পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐ যে লিখেছে 'আদর-ভবিষ্যতে বাড়ী সাচ্চ হওয়া বিচিত্র নয়, এ থেকে ভয় হয়, হয় ত স্বদেশী ডাকাতি-টাকাতি করারও মতলব আছে। - তা হ’লেই ধরাও পড়বেন, আর বছর চার পাঁচ শ্ৰীঘরে বাস। কয়েক স্থানেই ত সবদেশী ডাকাতি হয়ে গেছে—ওঁরা ঐ রকম করেই ত দেশ উদ্ধার করার জন্যে অথৰ্ণ সংগ্রহ করেন কিনা! আজকাল এ সব বিষয়ে গভর্ণমেণ্টের খুব কড়া নজর। মহকুমায় মহকুমায়, থানায় থানায় সাকুলার গেছে।” ক্ষম-মনে বাড়ী ফিরিয়া আসিলাম । - বাবাজী গ্রেপ্তার হইলে সে কথা খবরের কাগজে বাহির হইবে । বাড়ী আসিয়াই তাই কলিকাতার দৈনিক বসমেতী সংবাদপত্রের গ্রাহক হইলাম। কাগজের ঠিকানা প্রভৃতি রাজসাহী হইতেই টনকিয়া আনিয়াছিলাম। দিনের পর দিন কাটিতে লাগিল। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই সবদেশীওয়ালাদের কতৃক খন বা ডাকাতীর সংবাদ বাহির হয়। খানাতল্লাসী, গ্রেপ্তার, বিচার ও কারাদণ্ডের কথার ত বিরাম নাই। খবরের কাগজের মোড়ক খলিবার সময় আমার হাত কাঁপে— খলিয়াই হয় ত দেখিব, খন বা ডাকাতি অপরাধে আমার জামাই গ্রেপ্তার হইয়াছে। মাঘ, ফালগন, চৈত্র কাটিল, বৈশাখ আসিয়া পড়িল। একদিন এক ভীষণ সংবাদ পাঠ করিলাম। মজঃফরপরের উকীল কেনেডি সাহেবের সত্রী ও কন্যা, স্থানীয় জজ কিংসফোর্ড সাহেবের গাড়ীতে রাত্রে ক্লাব হইতে বাড়ী ফিরিতেছিলেন, কে বা কাহারা সে গাড়ীতে বোমা মারিয়া কিংসফোর্ড সাহেব ভ্রমে মেমন্বয়কে হত্যা করিয়া পলাইয়াছে —জোর পলিস-তদন্ত চলিয়াছে। পড়িয়া শরীর শিহরিয়া উঠিল। হা রে ভ্রান্ত নিবোধ পাষণ্ডগণ। এইরুপ মহাপাপ করিয়া তোরা দেশ উদ্ধার কারবি? সেই সত্যযাগ হইতে আজ পর্ষ্যন্ত, পাপের ফল কি কখনও শুভ হইয়াছে, না হইতে পারে ?— পরমহত্তেই মনে হইল, আমার জামাই যদি এই দলে থাকে, তবেই ত সব্বনাশ! ধরা পড়িলে ফাঁসী ত অনিবাষ্য! কাগজখানা আর বাড়ীর ভিতর লইয়া গেলাম না, বৈঠকখানাতেই লুকাইয়া রাখিলাম, কি জানি, যদি সন্ত্রী-কন্যার চোখে পড়ে। ক্ৰমে জানিতে পারলাম, দই জন হত্যাকারী ধত হইয়াছিল, তাহাদের মধ্যে একজন নিজেকে গলি করিয়া আত্মহত্যা করিয়াছে, ক্ষদিরাম বস নামক এক যুবকের, বিচারে ফাঁসীর হুকুম হইয়াছে। ইহার কিছুদিন পরেই কাগজে দেখিলাম, কলিকাতার মরারিপুকুর বাগানে পলিস এক বোমার কারখানা আবিৎকার করিয়াছে, বারীন্দ্রকুমার ঘোষ প্রভৃতি কয়েকজন ষকক এই সম্পকে ধত হইয়াছে, ঐ ব্যাপারে দেশব্যাপী খানাতল্লাসী চলিতেছে, আরও কত লোক ধরা পড়িবে।-ঈশ্বর জানেন, আমার জামাইও সেই দলে ছিলেন কি না। দশ্চিন্তায় আমার আহার-নিদ্রা একরপ বন্ধ হইল। খবরের কাগজ খলিয়া প্রথমেই ধাত-ব্যক্তিদের নামের তালিকা পাঠ করি। সে দলে আমার জামাই ছিল, পলিস যদি ইহা জানিতে পারিয়া থাকে, তবে বৈবাহিকের বাড়ী ত তল্লাস হইবে নিশ্চয়, আমার বাড়ীও হইতে পারে। দরগানাম জপ করিয়া দিনের পর দিন কাটিতে লাগিল। ধত ব্যক্তিদের তালিকায় আমার জামাতার নাম দেখিলাম না, আমার বাড়ীও তল্লাস হইল না । তখন কতকটা সবসিত অনুভব করিলাম। চার দ্বিতীয় পক্ষে আমার বিবাহ মৈমনসিংহ জিলায় হইয়াছিল। টাঙ্গাইল মহকুমার অন্তগত গোবিন্দপুর গ্রামে আমার বশরালয়। আমার বশর কালীচরণ সরকার মহাশয় সেই গ্রামের একজন সম্পন্ন গহস্থ ছিলেন। তিনি তিন পত্র রাখিয়া পরলোক গমন করেন - লণ্ড পর "কু হে বাস বিষয়সম্পত্তি দেখেন, মধ্যম &