পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আশতোষবাব মৈমনসিংহ বারের একজন প্রধান উকীল, কনিষ্ঠ হরেন্দ্রবাব জামালপুর মহকুমার ভারপ্রাপ্ত পলিস ইনপেক্টর। আষাঢ় মাসে আমার মধ্যম শ্যালক আশ্ববাবর নিকট হইতে এক নিমন্ত্রণপত্ৰ পাইলাম —৫ই শ্রাবণ তাঁহার জ্যেষ্ঠা কন্যার শুভ বিবাহ । বিবাহ-কাৰ্য্য পৈতৃক ভিটায় আসিয়া সম্পন্ন করিবেন। সপরিবারে ঘাইবার জন্য আমাকে বিশেষ অনুরোধ করিয়াছেন। সাত আট বৎসর হইল গহিণী পিত্রালয়ে যান নাই সে কারণেও বটে, সকলেরই মন খারাপ, গোলেমালে আনন্দ-উৎসবে কয়েকদিন মনের ভার কিছু লঘু হইবে সে আশাতেও বটে, এ নিমন্ত্রণ রক্ষা করিতে যাওয়াই সিঙ্গর করিলাম। আমার জ্যেষ্ঠ পত্র সদানন্দ, বাল্যকালে একবার মাতুলালয়ে গিয়াছিল, মধ্যম হাব ও কনিষ্ঠ বাদল মামার বাড়ী কখনও দেখে নাই—মীমার বাড়ী যাইবার আনন্দে তিনজনেই নত্য করিতে লাগিল। যথাদিনে আমরা যাত্রা করিলাম।

  • বশরালয়ে পেশছিয়া দেখিলাম, আত্মীয়-স্বজন-কুটবে গহখানি ভরিয়া গিয়াছে। পরদিন বিবাহ হইয়া গেল, তৎপরদিন জামাই-মেয়ে বিদায় করিয়া গহ বিষাদের ছায়ায়

আহারান্তে কনিষ্ঠ শ্যালক হরেন্দ্রবাবরে সহিত কথোপকথন করিতেছিলাম। তিনি বলিতে লাগিলেন, তাঁহার এলাকায় স্বদেশী হাঙ্গামা রুমে বাড়িয়াই চলিয়াছে। বলিলেন, “আমাদের হয়েছে দাদা, শাঁখের করাত। সবদেশীওয়ালারা মনে করে, পলিস তাদের পরম స్ధి| .: গভর্ণমেণ্ট মনে করেন, আমরা তলে তলে সবদেশীওয়ালদের সঙ্গে সহান র।” এই প্রসঙ্গ যখন উঠিল, হরেনকে আমার জামাইয়ের সকল কথাই বললাম। আমরা কিরুপ উদ্বেগে দীশচন্তায় কালযাপন করিতেছি, তাহাও জানাইলাম। হরেন বলিল, “আপনার জামাইয়ের নামটি কি ? সে রাজসাহীর গভর্ণমেন্ট প্লীডারের ছেলে, না ?” - উভয় প্রশেনরই উত্তর দিলাম। হরেন বলিল, “আমার এলাকায় ও নামের কোনও সবদেশীওয়ালা ঘরে বেড়াচ্ছে কি না, থানায় গিয়ে লিটিখানা দেখতে হবে। চারিদিকে পলিসের গোয়েন্দা ঘরে বেড়াচ্ছে, ফি হস্তায় প্রত্যেক থানা থেকে রিপোর্ট আসছে। গড় মেণ্টের একেবারে কড়া হক্কুম।” হরেন মাত্র তিন দিনের ছুটী পাইয়াছিল। আগামী কল্যই তাহাকে ফিরিয়া যাইতে হইবে। বলিল, “দাদা, এক কাজ করন না। বেরিয়েছেন যখন, একটা ভাল করে বেড়িয়ে-চেড়িয়ে নিন না। চলন না জামালপরে। আমার ওখানে হস্তাখানেক থেকে, তার পর বাড়ী যাবেন।” আমি সম্মত হইলাম। বিশেষ, জামালপর মহকুমার লিটিতে আমার জামাইয়ের নাম উঠিয়াছে কি না, তাহাও দেখিতে পাইব। হরেন বলিল, “আমি ত ফিরবো ঘোড়ায়। আপনি দিদিকে নিয়ে, আপনার ছোট শালাজকে নিয়ে নৌকোয় আসনে। ঘরে ঘরে যেতে হবে, পেপছতে দেরী হবে বটে, কিন্তু জলপথে বেশ আনন্দ পাবেন।” এ প্রস্তাবে আমি সক্ষমত হইলাম। পরদিন হরেন প্রস্থান করিল। আশাবাব মৈমনসিং ফিরিয়া গিয়াছিলেন, তাঁর সন্ত্রী, পত্র-কন্যাদির সহিত অবস্থান করিতেছিলেন। মেয়ে অষ্টমঙ্গলার পর ষোড়ে ফিরিয়া আসিলে, জামাই-মেয়ে লইয়া তিনি মৈমনসিংহ যাইবেন। তাঁহার অনুরোধে, আমরা আর দই দিন গোবিন্দপুরের বাটীতে অবস্থান করিলাম। গোবিন্দপুর গ্রাম নন্দিনী নানী একটি ছোট নদীর তীরে অবস্থিত। ঘাটে ভাউলে সব্বাদই পাওয়া যায়; বজরাও দুই శా: কিন্তু যাত্রার দিন বজরা এক