পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার হাতে গড়গড়ির নলটি দিয়া বলিলেন, “আমার কি হয়েছে ভাই জানো ? চোরের মা যেন পোয়ের লাগিয়া ফ্রকারি কাঁদিতে নারে। বন্ধবোন্ধব, আত্মীয়স্বজন কাউকে আমার বলবারও উপায় নেই যে, ছেলে আমার সন্তান হয়েছে—গ্রামে গ্রামে সবদেশী মন্ত্র প্রচার করতে বেরিয়েছে। কথাটা প্রকাশ হলেই ক্ৰমে সাহেবদের কাণে গিয়ে উঠবে, তখন আমার চাকরী বজায় রাখাই হবে দায়।” বলিলাম, “এখন কি উপায় হবে বেয়াই-মশাই ? কোথায় সে আছে, জানতে পারলে । লা হয় সেখানে গিয়ে কে’দে কেটে পড়া যায়, তাকে ফিরিয়ে আনবার চেষ্টটা করা যায়।” বেয়াই বলিলেন, “চিঠিখানা ত লিখেছে পাবনা জেলার চন্দ্রপুর পোস্ট আপিস থেকে। অন্ততঃ ছাপ থেকে ঘা বোঝা গেল।” “ছাপ ত আমিও পরীক্ষা করেছিলাম, কালীর ধ্যাবড়া, কিছুই বাবতে পারিনি।” “আমার চিঠিতে ছাপটা অত অস্পষ্টট নয়।—দাঁড়াও, চিঠিখানা বের করি।”—বলিয়া বেয়াই লোহার সিন্দক খালিয়া তাহার মধ্য হইতে চিঠি বাহির করিয়া আমার হাতে দিলেন। পত্র পড়িয়া দেখিলাম, আমার কন্যার পত্রে ষে সব কথা ছিল, সেই সব কথাই আছে, কেবল ভাষার একটা এদিক ওদিক। ছাপ দেখিলাম, কয়েকটা মাত্র অক্ষর পড়া গেল—চন্দ্রপরে হইতে পারে। এই সময় ভূত্য দুই পেয়ালা চা আনিল। বেয়াই এক পেয়ালা আমার হাতে দিয়া ಶ್ಗ “এখন কিছু খাবে, ভাই ? দুই এক টুকরো ফল-টল, দই একটা মিটিষ্টুটাভাট ?” আমি বলিলাম, “না বাই-নশাই,—এই ত ঘণ্টাখানেক আগে জল খেয়েছি । এখন আর কিছ নয়। ছেলের সম্বন্ধে কি উপায় ঠাওরালেন ?” বলিলেন, “মাথা-মন্ড কি আর ঠাওরাব বল ? চন্দ্রপর কোথা, তাও ত জানিনে। কাল ঐ চিঠি পেয়ে, মামাকে পাবনা পাঠিয়ে দিয়েছি। পাবনায় গিয়ে প্রথমে সে খবর নেবে, চন্দ্রপরে কোথা । তারপর চন্দ্রপরে গিয়ে সন্ধান নেবে, সেখান থেকে সেই দল কোথায় গেছে। এই রকম করে যদি তাদের ধরতে পারে।” “এই মামাটি কে ? সেই, যাঁকে কলকাতায় পাঠিয়েছিলেন ? আপনার কি রকম মামা ইনি ?” “দর-সম্পক । সম্বন্ধে মামা হলেও, আমার চেয়ে অন্ততঃ বছর দশেকের ছোট। দেশে থাকতো, অবসথা খারাপ, এখানে আমার কাছে আসে চাকরীর চেষ্টায়। চাকরী বাকরী কিছ জটিয়ে দিতে পারিনি, তবে জজ-আদালতের নকল-সেরেস্তায় বলে দিয়েছি, ঠিকেঠাকা কাজ করে কিছু কিছু উপাজন করে। বাকী সময় টাউটাগরি করে উকীলদের কাছে মক্কেল ধরে নিয়ে যায়, ফীয়ের টাকা থেকে কিছু কিছু কমিশন পায়। লোকটা খুব চালাক চতুর আছে।” “তার কথা কি ছেলে মানবে ?” “ছেলের গভর্ধারিণী অনেক কাঁদাকাটা করে এক চিঠি লিখে দিয়েছেন, সেই চিঠি মামা নিয়ে গেছে। কিন্তু ধরতে পারলে তবে ত!” সকল দিক চিন্তা করিয়া, মামা না ফেরা পয্যন্ত এইখানেই অপেক্ষা করিব স্থির করিলাম। পরদিন সকল কথা বর্ণনা করিয়া বাড়ীতে পত্র লিখিয়া দিলাম । চারিদিন পরে মামা ফিরিয়া আসিলেন। ছেলের দেখা পান নাই, তবে এইমাত্র জানিতে পারিয়াছেন যে, ঐ পত্র লেখার তারিখ হইতে তিন দিন পরে, সেই সবদেশীর দল রেলে উঠিয়া কোথায় চলিয়া গিয়াছে। স্টেশনে গিয়া টিকিট আপিসেও অনুসন্ধান করিয়াছিলেন, কিন্তু কিছুই নির্ণয় করতে পারেন নাই। বৈবাহিক বলিলেন, “যাক আর ভেৰে কি হবে? অদস্টে ষা আছে, তাই হবে। এখন বাবাজী যদি কেবলমাত্র সবদেশী প্রচার করেই ক্ষান্ত হন, তা হলেও রক্ষে। কিন্তু も2〉