাহাকে উপহার দিয়াছি, সে সব ত হাসিমখেই সে গ্রহণ করিয়াছে ও ব্যবহার করিয়াছে দেখিয়াছি। তবে এবার কলিকাতায় ফিরিয়া সে এমন উৎকট সবদেশী হইয়া উঠিল কি করিয়া ? এ অবস্থায় আমি আর কলিকাতায় গিয়া কি করব? তার চেয়ে বরং রাজসাহী গিয়া বৈবাহিকের সঙ্গে দেখা করিয়া, এ বিপদে কি উপায় অবলম্বন করা যাইতে পারে, তাঁহার সহিত পরামর্শ করি। গহিণী ফিরিয়া আসিলে সেই কথাই তাঁহাকে বলিলাম, তিনিও এ প্রস্তাব অনুমোদন করিলেন। গোরর গাড়ী পাবেই বলা ছিল। সনানাহার সারিয়া, দগী বলিয়া রাজসাহী যাত্রা করিলাম। fऊन ষে দিনের কথা বলিতেছি, তখন ঈশবরদি হইতে রাজসাহী যাইবার রেল খালে নাই। নাটোরে নামিয়া অশবষানে বত্ৰিশ মাইল অতিবাহন করিয়া রাজসাহী যাইতে হইত। রাজসাহীর উকিলবাবরা একটা কোম্পানী গঠন করিয়া, যাতায়াতের জন্য কতকগুলি অশবযানের ব্যবস্থা করিয়াছিলেন। পাঁচ মাইল অন্তর ঘোড়া বদলের আভা ছিল। নাটোরে নামিয়া, অশবযানে আরোহণ করিয়া যখন রাজসাহী গিয়া পৌছিলাম, বেলা তখন চারিটা, বৈবাহিক-মহাশয় তখনও কাছারী হইতে ফিরেন নাই। তাঁহার পত্রেরা অতি সমাদরে আমার অভ্যর্থনা করিল। হাত-মুখ ধুইয়া, ডাব ও সরবৎ পান করিয়া, বৈঠকখানা-ঘরে আরাম-কেদারায় পড়িয়া আমি বিশ্রাম করিতে লাগিলাম। সাড়ে পাঁচটায় বৈবাহিক-মহাশয় বাড়ী ফিরিলেন। আমি আসিয়াছি শনিয়া কাছারীর বেশেই আমার নিকট আসিয়া বসিলেন। অদ্য প্রভাতে প্রাপ্ত পত্ৰখানি তাঁহাকে দেখাইলাম। পড়িয়া বলিলেন, তিনিও গতকল্য পত্রের নিকট হইতে ঐ ধরণের একখানি চিঠি পাইয়াছেন। বলিলেন, “আচ্ছা ভাই, বোসো তুমি, আমি বাড়ীর ভিতর গিয়ে এই ধড়াচড়াগলো ছেড়ে মখে হাতে একটা জল দিয়ে আসি। অনেক কথা আছে।”—বলিয়া তিনি চলিয়া গেলেন। আন্ধাঘণ্টা পরে তিনি আমায় অন্তঃপুরে ডাকিয়া পাঠাইলেন। তেতলার একটি নিজন কক্ষে বসিয়া তিনি ধুমপান করিতেছিলেন আমি সেইখানে গিয়া বসিলাম L_তিনি &f