পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আরও বিলম্ব করা উচিত নহে, কলিকাতায় গিয়া, যাহাতে ছেলেকে পাওয়া যায়, সেই চেষ্টা করিতে হইবে। তৎক্ষণাৎ পালকী বেহারা ডাকিতে লোক ছটিল। অন্ধ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত প্রস্তুত। রামসন্দেরের পিতা অসনাত ও অভুক্ত অবস্থাতেই যাত্রা করিতে প্ৰস্তুত হইয়াছিলেন। পাড়ার ভদ্রলোকদের অনুরোধে তাহা আর হইতে পাইল না। হরিবল্লভবাব গৃহদেবতাকে সজলনেত্রে ভক্তিভরে প্রণাম করিয়া কলিকাতা যাত্রা করিলেন। গহিণী বিশেষ করিয়া বলিয়া দিলেন, যদি মা কালী মা দাগার ইচ্ছায় এখনও সে বিলাত না গিয়া থাকে, তবে যেন তাহাকে বাড়ীতে আনা হয়; আর ছাই ইংরাজি পড়িয়া কায নাই, বামনের ছেলে ঠাকুরপজা করিয়া খাইবে। হরিবল্লভবব কলিকাতায় পেশছিয়া রামসন্দেরের বাসা খাজিয়া বাহির করিলেন। দরজায় চারি বন্ধ। পাশে একটি মসলমান দোকানদার ছিল, সে বলিল, ছটিতে সব বাবরাই চলিয়া গিয়াছেন, কেবল একটি বাব ছিলেন, কয়দিন হইতে তাঁহাকেও দেখিতে পাইতেছি না। বন্ধ হরিবল্লভের দই চক্ষ ছল ছল করিতে লাগিল। ছেলে যে বিলাত গিয়াছে, এ বিষয়ে আর তাঁহার কিছমাত্র সন্দেহ রহিল না। এমনটা যে হইবে, তাহা কি তিনি কখনও স্বপ্নেও ভাবিয়াছিলেন ? এত কাল বকের রক্ত দিয়া যাহাকে পোষণ করিয়াছেন, সে তাঁহার এই বন্ধ দশায় বকে শেল মারিয়া বিলাত চলিয়া গেল ? ভাবিলেন—আর কি সে বাঁচিয়া থাকিয়া ফিরিয়া আসিবে ? যদি ফিরিয়া আসে তবে জাতিচাত, সমাজচ্যুত হইয়া আসিবে; তাহাকে আর ঘরে রাখিতে পারিব না-শ্রাধের পর্যন্ত সে অধিকারী থাকিবে না। হয় ত একটা খাটানীকে বিবাহ করিয়া আনিবে;–এমনও ত অনেক লোকে করিয়াছে। সকলই ইংরাজি শিক্ষার দোষ বলিয়া মনে হইতে লাগিল । ভাবিলেন, রামসুন্দর যখন প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীণ হয়, সেই সময় গ্রামের স্কুলে যে মাস্টারিটি যটিয়াছিল, তাহা করিতে দিলে কলিকাতায় আসিয়া কুসঙ্গে পড়িয়া ছেলেটি খারাপ হইত না। বাসার দরজার বাহিরে দই ধারে যে ইন্টক নিমিত দুইটি বসিবার ৮থান আছে, সেইখানে বসিয়া বন্ধ ব্যথিতমনে এই সমস্ত চিন্তা ও অশ্রুপাত করিতে লাগিলেন। ক্ৰমে সন্ধ্যা হইয়া আসিল। তখন উঠিয়া ধীরপদে আশ্রয়ের সন্ধানে বাহির হইলেন। তাঁহার এক বালাসখা জীবনকৃষ্ণবাব হাইকোটে ওকালতী করিতেন বাসা বাগবাজারে, তাঁহারই কাছে যাইবার জন্য প্রস্তুত হইলেন। বন্ধর সঙ্গে বন্ধর অনেককালের পর সাক্ষাৎ হইল। পরপর কুশল প্রশনাদি জিজ্ঞাসার পর, হরিবল্লভবাব নিজের বিপদের কাহিনী আদ্যোপাত বিবত করিলেন। জীবনকৃষ্ণধাব সমস্ত শনিয়া নীরবে কিয়ৎকাল চিন্তা করিলেন। পরে বলিলেন—“আচ্ছা, বিলাত যে গেল, টাকা পাইল কোথায় ?” হরিবল্লভ বললেন—“টাকা কোথায় পাইল, তাহা ত আমিও কিছই বুঝিতে পারিতেছি মা।" জীবনকৃষ্ণবাবু বলিলেন—“বিলাত যাওয়া ত মখের কথা নহে, বিস্তর টাকার প্রয়োজন। তা ছাড়া, সেখানে ত অবশ্য পড়িতে গিয়াছে, সেখানে তাহার খরচ যোগাইবে কে ?”--এই কথাটা শুনিয়া হরিবল্লভবাব যেন কতকটা আশকত হইলেন। তখন তাঁহার মনে হইল, ইহার ভিতর নিশ্চয়ই কিছু গোলযোগ আছে। পকেট হইতে বেনামী চিঠিখানা বাহির করিয়া, জীবনকৃষ্ণবাবর হাতে দিলেন। জীবনকৃষ্ণবাব পত্ৰখানি টেবিলের উপর রাখিয়া, দেরাজ হইতে চশমাটি বাহির করিলেন। যাতিটা একটা উজ্জল করিয়া দিয়া, চশমাটি সাবরের চামড়ায় বেশ করিয়া মছিলেন। ১শমা পরিয়া উকীলোচিত গাভীয্যের সহিত পত্ৰখানি অত্যন্ত সাবধানে পাঠ করিলেন। জিজ্ঞাসা করিলেন—“এ হাতের লেখা কার, তাহা তুমি কিছ আন্দাজ করিতে পার ? অবশ্য বাম হাতের লেখL”—হরিবল্লভবাব “না” উত্তরসচক শিরক্ষালন করিলেন। আরও কিছুক্ষণ গেল। জীবনকৃষ্ণবাব বললেন—“ছেলের বিবাহ দিয়াছিলে এলাহাবাদে না ?” হরিবল্লভবাব বলিলেন—“হাঁ। কেন বল দেখি ?"—জীবনবাব উত্তর করিলেন, “পত্র ^ 3